এনসিপির মূখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশ থেকে তাঁড়াতে সফল হয়েছিলাম। এখন আরেকটি সেই দিন হিসেবে ১২ ফেব্রুয়ারি আমাদের সামনে আছে। এই দিনটির জন্য আমরা ১৭ বছর প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু এখন আমাদেরকে আর রক্ত দিতে হবেনা, আমাদেরকে শুধু সিল দিতে হবে এবং একটি সিলের মাধ্যমেই আমরা সমস্ত শহীদদের রক্তের মাধ্যমে যা অর্জন করেছিলাম তা রক্ষা করতে পারবো।
সংস্কার নিয়ে ‘একটি দলের আওয়াজ’ বন্ধ হয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেছেন এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। গতকাল সোমবার বোয়ালখালী উপজেলার ফুলতলা এলাকায় এনসিপির নির্বাচনি পথসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। কোনো দলের নাম না নিয়ে তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দল বিগত ১৭ বছর সংস্কার সংস্কার বলে আসছে। কিন্তু যখন সংষ্কারের সময় এসেছে, তাদের আওয়াজ বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আরেক গুরুত্বপূর্ণ ক্রান্তিকাল এসে উপস্থিত হয়েছে। দিনটি বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষের। আমরা হাসিনাকে বাংলাদেশ থেকে তাড়াতে সফল হয়েছিলাম। আবারও সেরকম একটি দিন হিসেবে ১২ ফেব্রুয়ারি আমাদের সামনে আছে। সে দিনটির জন্য আমরা ১৭ বছর প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু এখন আমাদের রক্ত দিতে হবে না, সিল দিতে হবে।
জুলাই আন্দোলনের নেতা আসিফ ভূঁইয়া বলেন, আমরা দেখছি পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তি এবং যারা নতুন করে ফ্যাসিবাদী শক্তি হয়ে উঠতে চায়, গণভোটে না ভোট দিতে তাদের মধ্যে এক ধরনের ঐক্য গড়ে উঠেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের মাধ্যমে তাদের সেই ঐক্য নস্যাৎ করে দেব। কোনো দলের নাম না নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক এ উপদেষ্টা বলেন, ৫ আগস্টের আগে ১৭ বছর যেভাবে এদেশের মানুষকে অত্যাচার, নিপীড়ন, গুম–খুন ও জেলখানায় অত্যাচার করা হয়েছে, তার একটা ডেমো আমরা গত ১৬ মাসে দেখেছি। আমরা দেখেছি ১৭ বছরের অত্যাচারের নতুন রূপ হাজির হয়েছে। আমরা দেখেছি গ্রাম ও শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ জায়গা পর্যন্ত কীভাবে চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসের রাজত্ব কয়েম হয়েছে। আমরা চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের যদি আর না দেখতে চাই, তাহলে আমাদেরকে এবার রাজপথে নয়, ব্যালটে বিপ্লব করতে হবে। এসময় তিনি জোবাইরুল হাসান আরিফ ও বান্দরবানের প্রার্থী সুজাউদ্দিনের হাত ধরে তাদের সবার সামনে পরিচয় করিয়ে দেন। কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব মনিরা শারমিনের সঞ্চালনায় এসময় বক্তব্য দেন, সাগুপ্তা মিসমা বুশরা, কেন্দ্রীয় যুব শক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শরিকুল হক, দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক বদরুল হক, চট্টগ্রাম ৮ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মো. জোবাইরুল হাসান আরিফ ও বান্দরবান ৩০০ নং আসনের প্রার্থী সুজাউদ্দিন প্রমূখ।
লোহাগাড়া : লোহাগাড়া প্রতিনিধি জানান, এনসিপি মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেছেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে যারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, তারা কেবল কোনো ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার জন্য নয়। একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেই আত্মত্যাগ করেছেন। গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে নির্বাচনী পদযাত্রা শুরুর আগে লোহাগাড়া উপজেলার দর্জিপাড়ায় শহীদ ইশমামুল হকের কবর জিয়ারত শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় সাথে ছিলেন জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম, এনসিপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুজা উদ্দিন ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক মো. জোবাইরুল হাসান আরিফ প্রমুখ। নেতৃবৃন্দ লোহাগাড়া উপজেলায় পৌঁছালে তাঁদেরকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন এনসিপির লোহাগাড়া উপজেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী জহির উদ্দিন।












