সংহতি জানিয়ে এবার আরব আমিরাত, ওমানকে চিঠি প্রধানমন্ত্রীর

| শুক্রবার , ৩ এপ্রিল, ২০২৬ at ৫:২১ পূর্বাহ্ণ

ইরানের পাল্টা হামলার প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় দেশগুলোকে সংহতি জানিয়ে বিশেষ দূতের মাধ্যমে চিঠি পাঠাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান; কাতারের পর এবার সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানের সরকারপ্রধানের কাছে গেল তার চিঠি। গত বুধবার আরব আমিরাত ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ওই চিঠি হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব চিঠি পাঠানোর তথ্য দিয়ে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ সফর করছেন, যার লক্ষ্য সংশ্লিষ্ট দেশের নেতৃত্বের কাছে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং এ অঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা আরও সুদৃঢ় করা। খবর বিডিনিউজের।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। ওই হামলায় চার দেশে অন্তত ছয়জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় উপসাগরীয় দেশগুলোর বিভিন্ন স্থাপনা আক্রান্ত হওয়ার মধ্যে ইরান দাবি করে আসছে, শুধু ওই দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটি এবং স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করছে তারা।

ইরানে হামলা, পাল্টা হামলার প্রেক্ষাপটে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দুই দফায় যে বিবৃতি দিয়েছে, সেটা ঢাকার আগের অবস্থানের বিপরীত। এর আগে ইরানে প্রায় সব ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় বিবৃতি দিয়ে নিন্দা জানাত বাংলাদেশ। পহেলা মার্চ দেওয়া প্রথম বিবৃতিতে ইরানে যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত হামলার কোনো নিন্দা জানায়নি ঢাকা। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর কথাও বিবৃতিতে ছিল না।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে যে নিন্দা ঢাকা জানিয়েছে, তাতে সাতটি দেশের নাম থাকলেও বাদ রাখা হয় ইরানকে। বাংলাদেশ সরকারের ওই বিবৃতি যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্সসহ যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ এবং মধ্যপ্রাচ্যের আক্রান্ত দেশগুলোর সঙ্গে মেলে।

সরকারের ওই বিবৃতি নিয়ে সমালোচনার মধ্যে পরদিন আরেক বিবৃতিতে আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুতে মর্মাহত হওয়ার কথা বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে টার্গেটেড হামলায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটানোর কথা বলা হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নাম নেয়নি ঢাকা।

কূটনৈতিক উপায়ে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ সরকার বলে আসছে, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থই ঢাকার অগ্রাধিকার।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ১০ মাস পর পলাতক ছেলে স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার
পরবর্তী নিবন্ধসদরঘাটে নোঙর করা ট্যাংকারে মিলল ৩৭ হাজার লিটার ডিজেল