শীত নামে কুয়াশার সাদা চাদর, গ্রাম তার নিঃশ্বাসে ধীরে জেগে ওঠে
খেজুরগাছ দাঁড়িয়ে থাকে প্রাচীন ঋষির মতো,
বুক চিরে দান করে মিষ্টি অমৃত
রাতের নীরবতা ভেঙে হাঁড়িতে জমে সূর্যের আগের আলো
পিঠার ধোঁয়া উঠে আসে মায়ের আঙুল থেকে,
স্মৃতির মন্দিরে ঘণ্টা বাজে।
চালের গুঁড়ো হয়ে যায় তুষারের মতো,
উনুনের আগুন তাকে রক্তিম করে তোলে
শীত এখানে কেবল ঋতু নয়, এক ধ্যানমগ্ন দেবতা
সে জিহ্বায় ছুঁয়ে দেয় গুড়ের গাঢ় ভাষা
ভাপা পিঠা গোল চাঁদের মতো থালায় শুয়ে থাকে।
পুলি পিঠা যেন নদীর বুকে ভাসমান নৌকা
খেজুরের রস নেমে আসে নক্ষত্র ভেঙে পড়ার মতো
পুরাণের দেবীরা এসে বসে উঠোনে, কাঁসার থালায় শীতের উৎসব
শিশুদের হাসিতে আগুন পোহায় শীতল বাতাস।
রোদ্দুর গায়ে মেখে নেয় গুড়ের সোনালি রং
এই শীত স্মৃতিকে খায়, আবার জন্ম দেয়
পিঠা–পুলির স্বাদে গ্রাম এক মুহূর্তের জন্য অমর হয়ে থাকে।












