শেরপুরে বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষে জামায়াত নেতার মৃত্যু

| বৃহস্পতিবার , ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ

শেরপুরে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষে আহত জামায়াতে ইসলামীর শ্রীবর্দী উপজেলা সেক্রেটারি রেজাউল করিমের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার রাতে শ্রীবর্দী উপজেলা জামায়াতের আমির মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম জানান, রাত ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেজাউল করিম মারা গেছেন। তিনি বলেন, ঝিনাইগাতীতে একটি অনুষ্ঠানে হামলায় আহত সেক্রেটারিকে গুরুতর আহত অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেলে নেওয়া হয়েছিল। খবর বিডিনিউজের।

শেরপুর জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) কামরুল ইসলাম বলেন, ‘মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় তাকে (শ্রীবর্দী জামায়াতের সেক্রেটারি) শেরপুর থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। আমরা তার মৃত্যুর খবর শুনেছি।’ নিহত রেজাউল ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার আরবি বিষয়ক প্রভাষক ছিলেন। ঝিনাইগাতীতে বিকালের সংঘর্ষের ওই ঘটনায় হামলার জন্য একে অপরকে দায়ী করছে জামায়াত ও বিএনপি।

ওই সংঘর্ষে নেতাকর্মী আহত হওয়ার হওয়ার প্রতিবাদে রাতে শেরপুর শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে জেলা জামায়াতে ইসলামী। এর ঘণ্টা কয়েক পর রেজাউলের মৃত্যুর খবর শেরপুরে পৌঁছায়। এর আগে বিকাল ৩টায় ঝিনাইগাতী উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে শেরপুর৩ আসনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের নিয়ে ‘নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে’ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে সংঘাতে জড়ায়। এতে উভয়পক্ষের পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়। পরে আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঝিনাইগাতি উপজেলা প্রশাসন ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ঝিনাইগাতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল ইসলাম রাসেল এবং ঝিনাইগাতি থানার ওসি নাজমুল হাসানসহ অন্যরা অনুষ্ঠান শুরুর অপেক্ষা করছিলেন। তারা বলেন, অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের নেতাকর্মীরা আগে থেকেই সামনের চেয়ারে বসা থাকলেও বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল সেখানে না পৌঁছায় তার নেতাকর্মীরা অপেক্ষা করছিলেন। তবে বিএনপির নেতাকর্মীরা দর্শক সারিতে সামনে চেয়ারে বসতে না পেয়ে ক্ষুব্ধ হন। এসময় জামায়াতের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাগবিতণ্ডা থেকে চেয়ার ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। ভেঙে ও পুড়িয়ে দেওয়া হয় বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল। লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় অনুষ্ঠান মঞ্চ। পরে পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। মোতায়েন করা হয় বাড়তি সদস্য।

এদিকে বিএনপির প্রার্থী রুবেল সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, জামায়াতের নেতাকর্মীদের হামলায় জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম জুনসহ অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে দুইজন গুরুতর আহত হয়ে রক্ত বমি করেছেন। তাদের আশঙ্কাজন অবস্থায় জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরপর রাতে শেরপুর শহরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে জেলা জামায়াতে ইসলামী। মিছিলের পর সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এ ঘটনার জন্য বিএনপিকে দায়ী করা হয়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান। তার অভিযোগ, বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলের নেতৃত্বে দলটির সমর্থক নেতাকর্মীদের হামলায় ঝিনাইগাতীতে জামায়াতের কমপক্ষে ৪০ জন আহত হয়েছেন।

এর মধ্যে ৩ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হওয়ার কথা বলেন তিনি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধঢাকা-করাচি রুটে বিমানের সরাসরি ফ্লাইট চালু হচ্ছে আজ
পরবর্তী নিবন্ধপথচারী ও টেক্সি চাপা দিয়ে ট্রাক পুকুরে, মাদ্রাসা ছাত্রীসহ নিহত ২