বিপিএলের রংপুর–রাজশাহীর ম্যাচটি গতকাল বৃহস্পতিবার গড়াচ্ছিল নিরুত্তাপ পরিণতির দিকেই। কিন্তু ম্যাচের শেষ দিকে হঠাৎই উত্তেজনা ছড়াল। শেষ ওভারে জমে উঠল নাটক। বারবার রঙ পাল্টাল দু’দলের লড়াইয়ের। রংপুর রাইডার্সের মুঠো থেকে ছুটে গেল জয়। আর পরাজয়ের দুয়ার থেকে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচ ‘টাই’ করার পর, সুপার ওভারে জিতল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। মূল ম্যাচে শেষ ওভার ও সুপার ওভারে দারুণ বোলিংয়ে রাজশাহীর নায়ক বনে গেলেন পেসার রিপন মন্ডল।
গতকাল রংপুরের শেষ ওভারে দরকার ছিল ৭ রান, শেষ ১ বলে ১। নতুন ব্যাটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ছিলেন স্ট্রাইকে। কিন্তু রিপন মণ্ডলের বল মিডঅনে ঠেলে এক নিতে গেলে রানআউট হন মাহমুদউল্লাহ। ম্যাচ হয় রুদ্ধশ্বাস এক টাই। এরপর সুপার ওভারে তানজিদ তামিমের ব্যাটে রংপুর রাইডার্সকে হারায় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।
প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১৫৯ রান তুলেছিল রাজশাহী। জবাবে ৬ উইকেটে ১৫৯ রানেই থামে রংপুর। রংপুরের হয়ে সুপার ওভারে ব্যাট করতে নামেন কাইল মায়ার্স আর তাওহিদ হৃদয়। বোলার ছিলেন রিপন মণ্ডল। মায়ার্স এক রান করে হন বোল্ড। ক্রিজে আসেন খুশদিল শাহ। কেউই বাউন্ডারি হাঁকাতে পারেননি। ফলে ২ উইকেটে ৬ রান তোলে রংপুর। রাজশাহীর সুপার ওভারে প্রথম দুই ব্যাটার ছিলেন সাহিবজাদা ফারহান আর তানজিদ তামিম। বোলার মোস্তাফিজুর রহমান। প্রথম বলেই বাউন্ডারি হাঁকান তামিম, পরের বলে দুই। তৃতীয় বলে আরেকটি বাউন্ডারি তামিমের। জিতে যায় রাজশাহী।
সিলেট স্টেডিয়ামে ১৬০ রান তাড়ায় শুরুতে লিটন দাসকে (১১ বলে ১৬) হারালেও ডেভিড মালান আর তাওহিদ হৃদয় দ্বিতীয় উইকেটে ৭২ বলে ১০০ রানের জুটিতে জয় হাতের নাগালে নিয়ে আসেন। ৩৫ বলে ফিফটি হাঁকান হৃদয়। ৩৯ বলে ৭ বাউন্ডারিতে ৫৩ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন এই ব্যাটার। এরপর কাইল মায়ার্স ৮ বলে ৯, খুশদিল শাহ ৭ বলে ৭ আর নুরুল হাসান সোহান ৪ বলে ৬ রান করে আউট হলে জমে উঠে ম্যাচ। ৫০ বলে ৬ বাউন্ডারি আর ২ ছক্কায় ৬৩ রানে অপরাজিত থাকেন মালান। রিপন মণ্ডল আর এসএম মেহরব নেন দুটি করে উইকেট। এর আগে, বিপিএলে অবশেষে ফর্মে ফিরলেন সাহিবজাদা ফারহান। তার সঙ্গে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর জুটিতে ভর করে ৮ উইকেটে ১৫৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করালো রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।
সিলেটে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই তানজিদ হাসান তামিমকে (২) হারায় রাজশাহী। তবে দ্বিতীয় উইকেটে ফারহান আর শান্ত মিলে ৬৩ বলে গড়েন ৯৩ রানের জুটি। শান্তর রানআউটে ভাঙে এই জুটি। ৩০ বলে ৪১ রানের ইনিংসে ৫ বাউন্ডারি আর একটি ছক্কা হাঁকান শান্ত। ফারহান ফেরেন ৪৬ বলে ৮ বাউন্ডারি আর ২ ছক্কায় ৬৫ করে। বিপিএলে এটি তার প্রথম ফিফটি। এরপরের ব্যাটাররা আর তেমন বড় অবদান রাখতে পারেননি। শেষদিকে ১ ছক্কায় ৪ বলে ৮ রান করেন তানজিম হাসান সাকিব। ফাহিম আশরাফ ৪৩ রান খরচায় নেন ৩ উইকেট। আলিস আল ইসলামের মাত্র ১৬ রানে পান ২ উইকেট। মোস্তাফিজুর রহমানের শিকার একটি।












