শুরু করেছিলাম একটা সেলাই মেশিন দিয়ে

নারী উদ্যোক্তা সাজেদা বেগম

| সোমবার , ৮ মার্চ, ২০২১ at ৮:১৫ পূর্বাহ্ণ

নারী উদ্যোক্তা সাজেদা বেগম বলেন, আমি ব্যবসার শুরুটা করি আজ থেকে ৩০ বছর আগে। পুঁজি বলতে ছিল কেবল একটি সেলাই মেশিন। আমি বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে অর্ডার নিয়ে কাজ করতাম। কাজ করতে করতে একদিন চট্টগ্রাম উইম্যান চেম্বারের খোঁজ পাই। আমার কাজে উইম্যান চেম্বারের মনোয়ারা হাকিম আলী আপা অনেক সহায়তা করেন। সেই সময় তিনি আমাকে একটি ওভারলক মেশিন এবং ৩ হাজার টাকা দেন। পরে আমি সেই টাকা শোধ করি।
তিনি বলেন, আমার এগিয়ে যাওয়া মোটেও সহজ ছিল না। অনেক চরাই উৎরাই পেরিয়ে আমি এতদূর এসেছি। আমার প্রথম প্রতিষ্ঠান ছিল জননী ক্রাফট। সেটি করেছিলাম খুলশী কলোনির বাসায়। আমার সাথে মাত্র দুজন কর্মচারী ছিল। পরে এস আর ক্রিয়েশন নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলি। যেখানে বুটিক, ব্লক এবং এমব্রয়ডারির কাজ করতাম। আমার কাছে মুখ্য বিষয় ছিল ক্রেতাদের সন্তুষ্টি। ক্রেতাদের যে কমিটমেন্ট করতাম, তা ধরে রাখার চেষ্টা করতাম। যার কারণে ব্যবসায় কখনো পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
নারী উদ্যোক্তা সাজেদা বলেন, আমি যে আয় করেছি, তা দিয়ে ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠান বড় করেছি। বর্তমানে আমার প্রতিষ্ঠানে আমার দুই ছেলে এবং মেয়েও সহায়তা করছে। এছাড়া করোনা শুরুর আগে ১৪ জন কর্মচারী ছিল। তবে করোনার কারণে আমার ব্যবসায় ধাক্কা লেগেছে। তারপরও থেমে যাইনি। এখনো কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, বারবার বলতে হয়, ব্যবসার শুরুতে আমি একজন নারী হয়েও ঢাকা এবং নারায়ণগঞ্জে দৌড়াদৌড়ি করেছি। আমার স্বামীর কাছ থেকেও যথেষ্ট সমর্থন পেয়েছি। বলা যায়, একেবারে শূন্য থেকে শুরু করে এত কিছু করলাম। এজন্য ধন্যবাদ দিতে হবে উইম্যান চেম্বারের মনোয়ারা হাকিম আলী আপা, খালেদা আওয়াল, গুলশান আরা আলী, কামরুন মালেক আপা এবং আবিদা মোস্তফা আপাকে। উনাদের সহায়তা, উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় আমি কিছুটা সফল হতে পেরেছি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমানুষের হাতেই বড় হচ্ছে ‘বাইডেন’
পরবর্তী নিবন্ধনিজের পায়ে দাঁড়াতে নারীকে অনেক বাঁধার মুখে পড়তে হয়