শেষ বিকালে মিরাজ তাইজুলের ঝলক

প্রথম দিনে ৬ উইকেটে ভারতের সংগ্রহ ২৭৮ রান

ক্রীড়া প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার , ১৫ ডিসেম্বর, ২০২২ at ৬:২৭ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিনের তিন সেশন তিনভাবেই কেটেছে বাংলাদেশের জন্য। প্রথম সেশনটা একেবারেই স্বাগতিকদের। তবে দ্বিতীয় সেশনে দারুণ প্রতিরোধ ভারতের। আর শেষ সেশনের শেষ বেলায় আবার ঝলক। আর তাতে প্রথম দিন শেষে খুব বেশি স্বস্তিতে বাংলাদেশ তেমনটি বলা যাবে না। কারণ ভারত ৬ উইকেট হারালেও তুলে ফেলেছে ২৭৮ রান। তবে সেটা আরো কম হতে পারতো। যদি একাধিক ক্যাচ মিস না করতেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। অথচ দিনের প্রথম সেশনে ৪৮ রানে ৩ উইকেট নেই ভারতের। চতুর্থ উইকেটটি পড়ে ১১২ রানে। ৪ উইকেট পড়ার পর দিনটা বাংলাদেশের বোলারদেরই হচ্ছে তেমনটি ধরে নিয়েছিল প্রায় সবাই। কিন্তু চেতেশ্বর পুজারা এবং স্রেয়াশ আয়ার মিলে পঞ্চম উইকেট জুটিতে ১৪৯ রানের বড় জুটি গড়ে বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছিলেন।

কিন্তু দিনের শেষ ভাগে এসে দ্রুত দুটি উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে আবার খেলায় ফেরান দুই স্পিনার তাইজুল ইসলাম এবং মেহেদী হাসান মিরাজ। ৯০ রান করা চেতেশ্বর পুজারাকে ফেরান তাইজুল এবং দিনের একেবারে শেষ বলে অক্ষর প্যাটেলকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে বিদায় করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। আর তাতেই সকালের মত বিকালটাও খানিকটা উজ্জ্বল ছিল বাংলাদেশের জন্য। প্রথম দিনে বাংলাদেশের স্পিনাররা দারুণ সমীহ আদায় করতে পেরেছে। বিশেষ করে তাইজুল এবং মিরাজ। ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে দারুণ খেলা মিরাজ গতকাল প্রথম টেস্টের প্রথম দিনেও দারুণ বোলিং করেছেন। আর তাতেই প্রথম দিনটা কিছুটা হলেও সফল টাইগারদের জন্য।

সকালে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন ভারতের অধিনায়ক লোকেশ রাহুল। রাহুল এবং শুভমান গিল মিলে ৪১ রানের জুটি গড়েন। ২০ রান করা শুভমান গিলকে ফিরিয়ে এজুটি ভাঙ্গেন তাইজুল। অধিনায়ক লোকেশ রাহুলও পারেননি বেশিদূর এগুতে। তিনি ফিরেছেন খালেদ আহমেদের শিকার হয়ে। ২২ রান করেন ভারতের অধিনায়ক। তবে ভারতকে বড় ধাক্কাটা দেন তাইজুল। তিনি ফেরান বিরাট কোহলিকে। কোহলিকে উইকেটেই দাঁড়াতেই দেননি তাইজুল ইসলাম। মাত্র ৫টি বল খেললেন তিনি। পঞ্চম বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরেন বিরাট কোহলি। বল প্যাডে লাগতেই আবেদনে আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারলেন না তিনি। ১ রান করে বিদায় নেন কোহলি। ৪৮ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর ৬৪ রানের জুটি গড়ে তোলেন পুজারা এবং রিশাভ পান্ত। ওয়ানডে স্টাইলে খেলে ৪৫ বলে ৪৬ রান করে ফিরেন পান্ত। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে বোল্ড হয়ে ফিরেন রিশাভ পান্ত।

৩২তম ওভারে ৪র্থ উইকেট পড়ার পর ক্রিজে এসে দারুনভাবে দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন চেতেশ্বর পুজারা এবং শ্রেয়াশ আইয়ার। মনে হচ্ছিল এ দুজন দিনটা শেষ করে তবেই ফিরবেন। এরই মধ্যে সেঞ্চুরির খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন পুজারা। কিন্তু দিনের একেবারে শেষ বেলায় ভাঙল ১৪৯ রানের এজুটি তাইজুলের বলে। তিনি ফিরিয়েছেন ২০৯ বলে ৯০ রান করা চেতেশ্বর পুজারাকে। ১১টি চার মারেন তিনি। আগের ওভারে ফিরতে পারতেন শ্রেয়াশ আইয়ার। কিন্তু এবাদত হোসেনের বলে বোল্ড হলেও বেলস পড়েনি। অথচ বাতি জ্বলেছিল। ফলে সে যাত্রায় বেঁচে যান আইয়ার।

কিন্তু পরের ওভারে তাইজুলের হাত থেকে আর বাঁচতে পারলেন না পুজারা। ঠিকই বোল্ড হয়ে ফিরলেন। অবশ্য তারও আগে একটি উইকেট পড়তে পারতো। একটি ক্যাচ ছেড়ে দেন এবাদত হোসেন। ৭৬তম ওভারে মেহেদি হাসান মিরাজের বলে ডিপ মিডউইকেটে শ্রেয়াস আইয়ারের সহজ ক্যাচ ফেলে দেন তিনি। আয়ার তখন ব্যাট করছিলেন ৬৭ রানে। দিনের শেষ ওভারের বল করতে আসেন মেহেদী হাসান মিরাজ। প্রথম বলেই অক্ষর প্যাটেল একটি বাউন্ডারি মারেন। পরের চার বল কোনো রান নিতে পারেননি। শেষ বলে ব্যাট মিস করেন প্যাটেল। বল গিয়ে আঘাত হানে প্যাডে। আবেদন করতেই আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার। রিভিউ নেন প্যাটেল। কিন্তু রিভিউতে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই বহাল থাকলো। ফলে শেষ বলে উইকেট হারিয়ে মাঠ ছাড়ে ভারত। বাংলাদেশের পক্ষে ৮৪ রানে ৩ উইকেট নেন তাইজুল। ৭১ রানে ২ উইকেট নেন মিরাজ। ৮২ রানে অপরাজিত থাকা আইয়ার দ্বিতীয় দিনে দলকে কতটা এগিয়ে নিতে পারে সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপাইপলাইনে চট্টগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জে জ্বালানি তেল সরবরাহ হবে : নসরুল
পরবর্তী নিবন্ধচাল ও গম আমদানির এলসিতে ন্যূনতম মার্জিন