‘শৈশব থেকে পরিণতি, স্বপ্ন থেকে সাধনা’

শিল্পকলা একাডেমিতে স্বরলিপির এক যুগ পূর্তি উদযাপন

| শুক্রবার , ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৮:০১ পূর্বাহ্ণ

বেলুন উড়িয়ে ও জাতীয় সংগীতের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে গত বুধবার চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে যেন রাত নামেনি। বিকেল চারটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত সময় থেমে ছিল সুরে, আলোয় ও মানুষের মুখে ছড়িয়ে থাকা গল্পে। এই গল্প কোনো একক আয়োজনের নয়এটি স্বরলিপি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক যুগের যাত্রা নয়, বরং চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক জীবনের এক পরিণত অধ্যায়ের উদযাপন। ভেতরের মিলনায়তনে গাম্ভীর্যপূর্ণ উদ্বোধনী পর্বে কোরআন তেলাওয়াত, জাতীয় সংগীত ও এক মিনিট নীরবতায় স্মরণ করা হয় ইতিহাস ও আত্মত্যাগকে। এরপর থিম সংয়ের ভিজ্যুয়াল পরিবেশনা মুহূর্তেই চোখের সামনে এনে দাঁড় করায় স্বরলিপির এক যুগের পথচলাশৈশব থেকে পরিণতি, স্বপ্ন থেকে সাধনা।

শেখানো হয় গান, শেখানো হয় শোনা ‘যুগোকথন’ পর্বে উঠে আসে স্বরলিপির দর্শন। এখানে গান শেখানো হয় ঠিকই, তবে তার চেয়েও বড় কথা শেখানো হয় শোনা, অপেক্ষা করা ও নিজের জায়গা বোঝা। এখানে তাল কেবল মাত্রা নয়, শৃঙ্খলার অনুশীলন; সুর কেবল রাগ নয়, অন্যের কণ্ঠকে সম্মান করার শিক্ষা। নীরব সাধনায় যে পথচলা শুরু হয়েছিল, তা আজ পরিণত হয়েছে দৃঢ় অবস্থানে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞ ওস্তাদ ক্যাপ্টেন আজিজুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি ছিলেন আমিরুল ইসলাম, উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) জসিম উদ্দীন জনি, শিল্পোদ্যোক্তা রিয়াজ ওয়ায়েজ ও সামশুল হায়দার তুষার। সুশৃঙ্খল ও আধুনিক উপস্থাপনায় অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সেলিম আকতার পায়েল ও নুসরাত শরমীন সুমি। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল ‘সুরেলা নামি’ শীর্ষক স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন। এতে স্বরলিপির এক যুগের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক দায়বদ্ধতা দলিলবদ্ধ হয়েছে।

সম্মাননা পর্বে সম্মানিত হন নাট্য অভিনেতা মুকিত জাকারিয়া, সংগীতশিল্পী সন্দীপন দাদা, চলচ্চিত্র অভিনেতা পংকজ, লোকশিল্পী মানস পাল চৌধুরী, যন্ত্রশিল্পী মদন মোহন ঘোষ, মরমি শিল্পী আহম্মদ নুর আমেরীসহ সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রের গুণীজন। উদ্বোধক আব্দুল মান্নান রানা বলেন, স্বরলিপি একটি সাংস্কৃতিক অভ্যাস। এখানে শিল্প শেখানো হয় মানবিকতার ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে। প্রধান অতিথি ওস্তাদ ক্যাপ্টেন আজিজুল ইসলাম বলেন, সংস্কৃতি তখনই শক্তিশালী হয়, যখন তা মানুষ গড়ার দায়িত্ব নেয়। স্বরলিপি সেই কাজটিই করছে। এই এক যুগ পূর্তি কোনো সমাপ্তি নয়; এটি আরও সচেতনভাবে এগিয়ে চলার অঙ্গীকার। স্বরলিপি সাংস্কৃতিক অঙ্গন প্রমাণ করেছে সংস্কৃতি বিলাস নয়, এটি মানুষের ন্যূনতম আত্মিক প্রয়োজন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচিটাগাং সংবাদপত্র হকার্স সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা
পরবর্তী নিবন্ধপতেঙ্গায় অসুস্থ বিএনপি কর্মীর শয্যাপাশে আমীর খসরু