শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় নির্বাচনী উত্তাপ বান্দরবানে

বান্দরবান প্রতিনিধি | শনিবার , ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৬:১২ পূর্বাহ্ণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেষ মুহুর্তে বান্দরবানে জমে উঠেছে প্রচার প্রচারণা। প্রার্থীরা ছুটে বেড়াচ্ছেন দূরদুরান্তে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। পাহাড়, বন ও নদীবেষ্টিত পর্যটন নগরী বান্দরবান জেলায় বহু জনগোষ্ঠীর মানুষের ঐতিহ্য সংস্কৃতি ও এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের কারণে সমপ্রীতির পাহাড়ী জনপদ হিসেবে পরিচিত। এখানে মারমা, চাকমা, ম্রো, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, বম, খুমি, লুসাই, খেয়াং, পাংখোয়া, চাক ও বাঙালিসহ ১৪টি জাতিগোষ্ঠীর বসবাস। তবে জোটবদ্ধ বহিরাগত প্রার্থী ঘোষণায় বান্দরবান ৩০০নং সংসদীয় আসনে নির্বাচনী হাওয়া অনেকটাই বদলে গেছে। ভোটারদের মধ্যে নির্বাচনী আমেজে ভাটা দেখা যাচ্ছে।

এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বান্দরবান৩০০ সংসদীয় আসনে লড়ছেন চারজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী। এরা হলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীকের রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে শাপলা কলি প্রতীকে আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দিন, জাতীয় পার্টি (কাদের) থেকে লাঙ্গল প্রতীকে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু জাফর মো. ওয়ালীউল্লাহ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীকে মাওলানা মো. আবুল কালাম আজাদ। প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপির সাচিং প্রু জেরী ছাড়া অন্য তিনজনই প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। জাতীয় পার্টি এবং জামায়াতএনসিপি জোট প্রার্থী দুজনেই বান্দরবান জেলার বাসিন্দা এবং ভোটারও নন; যা ভোটারদের মধ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে।

স্থানীয় ভোটারদের মতে, প্রচারপ্রচারণায় তুলনামূলক ভাবে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপি প্রার্থী সাচিং প্রু জেরী ও এনসিপি প্রার্থী আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দিন। তবে জাতীয় পার্টি (কাদের) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রচারপ্রচারণা সাধারণ ভোটারদের চোখে ততটা দৃশ্যমান নয়। তবে সমপ্রীতির জেলা হিসেবে পরিচিত বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের ভোটারদের প্রত্যাশা একটাই, যে দলই ক্ষমতায় আসুক, পাহাড়ের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেয়া এবং এই অঞ্চলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগব্যবস্থা, সমঅধিকার নিশ্চিতকরণ, পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব পর্যটন গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্ব দিবেন।

নতুন তরুণ ভোটার জেসিকা পেন্তেরা, ফারজানা উর্মী, থুইচা মং বলেন, দেশের বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্যের লীলাভূমি হলো বান্দরবান। এখানে পরিকল্পিত উন্নয়ন এবং সামপ্রদায়িক সমপ্রীতি অটুট রাখতে সম্মিলিত আত্মসামাজিক উন্নয়নে বাস্তবতার নিরীক্ষায় উন্নয়ন প্রকল্পগুলো হাতে নিতে হবে। পর্যটন শিল্প এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। যে ব্যক্তি এই অঞ্চলের মানুষের স্পন্দন বুঝতে সক্ষম তাকেই ভোট দিব।

বিএনপি প্রার্থী রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী বলেন, জেলার প্রতিটি উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারে তিনি ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন। সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি পৌঁছানোর লক্ষ্যেই তিনি নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপি বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে পিছিয়ে পড়া পাহাড়ি অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। জাতীয় নাগরিক পার্টির শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দিন বলেন, ভোটাররা এখন বিকল্প নেতৃত্ব ও বাস্তবসম্মত পরিবর্তনের দিকে তাকিয়ে আছে। তরুণদের নিয়ে বান্দরবানে অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে যা বিগত সরকারগুলো বাস্তবায়ন করতে পারেনি। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, খেলাধুলার আয়োজন এবং বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে তরুণদের সম্পৃক্ত করা গেলে পরিবার ও দেশের অগ্রগতি স্বাভাবিকভাবেই নিশ্চিত হবে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমাদের লক্ষ্য দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ও সমঅধিকার নিশ্চিত করা। দুর্গম এলাকায় প্রচার কিছুটা চ্যালেঞ্জ হলেও শেষ পর্যন্ত সব এলাকা কাভার করার চেষ্টা করছি।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু জাফর মোহাম্মদ ওয়ালীউল্লাহ বলেন, বান্দরবানের সবচেয়ে বড় সমস্যা যোগাযোগ ব্যবস্থা। এটিকে বিশ্বমানের পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন।

প্রসঙ্গত: বান্দরবান আসনে মোট ভোটার সংখ্যা হলো ৩ লাখ ১৫ হাজার ৪২২জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬১ হাজার ৭৭৫জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৪৭জন। এবার নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন ৭ হাজার ৪৬৯জন। জেলার সাতটি উপজেলা, দুটি পৌরসভা ও ৩৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১৮৬টি। এরমধ্যে ১৫৮টি টি ভোটকেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরাঙ্গুনিয়ায় জামায়াত কর্মীর ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ
পরবর্তী নিবন্ধচীনের বিরুদ্ধে গোপন পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের