সচিবালয়ে প্রথম কার্যদিবসে প্রধানমন্ত্রীর ৭ ঘণ্টা অফিস

মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন সরকারের তিন অগ্রাধিকার নির্ধারণ ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা ঠিক করার নির্দেশ

আজাদী ডেস্ক | বৃহস্পতিবার , ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ

দায়িত্ব নেওয়ার পরদিন গতকাল বুধবার কর্মব্যস্ত সময় পার করেছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল বেলা ১২টা ৩১ মিনিটে সচিবালয়ে এসে ৭ ঘণ্টা অফিস শেষে সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে তিনি সচিবালয় থেকে বের হন। এ সময়ের মধ্যে সেখানে অনুষ্ঠিত প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন সরকারের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে তিনটি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে সেগুলো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। অগ্রাধিকার তিনটি হলো দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা।

বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার সহকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। নবনিযুক্ত মন্ত্রিসভার সদস্যরা বৈঠকে অংশ নেন। এসময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং সংশ্লিষ্ট সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠকের মাধ্যমে সচিবালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেন নতুন প্রধানমন্ত্রী।

প্রথম দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা সকালে সাভারে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে বেলা ১২টার দিকে জিয়া উদ্যানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতেও শ্রদ্ধা জানান তিনি। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সচিবালয়ে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সচিবালয়ে মধ্যাহ্নভোজ ও যোহরের নামাজ আদায় করেন; এরপর বিকেল ৩টায় মন্ত্রিসভার বৈঠকে অংশ নেন তিনি। বিকেল ৪টায় সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সচিবালয়ে আসর ও মাগরিবের নামাজ আদায় করেন তারেক রহমান। বৈঠক শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও আলোচনার বিষয়গুলো তুলে ধরেন নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রথা মাফিক সরকারের প্রথম দিনে একটি মন্ত্রিসভার বৈঠক করতে হয়। বৈঠকে মন্ত্রিসভার সব সদস্য বসেছিলেন। বৈঠকে উপদেষ্টারাও ছিলেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীউপদেষ্টাদের কিছু অনুশাসন দিয়েছেন। সরকার ১৮০ দিনের একটি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করছে। সেটি পরে জানানো হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকারের অগ্রাধিকার বিবেচনায় প্রাথমিকভাবে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা ও সরবরাহ ঠিক রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে (গ্যাসবিদ্যুৎ) যেন কোনো সমস্যা না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখা রয়েছে। এগুলো হলো অগ্রাধিকার। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এ মুহূর্তে অগ্রাধিকার হচ্ছে পবিত্র রমজান উপলক্ষে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে মানুষের সহনীয় রাখা এবং বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, বিশেষ করে তারাবিহ ও ইফতারের সময়। মূলত এই তিন বিষয় অগ্রাধিকারে এসেছে। এগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা কর্মপরিকল্পনা দুএক দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরবেন এবং পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সরকারের সব সচিবের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, প্রধানমন্ত্রী সচিবদের বলেছেন জনগণ বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী রায় দিয়েছেন। সুতরাং সংবিধান ও আইনবিধি অনুযায়ী ওই নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের জন্য সচিবেরা আন্তরিক হবেন, সেই আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সবাইকে আমরা বলেছি, কে, কার কী অ্যাফিলিয়েশন (সম্পৃক্ততা) আছে, সেটি আমরা দেখব না। আমরা মেধার ভিত্তিতে সবাইকে যাচাই করব।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তার দলের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশ পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে দিকনির্দেশনা দেন। এর আগে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পৌঁছালে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার তারেক রহমানকে স্বাগত জানান।

প্রসঙ্গত, আগেরদিন মঙ্গলবার তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেন। বুধবার তারা সচিবালয়ে অফিস করতে আসেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপ্রধানমন্ত্রী নিজের গাড়িতেই চলাফেরা করবেন
পরবর্তী নিবন্ধরক্তঝরা ভাষা আন্দোলন বাঙালির প্রেরণার উৎস