বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৬–এ আবৃত্তিকে স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রীকে চট্টগ্রাম–১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান ডিও (আধা সরকারি পত্র) লেটার দেওয়ার পরদিন অধ্যাদেশটি চূড়ান্তভাবে পাস হয়েছে। এই সংশোধনীর মাধ্যমে একাডেমির বিভাগসমূহের তালিকায় আবৃত্তিকে অন্তর্ভুক্ত করে নতুনভাবে ‘আবৃত্তি, নৃত্য ও অন্যান্য পারফর্মিং আর্টস’ বিভাগ গঠন করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বাঙালি সংস্কৃতি ও শুদ্ধ ভাষা চর্চার অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ ‘আবৃত্তি’ রাষ্ট্রীয় কাঠামোর পূর্ণাঙ্গ স্বীকৃতি লাভ করল।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার আবৃত্তিকে স্বতন্ত্র মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানিয়ে সমপ্রতি সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বরাবর আধা–সরকারি পত্র দেন সাঈদ আল নোমান। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট মহলও বিষয়টি নিয়ে তৎপর ছিলেন। ফলে বিষয়টি আমলে নেয় মন্ত্রণালয়। সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার জাতীয় সংসদে ‘বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ পাস হয়।
এ বিষয়ে সাঈদ আল নোমান আজাদীকে বলেন, আবৃত্তির কারণে জীবনের দৃষ্টিভঙ্গিতে বহু উৎকর্ষতা আসে, যা ব্যক্তিজীবনকে ছাপিয়ে সমগ্র জাতির সহজাত চিন্তাশীলতায় গুণগত প্রভাব ও পরিবর্তন আনয়ন করে। নজরুল, রবীন্দ্রনাথ তথা কবিতা, সাহিত্য–আর সে অর্থে আবৃত্তিকে বাদ দিয়ে আমাদের সংস্কৃতিই যেন অসম্পূর্ণ। তাই যে দ্রুততার সাথে আমার লিখিত অনুরোধে চিফ হুইপ এবং সংস্কৃতিমন্ত্রী সাড়া দিয়ে আবৃত্তিকে একটি স্বতন্ত্র একাডেমিক বিভাগের অংশ হিসেবে সন্নিবেশিত করলেন, সেজন্য আমি আর আমার মতো লক্ষ লক্ষ সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ আজ কৃতজ্ঞ।
এর আগে বৃহস্পতিবার দেওয়া আধা–সরকারি পত্রে সাঈদ আল নোমান উল্লেখ করেন, নতুন অধ্যাদেশে শিল্পকলার বিভাগের সংখ্যা ৬ থেকে বাড়িয়ে ৯ করা হলেও সেখানে আবৃত্তিকে স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বিষয়টিকে তিনি দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ধারাকে অবমূল্যায়নের শামিল। চিঠিতে আবৃত্তিকে স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এটি বাস্তবায়ন করা হলে দেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল আরও সমৃদ্ধ হবে এবং আবৃত্তি শিল্পীরা তাদের কাজের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাবেন।
জানা গেছে, সাঈদ আল নোমান চিফ হুইপ সাথেও কথা বলেছেন এবং শিল্পকলা একাডেমি অধ্যাদেশে আবৃত্তি বিভাগ অন্তর্ভুক্ত করার যৌক্তিকতা ও দাবি তুলে ধরেন। একইসাথে দেশের শিল্প মাধ্যমগুলোর জনপ্রিয়তার বাস্তবতা বিবেচনায়, অধ্যাদেশে স্বতন্ত্র আবৃত্তি বিভাগ যুক্ত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে গতকাল ‘বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ পাসের মাধ্যমে আবৃত্তিশিল্প নিয়ে সারা দেশে চলমান দীর্ঘ আন্দোলনের সফল অবসান হলো। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলাদেশ আবৃত্তিশিল্প রক্ষা কণ্ঠ’সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী ও আবৃত্তিপ্রেমীরা দীর্ঘদিন ধরে আবৃত্তিকে শিল্পকলা একাডেমির স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গত ২৪ মার্চ চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সংস্কৃতি মন্ত্রীর নিকট এবং পরবর্তীতে ঢাকায় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
সংশোধিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী, শিল্পকলা একাডেমির পূর্বের ৬টি বিভাগকে এখন ৯টিতে উন্নীত করা হয়েছে। এরমধ্যে আগে থাকা ‘নৃত্য ও অন্যান্য পারফর্মিং আর্টস’ বিভাগটি পরিমার্জন করে নতুনভাবে ‘আবৃত্তি, নৃত্য ও অন্যান্য পারফর্মিং আর্টস’ বিভাগ করা হয়েছে। এই আইনি স্বীকৃতির ফলে এখন থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আবৃত্তিশিল্পীদের মূল্যায়ন এবং এই শিল্পের প্রসারে প্রয়োজনীয় বাজেট ও কাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত হবে।
আবৃত্তিশিল্পী নাজমুল আলম সাদেকি আজাদীকে বলেন, সংসদে বিলটি পাস হওয়ার পর সারাদেশের আবৃত্তিশিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। ‘বাংলাদেশ আবৃত্তিশিল্প রক্ষা কণ্ঠ’র পক্ষ থেকে সরকারকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।














