শ্রুতিঅঙ্গনের ১৫তম বর্ষের নিয়মিত শাস্ত্রীয়–উপশাস্ত্রীয় সংগীতানুষ্ঠান আয়োজনের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় চট্টগ্রামের থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে রবীঠাকুরের ১৬৫তম ও জাতীয় কবি কাজী নজরুলের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রবীন্দ্র–নজরুল সংগীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পার্থ প্রতিম মহাজন ও প্রণিতা দেবের সঞ্চালনায় উদ্বোধকের বক্তব্যে খ্যাতিমান রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী ও শিক্ষক শীলা মোমেন বলেন, খেয়াল, ধ্রুপদী, রাগপ্রধান, প্রেম, পুজা, প্রকৃতি, দেশাত্মবোধক, নারী জাগরণ, বিদ্রোহী, আধুনিক, ভাটিয়ালি, বিভিন্ন অঙ্গের রবীন্দ্রনাথ প্রায় ২০০০ এর উপরে এবং নজরুল প্রায় ৩৫০০ এর উপরে গান রচনা করেছেন। রবীন্দ্র সংগীত হচ্ছে কথাপ্রধান ভাব বুঝে পরিবেশন করতে হয় আর নজরুলের গানেও ভাব সুরের বৈচিত্র্যতা বেশি লক্ষ্য করা যায়। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন শ্রুতিঅঙ্গনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও প্রশিক্ষক শিল্পী লিটন দাশ। শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন, মিঠু কুমার দাশ, মো রফিকুল ইসলাম, শ্যামল বিশ্বাস। আলোচক চুয়েটের স্থপতি ও পরিকল্পনাবিদ কানু কুমার দাশ বলেন, সংগীত স্থাপত্যবিদ্যার সাথে জড়িত, স্থাপত্যশৈলী নির্মাণে আমাদেরকে সংগীতের সহযোগিতাও নিতে হয়। প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও ইংরেজি বিভাগের প্রফেসর ড. সুকান্ত ভট্টাচার্য বলেন, আকাশ সংস্কৃতির যুগে নতুন প্রজন্মদের অনলাইন ও পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রতি আসক্তি কমিয়ে রবীন্দ্র–নজরুলের গান, কবিতা, উপন্যাস, গল্পের প্রতি আসক্তি বাড়াতে পারলে বর্তমান সমাজের মব সংস্কৃতি, নৈতিক ও চারিত্রিক যে অবক্ষয় তা থেকে উত্তরণ হতে সহযোগিতা করবে। সভাপতি সুজিত ভট্টাচার্য দোলন সংগঠনের কর্মকাণ্ডে বিভিন্ন সদস্যদের অবদানের কথা তুলে ধরেন। এরপর সকল অতিথিবৃন্দ মঙ্গলদ্বীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে ও শ্রুতিঅঙ্গনের শিল্পীদের সমবেত ৬টি নজরুল সংগীত চঞ্চল শ্যামল এলো গগনে– মিয়াকি মল্লার–ত্রিতাল, অম্বরে মেঘ মৃদঙ্গ বাজে– তেওড়া, দাও ধৈর্য্য দাও শৈর্য্য হে উদার নাথ– দাদরা, ভুলি কেমনে আজো যে মনে– তালফেরতা –কাহার্বা দ্রুত– দাদরা, মোরা এক বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু মুসলমান– কাহার্বা, কারার ঐ লোহ কপাট– দ্রুত দাদরা, পরিবেশনার মাধ্যমে ২য় পর্বের শুভ সূচনা করা হয়। সমবেত রবীন্দ্রসংগীত, প্রথম আদি তব ও ফিরে ফিরে ডাক দেখিরে পরিবেশন করেন, সুরতীর্থের শিল্পীবৃন্দ সংগীত পরিচালনায় ছিলেন, শিল্পী শান্তা গুহ। ৬ একক রবীন্দ্র– নজরুল সংগীত পরিবেশন করেন, মোর প্রিয়া হবে এসো রানী– নয়ন মহাজন– দাদরা, যে অংগুলিতে রং গুলিয়াছো – পুষ্পিতা দে–দাদরা, একি অসিম পিয়াসা– পাপড়ি দাশ–ত্রিতাল– তিলং মিশ্র সই ভালো করে বিনোদ বিনি– পুষ্পিতা শীল, মোর প্রথম মনের মুকুল –ত্রিতাল– পুষ্পিতা বড়ুয়া, তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয়–দাদরা – রাতুল মল্লিক, সখী সে হরি কেমন বল–একক বাঁশী বাদন– প্রভাষক রাহুল সরকার, আজো কাঁদে কাননে কোয়েলিয়া–মনস্বিতা চৌধুরী–কেদার–হাম্বির– ত্রিতাল, তোমারেই আমি চাহিয়াছি প্রিয়–নিলয় দত্ত–দাদরা, জগতের নাথ কর পার– কৃষ্ণ নাথ– ভৈরবী–ভজন– কাহার্বা, পিয়া স্বপনে এসো নিরজনে– প্রণিতা দেব– রাগ পিলু ঠুমরী– দাদরা, পিয়ু পিয়ু বিরহী পাপিয়া বোলে– নিপা দত্ত–দেশ–ত্রিতাল একি সুরে তুমি গান শোনালে–অর্পিতা শীল–মিশ্র ভৈরবী– দাদরা, আমার সাম্পান যাত্রী না লয় ভাঙ্গা আমার তরী–অম্লান নন্দী, আনন্দধারা বহিছে ভূবনে –রবীন্দ্র – সৃজিতা দে মালকোষ –ত্রিতাল, প্রথম প্রদীপ জ্বালো–পটদীপ– আদ্দা ত্রিতাল–সুরেও বানী মালা দিয়ে – নজরুল–পিলু – ড. অনিমেশ চক্রবর্তী আমার নয়নে নয়ন রাখিয়া– বিনয় দাশ, ছাড়িয়া যেও না আর –নজরুল– কেন আসিলে ভালবাসিলে–নজরুল–জয়া দত্ত, অন্তরে তুমি আছো চিরদিন– চন্দ্রিকা দাশ, সখী আমি না হয় মান করেছিনু– অর্পিতা গুপ্তা গীটারে রবীন্দ্র– নজরুলের গানে যন্ত্রসংগীত পরিবেশন করেন, গীটার হল স্কুল অফ মিউজিক এর শিক্ষকবৃন্দ, পরিচালনায়ঃ ইফতেখার খান ইকা, দলীয় নৃত্য পরিবেশনায় ছিলেন, ওডিশি ও টেগর ডান্স মুভমেন্ট পরিচালানায়: শিল্পী প্রমা অবন্তী ও সুরাঙ্গনের সংগীত বিদ্যাপীঠ ডান্স একাডেমির ছাত্রছাত্রীবৃন্দ পরিচালনায়, হিল্লোল দাশ সুমন।
যন্ত্রাংশে ছিলেন: তবলায়: রিপন দাশ, তিষাণ ঘোষ, শ্রিয়ম দে, কিবোর্ডে: রুমেন শীল, অক্টোপ্যাডে: নন্দন নন্দীও সুমন দাশগুপ্ত, গীটারে: সূচয়ন দে, বেসগীটারে: গৌরব বড়ুয়া। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।












