বেসরকারি ফ্লাইট অপারেটর ইউএস–বাংলার আন্তর্জাতিক এবং ডোমেস্টিক সব ফ্লাইট ঘণ্টার পর ঘণ্টা পেছানো হচ্ছে। গত বেশ কিছুদিন ধরে ফ্লাইট সিডিউলে বিপর্যয় চলছে। এতে করে যাত্রীদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। মানসিক এবং আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন অনেক যাত্রী। এজন্য আবহাওয়া পরিস্থিতিকে দায়ী করেছেন কর্তৃপক্ষ। তারা বলছেন, কুয়াশার জন্য সকালে আমাদেরকে যে ধাক্কা সামলাতে হয় তার ধকল বিকাল পর্যন্ত থাকে। রাতেও আবহাওয়া ঠিক না থাকলে তার কারণে সব এলোমেলো হয়ে যায়।
সূত্রে জানা যায়, দেশের সবচেয়ে বড় বেসরকারি ফ্লাইট অপারেটর ইউএস–বাংলা। বেসরকারি এই কোম্পানি বাংলাদেশ বিমানের চেয়ে বেশি রুটে ফ্লাইট অপারেট করে। ইউএস–বাংলা বর্তমানে ঢাকাকে হাব করে বরিশাল, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, যশোর, রাজশাহী, সৈয়দপুর ও সিলেটে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা করে। এছাড়া চীনের গুয়াংজু, ভারতের চেন্নাই, কলকাতা, মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর, মালদ্বীপের মালে, ওমানের মাস্কাট, কাতারের দোহা, সৌদি আরবের জেদ্দা ও রিয়াদ, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি, শারজাহ ও দুবাইয়ে ফ্লাইট অপারেট করে। এই কোম্পানির বড়, মাঝারি এবং ছোট মিলে মোট ১৮টি এয়ারক্রাফট রয়েছে। এর মধ্যে এয়ারবাস এ৩৩০–৩০০ রয়েছে তিনটি। এগুলো প্রতিটি ৪৩৬ জন যাত্রী পরিবহন করে। বোয়িং ৭৩৭–৮০০ রয়েছে ৫টি। এগুলোর প্রতিটি ১৮৯ জন যাত্রী পরিবহন করতে পারে। এআরটি ৭২–৬০০ রয়েছে ১০টি। এগুলো ৭০ থেকে ৭৮ জন যাত্রী পরিবহন করতে পারে। ছোট এয়ারক্রাফটগুলো অভ্যন্তরীণ রুটে এবং মাঝারি ও বড় এয়ারক্রাফট আন্তর্জাতিক রুটে পরিচালনা করে। কিন্তু সবকিছু ঠিক থাকলেও ফ্লাইট সিডিউলের বিপর্যয়ে যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে। তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
চট্টগ্রামের একজন যাত্রী বলেন, সকাল ৯টার ফ্লাইটে আমার ঢাকা যাওয়ার কথা ছিল। বিমানবন্দরে পৌঁছার একটু আগে জানতে পারি, ফ্লাইটটি বিকাল ৪টায় রিসিডিউল করা হয়েছে। অথচ সকাল ১১টায় ঢাকায় আমার উচ্চ পর্যায়ের একটি কাজ ছিল। পরে বাধ্য হয়ে ইউএস–বাংলার ফ্লাইট ক্যান্সেল করে চড়াদামে অপর একটি কোম্পানির টিকেট নিয়ে ঢাকায় যেতে হয়েছে।
আরেকজন যাত্রী বলেন, বিকালে দুবাই যাওয়ার ফ্লাইট ছিল। সেটিকে ভোররাত ৪টায় নেয়া হয়েছে। অথচ দুবাইয়ে হোটেল ভাড়া থেকে শুরু করে টেঙি পর্যন্ত সবকিছু অনলাইনে করে রেখেছিলাম। আমার একটি দিন নষ্ট হলো।
সিডিউল বিপর্যয়ের কথা স্বীকার করে ইউএস–বাংলার শীর্ষ একজন কর্মকর্তা গতকাল বলেন, খুবই বাজে অবস্থা। পরিস্থিতির জন্য আবহাওয়াকে দায়ী করে তিনি বলেন, সকালে কুয়াশার যে ধাক্কা সামলাতে হয় সেটিই আমাদেরকে সারাদিন বেহাল রাখে। আমাদের ফ্লাইট বেশি, রুট বেশি, তাই সমস্যাও বেশি হচ্ছে। তিনি বলেন, সময় ঠিক রাখতে না পারলেও সবগুলো এয়ারক্রাফট ঠিকভাবে চলাচল করছে। আমাদের ফ্লাইট ডিলে হচ্ছে, তবে ক্যান্সেল হচ্ছে না। আমরা যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেয়ার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করে থাকি।












