আধুনিক মানব সভ্যতার ইতিহাসে বর্বরতম হত্যাযজ্ঞের চরম কলঙ্কময় এক নজিরবিহীন যন্ত্রণাকাতর দিন ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। এই দিনে পরাজিত অশুভশক্তির কূট চক্রান্তের শিকার হয়েছিলেন বিশ্বের নিপীড়িত–নিষ্পেষিত–বঞ্চিত–গণমানুষের অবিসংবাদিত আকাশচুম্বী জনপ্রিয় কিংবদন্তী নেতা মহাকালের মহানায়ক সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যে নেতার জন্ম না হলে বাঙালি জাতিসত্তা বিকশিত হওয়ার নির্ভার ক্ষেত্র রুদ্ধ হয়ে যেত এবং স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় অসম্ভব ছিল; বঙ্গমাতা ও ‘বঙ্গশিশু’ শেখ রাসেলসহ তাঁকে প্রায় সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে পর্যুদস্ত করার নীলনকশার বাস্তবায়নই ছিল ঘাতকদের কদর্য উদ্দেশ্য।
প্রকৃতপক্ষে বঙ্গবন্ধুর আত্মত্যাগের মহিমা এত বেশি গৌরবোজ্জ্বল তা কখনো বিস্মৃত হওয়ার নয়। বিশ্বনন্দিত মহানায়কদের কীর্তিগাঁথায় বঙ্গবন্ধু অতি উঁচুমার্গের মর্যাদায় সমাসীন আছেন ও থাকবেন। প্রাসঙ্গিকতায় বিশ্বখ্যাত শিল্পী, দার্শনিক ও সাংবাদিক অঁন্দ্রে মারলো’র চেতনার অন্তর্নিহিত ধারণা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেছিলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ঘাতকের হাতে শাহাদাত বরণ করলেও মুজিব–গান্ধী. গান্ধী–নেহেরু, নেহেরু–শার্ল দ্য গল প্রমূখ ঐতিহাসিক বিজয়ীদের মাঙ্গলিক মিছিলে অবিনশ্বর কালজয়ী বৈতরণী নির্মাণ করেছেন।’ বঙ্গবন্ধুর শ্রেষ্ঠত্বের অনন্য নান্দনিক দৃষ্টান্ত হলো; এই ধরিত্রীর বুকে ব–দ্বীপ খ্যাত বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের শুধু স্বপ্নদ্রষ্টাই ছিলেন না; অসাধারণ ব্যক্তিত্বের সম্মোহনে ধর্ম–বর্ণ–দলমত–ধনী–দরিদ্র্য নির্বিশেষে পুরো বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে হাজার বছরের বাঙালি জাতির আরাধ্য স্বপ্নকে দৃশ্যমান রূপদানে তিনি পরিপূর্ণ সার্থক হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে প্রতিষ্ঠার জন্য কোনো অপকৌশল অবলম্বন বা অশুভ পন্থায় শক্তি প্রয়োগের যেমন প্রয়োজন পড়ে না; তেমনি তাঁর অনবদ্য জীবন প্রবাহের গৌরবদীপ্ত পাঠোদ্ধার মানদণ্ডে অরুন্তুদ প্রচ্ছদ ধূসর–অমলিন করা একান্তই অসম্ভব।
প্রখ্যাত সাংবাদিক আবেদ খান রচিত ‘সিআইএ, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড ও মার্কিন দূতাবাস’ নিবন্ধ সূত্রে জানা যায়, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট তৈরি করতে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি, দেশীয় ভয়ঙ্কর পশুতুল্য দোসরদের ব্যবহার করে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে ঢাহা মিথ্যা–গালগল্প ও গুজব ছড়ানো, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির ক্রীড়নক হিসেবে রাজনৈতিক অস্থিরতা–নৈরাজ্য সৃষ্টির কুৎসিত কর্মকাণ্ড সম্পর্কে দেশবাসী সম্যক অবগত। তিনি দাবি করেছেন, সিআইএ’র উদ্যোগে তৈরি হয়েছিল বঙ্গবন্ধু হত্যার ব্লুপ্রিন্ট ও গঠিত হয়েছিল প্ল্যানিং সেল। মার্কিন দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কূটনীতিকদের সঙ্গে নভেম্বর ১৯৭৪ – জানুয়ারি ১৯৭৫ সময়কালে বঙ্গবন্ধু হত্যাযজ্ঞে জড়িত ঘাতকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ও দফায় দফায় মিটিং এই নগ্ন ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে নিকৃষ্টতম ভূমিকা পালন করে। মার্কিন গোয়েন্দাচক্র এই বিভৎস হত্যাযজ্ঞের সাথে কিভাবে কতখানি যুক্ত ছিল; মার্কিন সাংবাদিক লরেন্স লিফশুলজ ‘বাংলাদেশ : দ্যা আনফিনিশড রেভ্যুলেশন’ গ্রন্থে বিশদ চিত্রিত করেছেন। নিউইয়র্কের ‘দ্যা নেশন’ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক কাই বার্ড ও তাঁর যৌথ সমীক্ষায় তাঁরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, বঙ্গবন্ধু হত্যায় আমেরিকার নিন্দিত কুচক্র ছিল অত্যধিক সক্রিয়। এই খ্যাতিমান সাংবাদিক বাংলাদেশের কারা মার্কিন সিআইএ’র মূখ্য এজেন্ট হিসেবে নিয়োজিত ছিল তাদের নামও উল্লেখ করেছেন। অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ঘটনা হচ্ছে; ঢাকার মার্কিন দূতাবাস ১৫ আগস্টের তিন দিন আগেই তালিকা বহির্ভূত ছুটির দিন ঘোষণা করে এটাই প্রমাণ করেছে; তারা এই হত্যাযজ্ঞের সাথে নিবিড়–ওৎপ্রোতভাবে জড়িত এবং দিনক্ষণ সর্ম্পকেও পুরোপুরি অবহিত ছিল। বাঙালির জীবনে সৌভাগ্যের বিষয় হচ্ছে– সকল চক্রান্ত–অপচেষ্টাকে নস্যাৎ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঘাতকদের বিচার ও বিচারের রায় বহুলাংশে কার্যকর করা সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্য যে, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন থেকে ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট পর্যন্ত ভয়াবহ এই পরিকল্পনার পিছনে জড়িত–চিহ্নিত পৃষ্ঠপোষক–কুশীলব, প্রত্যক্ষ–পরোক্ষ সহায়তাদানকারী সকলের মুখোশ সুস্পষ্ট হলেও তাদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় নি। সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে দল–নীতি–বচন–আচরণ পরিবর্তনে পারদর্শী ও পারঙ্গম এসব বর্ণচোরা–অনুপ্রবেশকারীদের অসহনীয় পদচারণা, নোংরা সমর্থন ও উলঙ্গ আস্ফালন কুখ্যাত সেনা–স্বৈরশাসনকে পাকাপোক্ত করতে সাহস যুগিয়েছে। অবৈধ–অনৈতিক সুযোগ–সুবিধাভোগী এসব ছদ্মবেশী ব্যক্তিরা সরকারি–বেসরকারি–শিক্ষা–উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান–সংস্থার সর্বত্রই অসৎ আর্থিক বিনিময়–লবিং–তদবির বাণিজ্যের কদাচার–পাপাচার–প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয়–প্রশ্রয়ে অতিমাত্রায় পরিপুষ্ট। স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রবিরোধী এই অপাংক্তেয় পশুতুল্য চরিত্রগুলো সর্বোচ্চ পদ–পদায়ন–পদবী দখলে অতিশয় সমাদৃত বলে দেশজুড়ে বিপুল জনশ্রুতি রয়েছে।
বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে চলমান সরকার, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর অবিনাশী আদর্শিক চেতনায় অবিচল বিশ্বাসী–ত্যাগী–পরক্ষিত লড়াকু সৈনিকদের অবমূল্যায়ন–চরিত্রহরণ–অসত্য অপপ্রচারে কোনঠাসা করে দেশবিরোধী সকল ষড়যন্ত্র–চক্রান্তের সাথে উল্লেখিত কূটিল দানবদের সম্পৃক্ততা–সংশ্লিষ্টতা–যোগসাজস রয়েছে বলে সমগ্র দেশবাসীর বদ্ধমূল ধারণা। অনতিবিলম্বে নির্লোভ–নির্মোহ–সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গ্রহণযোগ্য বস্তুনিষ্ঠ বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে এদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা দেশের আপামর গণমানুষের জোরালো দাবিতে পরিণত হয়েছে। এখনই সামগ্রিক প্রস্তুতি গ্রহণ করে বিচার কার্য সম্পন্ন করা না হলে ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে আমরা দায়বদ্ধ হয়ে থাকব– নির্দ্বিধায় তা বলা যায়।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বামী ও বঙ্গবন্ধুর প্রিয় জামাতা বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার ভাষায়, ১৯৭৫ সালর ২৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে বক্তব্য প্রদানকালে দেশের স্বাধীনতা বিরোধী ডানতত্ত্ববাদী সাম্প্রদায়িক ও ধর্মান্ধ মৌলবাদী নিষিদ্ধ দলগুলোর কার্যকলাপ উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু বলেন, “তাদের ক্ষমা করে দিয়েছিলাম আমরা যা কোন দেশে করে নাই। কোন দেশের ইতিহাসে নেই – পড়েন দুনিয়ার ইতিহাস। বিপ্লবের পর বিপ্লবকে বাধা দিয়েছে যারা, শত্রুর সঙ্গে সহযোগিতা করেছে যারা, তাদের কোন দেশে, কোন যুগে ক্ষমা করে নাই। কিন্তু আমরা করেছিলাম – এদের সবাইকে ক্ষমা করেছিলাম। তখন বলেছিলাম, দেশকে ভালোবাসুন, দেশের জন্য কাজ করুন, দেশের স্বাধীনতাকে গ্রহণ করে নিন, থাকুন। কিন্তু তাদের অনেকের পরিবর্তন হয় নাই। তারা এখনও গোপনে বিদেশিদের কাছ থেকে পয়সা এনে বাংলার স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।” সাম্প্রতিক কালে অন্ধকারের পূজারী এসব পিশাচদের কূকীর্তির প্রভাবে দেশব্যাপী বিরাজিত রাজনৈতিক পরিবেশ বিবেচনায় এর অব্যাহত ধারা জাতির জন্য সত্যিই পীড়াদায়ক।
বঙ্গবন্ধুর কন্ঠে উচ্চারিত বিষয়সমূহ বিশ্লেষণে অত্যন্ত প্রায়োগিক বার্তা হচ্ছে দেশ এখনও পরাজিত শত্রুমুক্ত নয়। এখনও প্রতিনিয়ত দেশকে অস্থিতিশীল করে বিরূপ পরিস্থিতি তৈরিতে যথাসাধ্য অপচেষ্টায় লিপ্ত ব্যক্তিরা অতি সক্রিয় বলে গণমাধ্যম–লোকমুখ সূত্রে নিত্যনৈমিত্তক প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। সুপ্রীম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি প্রয়াত মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান’র মতানুসারে, “বাংলাদেশ বহু মত ও পথে বহুধাবিভক্ত এক দেশ। যারা বায়ান্নতে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করতে চাইতেন না, যারা ছয়–দফাকে দেশদ্রোহিতার নামান্তর মনে করতেন, যারা অস্ত্রের ভাষায় তার জবাব দিতে চাইতেন, যারা ‘পূর্ব পাকিস্তান’ নামের পরিবর্তে ‘বাংলাদেশ’ রাখার প্রস্তাবে ঘোরতোর আপত্তি করতেন এবং যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে পাকিস্তানের সঙ্গে সহযোগিতা করেন, তাদের উত্তরসূরিরা দেশের এক উল্লেখযোগ্য অংশ।………এই বিরোধিতা পরস্পরবিরোধিতার মধ্যে বাংলাদেশকে পাকিস্তানের অঙ্গীভূত করার বা বাংলাদেশকে ভারতের প্রদেশ বানানোর মতো সব দারুণ অভিযোগ উত্থাপিত হচ্ছে। নজরুল ইসলাম জয় বাংলার কথা বললেও আমরা আজ জয় বাংলার মধ্যে জয় হিন্দ এবং বাংলাদেশ জিন্দাবাদের মধ্যে পাকিস্তান জিন্দাবাদের প্রতিধব্বনি শুনতে পাই।”
বাংলা সাহিত্যে সব্যসাচী লেখক অন্নদাশঙ্কর রায় ‘কাঁদো, প্রিয় দেশ’ নিবন্ধে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বর্বরতম ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক উপস্থাপনে বলেছিলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার উপরে লেখা বিখ্যাত উপন্যাসের নাম, “ক্রাই, দ্য বিলাভেড কান্ট্রি” তারই অনুসরণে এই প্রবন্ধের নাম, “কাঁদো, প্রিয় দেশ।” এ কাঁদন অন্তরের স্বতঃস্ফূর্ত ক্রন্দন। একে রোধ করতে পারি এমন সাধ্য আমার নেই। নীরব ক্রন্দনই সংযমের লক্ষণ, তবু সংযত পুরুষও ডাক ছেড়ে কাঁদে, এক একটা ঘটনা এমন নিদারুণ। স্বাভাবিক মৃত্যু হলেও কাঁদতুম, কিন্তু রুদ্ধকন্ঠে।’ তিনি ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালের এই হত্যাকাণ্ডকে ‘ক্রাইম এগেনস্ট হিউমানিটি’ এবং ধারাবাহিকতায় ২ নভেম্বর মধ্যরাত্রির পর বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত বিশ্বস্ত সহকর্মী শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ–শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম–শহীদ মনসুর আলী–শহীদ কামরুজ্জামান হত্যাকাণ্ডকে ‘ক্রাইম অফ দ্য সেঞ্চুরি’ আখ্যায়িত করেছেন। মূলত ১৫ আগস্টের প্রবাহিত এই ক্রন্দন বিদ্যুৎ গতিতে বিশ্বের সকল মানবিক মানুষের অন্তরের রক্তক্ষরণ ও গভীর অনুরণন কখনো নিঃশেষ হওয়ার নয়। যারা মনে করেছিল সপরিবারে বঙ্গবন্ধু শাহাদাৎ বরণের পর বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ স্তব্ধ হয়ে যাবে। বাংলাদেশ সমূলে মুখ থুবড়ে পড়বে।
প্রাগ্রসরের পরিবর্তে চরম অনগ্রসরতার আচ্ছাদনে স্বাধীন বাংলাদেশ বিশ্বপরিমণ্ডলে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হবে। কিন্তু অমিয় সত্য হলো, চলমান সময়ে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি–টুঙ্গিপাড়া–বনানী কবরস্থান বিশ্ববাসীর হৃদয়ে নিরন্তর ত্যাগ–শোক–জেগে উঠার সদাদীপ্ত পুণ্যতীর্থে সুপ্রতিষ্ঠিত। যতদিন এই বিশ্বে একজনও নৈতিক–সৎ–মনুষ্যত্ব–মানবিকতায় অত্যুজ্জ্বল মানুষের অস্তিত্ব থাকবে ততদিন চৌহদ্দিবিহীন উদার আকাশের মতো মৃত্যুঞ্জয়ী বঙ্গবন্ধু সৌবর্ণ বিচয়নে প্রক্ষাপিত থাকবেন – এই আস্থা ও বিশ্বাসের উপর ভর করেই আগামীর বাংলাদেশ বিশ্বকে পথ দেখাবে।
লেখক : শিক্ষাবিদ, সাবেক উপাচার্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।












