নগরীর বন্দর এলাকার ব্যারিস্টার কলেজ কাঁচা বাজার মাঠ প্রাঙ্গণে চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে ‘বিজু, সাংগ্রাইং, বৈসু, বিষু, বিহু ও চাংক্রান উৎসব–২০২৬’ উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। উদযাপন কমিটির আয়োজনে তিন দিনব্যাপী এ উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক দীপব চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ড. আনন্দ বিকাশ চাকমা, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ আজিজ, ইপিজেড থানার ওসি তারিকুল ইসলাম, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউর রহমান জিয়া, কোতোয়ালী থানা যুবদলের আহ্বায়ক নুরু হোসেন নুরু এবং মেয়রের জলাবদ্ধতা বিষয়ক উপদেষ্টা শাহরিয়ার খালেদ।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ একটি বহু ভাষা, বহু সংস্কৃতি ও বহু জাতিসত্তার দেশ হলেও আমাদের সবার একটি অভিন্ন পরিচয়–আমরা বাংলাদেশি। এই পরিচয়ই আমাদের ঐক্যবদ্ধ রাখে এবং পারস্পরিক সহাবস্থানের শক্তি জোগায়। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, নাগরিক পরিচয় ও জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি গড়ে তুলতে তার ভূমিকা ছিল অনন্য। তিনি যে দর্শন দিয়ে গেছেন ভাষা, সংস্কৃতি বা নৃতাত্ত্বিক পরিচয় যাই হোক না কেন, আমরা সবাই বাংলাদেশি সেই চেতনা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
মেয়র বলেন, নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের সমান অধিকার রয়েছে এবং সেই অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে সচেতন হতে হবে। তিনি আশ্বস্ত করেন, এই অধিকার রক্ষায় সিটি কর্পোরেশন সবসময় জনগণের পাশে থাকবে। ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ এবং সেই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামেও একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নৃতাত্ত্বিক পরিচয়, ধর্ম, বর্ণ বা ভাষা নির্বিশেষে সকলেই এই নগরের সমান নাগরিক। সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব। তিনি বলেন, এই শহরে বসবাসকারী প্রত্যেক মানুষ যেন নিরাপদে থাকতে পারে–এটি নিশ্চিত করাই আমার দায়িত্ব। কোনো সমস্যা হলে আমার দরজা আপনাদের জন্য সবসময় খোলা।
মেয়র বলেন, চট্টগ্রামকে একটি সত্যিকারের নিরাপদ নগর হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সকল সমপ্রদায়ের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সমপ্রীতি বজায় রাখা জরুরি। এই লক্ষ্যেই তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এই আয়োজনের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির চমৎকার প্রকাশ ঘটেছে, যা নতুন প্রজন্মের মধ্যেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।














