জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হবে কি না, তা নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা হতে পারে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন। বিরোধী দলের তরফেও বলা হয়েছে, তারা বিষয়টি সংসদে তুলবে।
গতকাল শনিবার সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদের প্রবেশমুখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রশ্নটি কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে নয়, সংসদের অধিবেশনেই আলোচনায় আসতে পারে। তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়ে আলোচনা ফ্লোরে (সংসদ অধিবেশনে) হতে পারে। এখানে না (কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে)। সংসদের মুলতবি অধিবেশন আজ রোববার আবার বসছে। আর আগে বিরোধী জোটের তরফে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার দাবি উঠেছে। খবর বিডিনিউজের।
গতকাল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি জোটের সংবাদ সম্মেলনে জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকার যদি আগামীকালকের মধ্যে সংবিধান পরিষদের অধিবেশন ডাকার ব্যবস্থা না করে, যদি আগামীকালের মধ্যে অধিবেশন ডাকার উদ্যোগ গ্রহণ করা না হয়, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথের আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আযাদ বলেন, শিগগিরই জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক ডেকে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট হয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে এই গণভোটের রায় কার্যকরের দাবি করে আসছে জামায়াত। দীর্ঘ এক বছরের আলোচনা, সংলাপ ও তর্কবিতর্কের পর রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগগুলো নিয়ে জাতীয় সনদ চূড়ান্ত করা হয়, যা স্বাক্ষর হয় গত বছরের ১৭ অক্টোবর। তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, তা নিয়ে দলগুলোর মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দেয়। এরপর গত বছর ১৩ নভেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট আয়োজনের সময় দিয়ে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করা হয়। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীরা ১৭ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। সেদিন জামায়াত জোটের নির্বাচিতরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেন। কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদ সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত নেই তুলে ধরে বিএনপির নির্বাচিতরা এ শপথ থেকে বিরত থাকেন।
সংবিধান সংস্কার বিষয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে বিএনপির অবস্থান সংসদেই জানানো হবে। তিনি বলেন, বিএনপি কী ভাবছে সংসদে বলব। সংসদ সমস্ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। অন্যদিকে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় বিরোধী দল তাদের অবস্থান তুলে ধরবে। সরকারের অবস্থান অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা হবে তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার দলের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা করণীয় ঠিক করব। আমরা চাইব এ সংসদ যত দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদে রূপ নেয়।
এদিন কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক হয়েছে, সেখানে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ৫০ ঘণ্টা আলোচনার সময় নির্ধারণসহ বিভিন্ন বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে। বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ১৫ তারিখ সংসদ বসার পর ১৬ তারিখ থেকে মুলতবি হবে। এরপর ২৯ মার্চ আবার সংসদ বসবে এবং এপ্রিলের ৩০ পর্যন্ত চলবে। তিনি বলেন, কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে মূলত অধিবেশনের সময়সূচি, আলোচ্য বিষয়, আইন উত্থাপন এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশগুলো সংসদে তোলার প্রক্রিয়া নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব অধ্যাদেশ পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিশেষ কমিটির উদ্দেশ্য হলো মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠনের আগে ঐতিহ্য অনুযায়ী বিশেষ কমিটি গঠিত হয়। অধ্যাদেশগুলো বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হবে। সেখানে যাচাই–বাছাই করে রিপোর্ট আকারে সংসদে উত্থাপন করা হবে।












