শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা আজ

আজাদী ডেস্ক | রবিবার , ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ at ৭:৪৯ পূর্বাহ্ণ

বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা আজ। এ উপলক্ষে চট্টগ্রামসহ সারাদেশের বৌদ্ধবিহারগুলোতে বুদ্ধপূজা, সংঘদান, পিণ্ডদান, অষ্টপরিষ্কার দান, পঞ্চশীল প্রার্থনা, শীল গ্রহণ ও প্রদীপপূজাসহ নানা ধর্মীয় আচার পালন করা হবে। সন্ধ্যায় বিভিন্ন স্থানে ওড়ানো হবে ফানুস।

আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত তিন মাস বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বর্ষাবাস পালন করেন। এ সময় তারা বিহারে অবস্থান করে ধর্মচর্চা ও সাধনায় মনোনিবেশ করেন। বর্ষাবাস শেষে প্রবারণার মধ্য দিয়ে ভিক্ষুসংঘের সদস্যরা পরস্পরের কাছে নিজেদের দোষত্রুটি তুলে ধরার আহ্বান জানান। অজ্ঞাতসারে কোনো ভুল হয়ে থাকলেও তা স্বীকার করে সংশোধনের সুযোগ থাকে এ প্রথায়। প্রবারণা আত্মশুদ্ধি, আত্মসমালোচনা এবং অশুভকে বর্জন করে সত্য ও সুন্দরকে বরণের শিক্ষা দেয়।

প্রবারণা পূর্ণিমার অন্যতম আকর্ষণ ফানুস ওড়ানো। বৌদ্ধশাস্ত্রমতে, গৃহত্যাগের সময় সিদ্ধার্থ গৌতম নিজের মাথার চুল কেটে আকাশে ছুড়ে দিয়ে সংকল্প করেছিলেন, তিনি বুদ্ধত্ব লাভের উপযুক্ত হলে চুলগুলো মাটিতে পড়বে না। বৌদ্ধশাস্ত্রের বর্ণনা অনুযায়ী, চুলগুলো আকাশে উঠে যায় এবং দেবরাজ ইন্দ্র সেগুলো তাবতিংস স্বর্গে চুলামণি চৈত্যে সংরক্ষণ করেন। সেই পবিত্র কেশধাতুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রতীক হিসেবে বৌদ্ধধর্মাবলম্বীরা প্রবারণা পূর্ণিমায় ফানুস ওড়ান।

আগামীকাল সোমবার থেকে দেশের বিভিন্ন বৌদ্ধবিহারে শুরু হবে মাসব্যাপী কঠিন চীবর দানোৎসব। এ উৎসবে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের চীবর বা পরিধেয় বস্ত্র দান করা হয়।

হাটহাজারী প্রতিনিধি জানান, প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে হাটহাজারী উপজেলার বিভিন্ন বৌদ্ধবিহারে দিনব্যাপী ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ভোরে ত্রিপিটকের মঙ্গলবাণী পাঠ, সমবেত বুদ্ধবন্দনা, বুদ্ধপূজা, পঞ্চশীল ও উপোসথশীল গ্রহণ, জাতীয়, ধর্মীয় ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলন, বৈজয়ন্তী ধ্বজা উত্তোলন, অন্ন ও পুষ্পমেরু দান, ভিক্ষুসংঘকে পিণ্ডদান, ধর্মীয় আলোচনা, আলোকসজ্জা, বুদ্ধকীর্তন, সন্ধ্যায় প্রদীপপূজা এবং দেশের শান্তি–সমৃদ্ধি ও জীবজগতের মঙ্গল কামনায় সমবেত প্রার্থনা।

উপজেলার পশ্চিম ধলই উদালিয়া শান্তি নিকেতন বৌদ্ধবিহার, মির্জাপুর শান্তিধাম বিহার, মির্জাপুর গৌতমাশ্রম বিহার, বালুখালী জগৎজ্যোতি বৌদ্ধবিহার, গুমানমর্দ্দন ধর্মচক্র বিহার, আরিয়া ওয়াংচা আন্তর্জাতিক বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র, গুমানমর্দ্দন সার্বজনীন নালন্দা বিহার, গুমানমর্দ্দন শান্তি বিহার, রুদ্রপুর ধর্মরত্ন বিহার, মীরেরখীল চন্দ্রপুর বেনুবন বিহার, জোবরা সুগত বিহার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন বিশ্বশান্তি প্যাগোডা এবং মধ্যম মাদার্শা সার্বজনীন শান্তি নিকেতন বৌদ্ধবিহারে পৃথক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাটহাজারী বৌদ্ধ কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অনুপম বড়ুয়া।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ‘আমার মৃত্যুর জন্য ইউএনও দায়ী থাকবেন’
পরবর্তী নিবন্ধএক ব্যক্তিকে ডেকে নিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া বাইকটি উদ্ধার