কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বলেছেন, বোধন সম্মেলন শুধু কারো একার সম্মেলন নয়, এটি সকল সাংস্কৃতিক সংগঠনকে একত্রিত করার একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বোধন দীর্ঘদিন ধরে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে সংস্কৃতির সুস্থ বিকাশ ঘটাতে কাজ করে যাচ্ছে। বোধনের হাত ধরে আমাদের নতুন প্রজন্ম সামাজিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম নিয়ে মানুষকে আলোকিত করবে। সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল তৈরিতে বোধনের সবচাইতে উচ্চতার জায়গা এটি। আমি সারাদেশে বোধনের কথা জানাব, তারা যে উদ্দেশে কাজ করে যাচ্ছে তা আমি জানাতে চাই। গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দিনব্যাপী বোধন আবৃত্তি পরিষদের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে উদ্বোধকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘জাগিয়ে দেরে চমক মেরে আছে যারা অর্ধচেতন’ শিরোনামে সম্মেলন উৎসর্গ করা হয় বোধনের প্রয়াত প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অ্যাডভোকেট রবিশংকর চক্রবর্তী, উপদেষ্টা মফিজুর রহমান, প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মৃণাল সরকার, সভাপতি ও অধ্যক্ষ রণজিৎ রক্ষিত এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পঞ্চানন চৌধুরীকে। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন এবং বোধনের পতাকা উত্তোলন করেন বোধন সভাপতি আবদুল হালিম দোভাষ।
এরপর সম্মেলন উদ্বোধন ঘোষণা করেন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। উদ্বোধনের পর বোধন সদস্যরা বৃন্দ আবৃত্তি ‘জাগিয়ে দেরে চমক মেরে’ পরিবেশন করে। উদ্বোধনের পর বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বোধন সভাপতি আব্দুল হালিম দোভাষ এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক প্রণব চৌধুরী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, ভাষাবিজ্ঞানী ড. মাহবুবুল হক। তিনি বলেন, বোধন চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা সংগঠন। আবৃত্তিকাররা তাদের দৃঢ় কন্ঠে আমাদের সোচ্চার করেন, এক্ষেত্রে বোধন অগ্রগামী। এতে অতিথি ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মানজারুল মান্নান এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমি চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম বাবু প্রমুখ।
শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইউনুস, বীর মুক্তিযোদ্ধা পীযুষ বিশ্বাস, বিশ্বজিৎ দাস ভুলু, নাট্যজন প্রদীপ দেওয়ানজী, কবি বিশ্বজিৎ চৌধুরী, কবি কামরুল হাসান বাদল, উদীচী, চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক শীলা দাশগুপ্তা, নাট্যকার সুচরিত দাশ খোকন, কবিতাশ্রম ঢাকার সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম সবুজ এবং লায়ন জাহাঙ্গীর মিয়া। অনুষ্ঠানে শিশু বিভাগের বৃন্দ আবৃত্তি ‘ছড়ানো ছিটানো ছড়া’ এবং বড়দের বিভাগের বৃন্দ আবৃত্তি ‘শিকলভাঙার গান’ পরিবেশিত হয়। বোধন সদস্যদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। বিকালে কাউন্সিল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সম্মেলনের আহ্বায়ক সুদীপ বড়ুয়া খোকন।
সম্মেলনের সদস্য সচিব পিউ সরকারের সঞ্চালনায় অধিবেশনে গত তিন বছরের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক প্রণব চৌধুরী। বক্তব্য দেন, পারভেজ চৌধুরী, আবদুল হালিম দোভাষ, সাইফুল আলম বাবু, প্রশান্ত চক্রবর্তী। কাউন্সিলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক রীতা দত্ত। সহকারী নির্বাচনী কমিশনারের দায়িত্বে ছিলেন পিনাকী দাশ ও সাইফুল আলম বাবু। এতে আবদুল হালিম দোভাষ সভাপতি ও প্রণব চৌধুরী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।












