সচল করা হলো মাতামুহুরী নদীর দুই রাবার ড্যাম

চলতি শুষ্ক মৌসুমে মিঠা পানির সুবিধায় নিশ্চিত হবে ৬০ হাজার একর জমির চাষাবাদ

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া | শনিবার , ৩ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৫:১৯ পূর্বাহ্ণ

চলতি শুষ্ক মৌসুমে মিঠা পানির সুবিধা নিয়ে রবি শস্যের চাষাবাদ নিশ্চিত করতে ফোলানো হয়েছে পার্বত্য অববাহিকার মাতামুহুরী নদীতে নির্মিত চকরিয়ার দুটি রাবার ড্যামের রাবার ব্যাগ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন নদীর বাঘগুজারা ও পালাকাটারামপুর পয়েন্টের ড্যাম দুটির রাবার ব্যাগের ভেতর পানি ভর্তির পর তা সচল করা হয়। এতে উজান থেকে নেমে আসা মিঠা পানি আটকা পড়ে নদীতে টইটম্বুর হতে দেখা যায়।

কৃষকেরা জানিয়েছেন, এরই মধ্য দিয়ে চলতি শুষ্ক মৌসুমে নদীর মিঠা পানির সুবিধা নিয়ে চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার প্রায় ৬০ হাজার একর জমিতে রবিশস্যের আবাদ নির্বিঘ্নে নিশ্চিত করা হবে। এতে বোরো ধান ও রকমারি সবজির চাষাবাদ নিয়ে কেটে গেছে স্থানীয় কৃষকদের উদ্বেগ ও আতঙ্ক।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়১৯৭৩ সালে তৎকালীন সরকার চকরিয়া উপজেলাকে সবুজ বিপ্লবের আওতায় আনতে মিঠাপানির উৎস ধরে রাখার লক্ষ্যে সর্বপ্রথম মাতামুহুরী নদীর দুই পয়েন্টে অস্থায়ী ভিত্তিতে ক্রসবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের বিপরীতে প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে নদীর বাঘগুজারা ও রামপুরপালাকাটা পয়েন্টে অস্থায়ী মাটির বাঁধ তৈরি করে মিঠাপানি আটকে অবিভক্ত চকরিয়া (পেকুয়াসহ) উপজেলার প্রায় ৬০ হাজার একর জমিতে চাষাবাদ নিশ্চিত করে আসছিল। যা ২০০৭ সাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। পাউবোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৯৭৩ সালের পর থেকে প্রতিবছর অস্থায়ী ক্রসবাঁধ নির্মাণে অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেওয়ায় নদীর দুই পয়েন্টেই স্থায়ীভাবে রাবার ড্যাম স্থাপনের উদ্যোগ নেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। এরই আলোকে ২০০৯ সালে মাতামুহুরী সেচ প্রকল্পের (২য় পর্যায়) আওতায় প্রায় ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড মাতামুহুরী নদীর ওই দুই পয়েন্টে স্থায়ীভাবে পৃথক রাবার ড্যাম নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করে। এরপর থেকে প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে রাবার ড্যাম ফোলানোর মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের মিঠা পানির সেচ সুবিধা দিয়ে আসছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের চকরিয়া উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত শাখা কর্মকর্তা উপসহকারী প্রকৌশলী (এসও) মো. আতিকুর রহমান বলেন, পলি জমে নদীর তলদেশে চাপা পড়া মাতামুহুরী নদীর রাবার ড্যাম দুটির রাবার ব্যাগ ঠিকাদারের মাধ্যমে পানি ভর্তি করে ফোলানো সম্পন্ন হওয়ার পর তা সচল করা হয়েছে। এতে ড্যাম দুটির পূর্বাংশে মিঠা পানি আটকা পড়ে টইটম্বুর হওয়ায় কৃষকেরা চলতি শুষ্ক মৌসুমে নির্বিঘ্নে তাদের জমিতে রবিশস্যের চাষাবাদ করতে পারবে। এ ব্যাপারে চকরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার শাহনাজ ফেরদৌসী বলেন, যথাসময়ে রাবার ড্যাম দুটি ফুলানো সম্ভব হওয়ায় চলতি মৌসুমে চাষাবাদে মিঠাপানির সেচ সুবিধা নিয়ে কৃষকদের শঙ্কা কেটে গেছে। ফলে সেচ পাম্পের (স্কিম) মাধ্যমে দুই উপজেলার অন্তত ৬০ হাজার একর জমিতে নিরবচ্ছিন্নভাবে চাষাবাদ করতে পারবে লক্ষাধিক কৃষক।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, পলিমাটি চাপা পড়ে অচল হয়ে পড়া রাবার ড্যামটি দুটি পরিদর্শনের পর অতি দ্রুত সচল করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম বলেন, মাতামুহুরী নদীর ওপর ড্যাম দুটি স্থায়ীভাবে নির্মাণ করা হয়। কিন্তু প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুম শুরুর আগে ও পরে ড্যাম দুটি সচল ও অচল করতে গিয়ে ব্যাগের রাবার ও জয়েন্টের ক্ষতি হয়। তাই এই অবস্থা থেকে রাবার ড্যাম দুটিকে সুরক্ষিত রাখার জন্য নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলামের ভাষ্যচট্টগ্রামের পটিয়ার শ্রীমাই খালে নির্মিত আধুনিক প্রযুক্তির হাইড্রোলিক অ্যালিভেটর ড্যামের আদলে মাতামুহুরী নদীর দুই রাবার ড্যামের অবকাঠামো বদলানো হবে। এজন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এ নিয়ে প্রস্তাব প্রেরণ করা হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপ্রশাসন বিএনপির দিকে ঝুঁকে পড়েছে
পরবর্তী নিবন্ধমীরসরাইয়ে পৃথক অভিযানে৭৮ হাজার টাকা জরিমানা