শুরু হলো মাহে রমজান

গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও বাজার মনিটরিংয়ে প্রশাসনের অ্যাকশন প্ল্যান যানজট ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ সতর্ক পুলিশ

হাসান আকবর | বৃহস্পতিবার , ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৬:২০ পূর্বাহ্ণ

আজ থেকে শুরু হলো পবিত্র মাহে রমজান, ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সিয়াম সাধনার মাস। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা যায়। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকের পর এ তথ্য জানান ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন। এরপর ব্রিফিংয়ে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, ‘বৃহস্পতিবার থেকে রোজা শুরু হচ্ছে। আলহামদুলিল্লাহ।’

এদিকে রমজানে চট্টগ্রামে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সেবা খাতগুলোর কোথাও কোনো ধরনের সমস্যা হবে না বলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করে বলেছেন, ইতোমধ্যে প্রতিটি ক্ষেত্রেই অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা হয়েছে। অপরদিকে নগরীর যানজট পরিস্থিতি সামাল দেয়ার ক্ষেত্রেও নেয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রশাসন এবং দ্রব্যমূল্য সহনীয় এবং ভেজাল প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন মাঠে আছে বলে জানিয়েছে। শুধু বাজার মনিটরিংই নয়, বাজার নিয়ন্ত্রণেও নেয়া হবে বিশেষ পদক্ষেপ। সরকারি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও বাজারের উপর নজরদারি করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। সূত্র জানায়, রমজান আসার সাথে সাথে দ্রব্যমূল্য লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ে। এবার দ্রব্যমূল্য যাতে সহনীয় পর্যায়ে থাকে সেজন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগে ভাগে বিশেষ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। খেজুর, ছোলা, চিনিসহ রমজানে ব্যবহার্য নিত্য পণ্যের দাম নিয়ে যাতে কেউ ছিনিমিনি খেলতে না পারে সেজন্য জেলা প্রশাসন অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করেছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, আমরা মিটিং করেছি। আজও বাজারে আমাদের তিনটি টিম বাজারে রয়েছে। কোনো পণ্য নিয়ে কারসাজির অভিযোগ পেলে আমরা সাথে সাথেই ব্যবস্থা নেবো। তিনি বলেন, খেঁজুর নিয়ে কিছুটা কারসাজি করার চেষ্টা করা হয়েছিল, আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। বাজারে নিশ্চয়ই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি বলেন, আমরা পুরো রমজানজুড়েই বাজার মনিটরিং করবো। কোথাও সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। দৈনিক আজাদীর সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, আমাদের টিম ইতোমধ্যে বিভিন্ন বাজারে গিয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে দিয়ে এসেছে। বাজার পরিস্থিতি নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেললে আমরা কঠোরভাবে তা দমন করবো। তিনি বাজারে প্রচুর পণ্যের সরবরাহ এবং মজুদ থাকার কথা উল্লেখ করে বলেন, বাজারে পণ্যের কোনো সংকট নেই। তিনি ক্রেতাদের হুড়োহুড়ি করে একইসাথে পুরো মাসের বাজার না করে রয়ে সয়ে বাজার করারও পরামর্শ দেন। কোনো পণ্য নিয়ে কাউকে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ফায়দা লুটতে দেয়া হবে না।

রমজানে রান্নার গ্যাসের সংকট যাতে না হয় সেটি নিশ্চিত করতে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনসহ অন্যান্য খাতগুলোতেও প্রয়োজনীয় গ্যাসের যোগান দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গ্যাসের অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন যাতে না কমে সেদিকেও সজাগ থাকার কথা জানিয়েছেন কর্ণফুলী গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। দৈনিক আজাদীর সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, গ্যাস সেক্টরে যাতে কোনো সংকট না হয় সেজন্য আমরা বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। নিশ্চয়ই এর সুফল নগরবাসী পাবেন। তিনি বলেন, গ্যাসের কোনো সংকট হবে না। তবে স্থানীয়ভাবে কোথাও লাইন কেটে ফেললে কিংবা লিকেজ হলে সাময়িক সমস্যা হতে পারে।

চট্টগ্রামে বিদ্যুতের পরিস্থিতি বর্তমানে বেশ সন্তোষজনক বলে উল্লেখ করে পিডিবির প্রধান প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির মজুমদার দৈনিক আজাদীকে বলেন, বর্তমানে বিদ্যুতের পরিস্থিতি খুবই ভালো। আমাদের সিস্টেম খুবই আপ টু ডেট। জেনারেশনে বড় কোনো সংকট না হলে রমজানে বিদ্যুতের কোনো সমস্যা হবে না। ইফতার, তারাবি এবং সেহেরিতে নগরবাসী যাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পান সেদিকে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে। এ ব্যাপারে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে বলেও ইঞ্জিনিয়ার হুমায়ুন কবির মজুমদার উল্লেখ করেন।

চট্টগ্রামে দৈনিক ৫০ কোটি লিটার পানির উৎপাদন ক্ষমতা থাকলেও লবণাক্ততার জন্য উৎপাদন কিছুটা কমে গেছে। বর্তমানে দৈনিক ৪৪

কোটি লিটার পানি পাওয়া যাচ্ছে বলে উল্লেখ করে চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার মাকসুদ আলম বলেন, রমজানে পানির কোনো সমস্যা যাতে না হয় সেজন্য আমরা বিশেষ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। আমরা বেশ কয়েকটি টিউবওয়েল রিজেনারেশন করছি, ফিরোজ শাহ এলাকায় নতুন একটি টিউবওয়েল স্থাপন করছি। এছাড়া ইফতার এবং সেহেরির সময় মিলিয়ে পাম্পিং স্টেশনগুলোতে প্ল্যান দেয়া হয়েছে। এছাড়া নগরীর ঘনবসতিপূর্ণ কিছু এলাকায় আমরা ভাউজারের মাধ্যমে ফ্রি পানি বিতরণ করবো। যে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে পানির চাহিদা মোকাবেলা করার প্রস্তুতি আমরা নিয়ে রেখেছি। তিনি বলেন, আমরা বৈঠক করে টিম ঠিক করেছি। আমাদের পানির গাড়িগুলো সচল করছি। যাতে কোথাও কোনো ধরনের সমস্যা হলেও সাথে সাথে গাড়িতে পানি পাঠাতে পারি। রমজানে ইফতার ও সেহেরিতে মানুষের যাতে ভোগান্তি না হয় মসজিদে মসজিদে যাতে অজুর পানি থাকে আমরা তা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নিয়েছি।

চট্টগ্রাম মহানগরী পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ রমজানের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে দৈনিক আজাদীকে বলেন, আমরা আজ ব্যবসায়ী, শ্রমিক প্রতিনিধি, গণপরিবহনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে বৈঠক করেছি। রমজানে যাতে রাস্তায় যানজট না হয় সেদিকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে। আইন শৃংখলা রক্ষায় আমাদের স্বাভাবিক যে কার্যক্রম তার সাথে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। মানুষ যাতে স্বস্তিতে পবিত্র রমজান অতিবাহিত করতে পারেন সেদিকে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে।

চট্টগ্রামে কর্মরত একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা গতকাল দৈনিক আজাদীকে বলেন, রমজানে বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। সাদা পোশাকে আমরা তথ্য সংগ্রহ করে তা প্রশাসনকে জানাচ্ছি। কোথাও কোনো অনিয়ম দেখলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। শুধু বাজার মনিটরিংই নয়, অন্যান্য বিষয়গুলোতেও আমাদের নজরদারি রয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধদেশে মব কালচার শেষ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পরবর্তী নিবন্ধরোজায় বন্ধ থাকছে স্কুল, ছুটি শুরু আজ থেকে