শীতে হাসপাতালে বাড়ছে নিউমোনিয়ার রোগী

ঝুঁকিতে শিশু ও বয়স্করা

জাহেদুল কবির | শনিবার , ১০ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৫:৫৩ পূর্বাহ্ণ

শ্বাসকষ্টের সমস্যার জন্য দশ বছর বয়সী শিশু রুনাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার মাবাবা। চিকিৎসকরা বুকের এক্সরে করে দেখেন শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাচ্ছে। গত ৮ দিন সে ভর্তি রয়েছে। মেয়ের অসুস্থতায় মায়ের চিন্তার অন্ত নেই। এই শীতে শুধু শিশু রুনা নয়, ঝুঁকিতে রয়েছেন বৃদ্ধরা। তবে বৃদ্ধদের তুলনায় শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার হার বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের নিয়মিত টিকাদান, স্বাস্থ্যকর জীবন এবং পরিষ্কারপরিচ্ছন্নতা, এই তিনটি বিষয় নিউমোনিয়া প্রতিরোধ করতে পারে। এছাড়া ঠাণ্ডা থেকে রক্ষা পেতে শিশুর মাথায় হালকা টুপি এবং হাতেপায়ে মোজা পরাতে হবে। ঘরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে হবে। কোনোভাবেই আগুনের ধোঁয়া জাতীয় কিছু দিয়ে শিশুর শরীরে উষ্ণতা বাড়ানোর চেষ্টা করা যাবে না। ঘরের বাইরে গেলে বড়দের যে পরিমাণ শীতের কাপড় প্রয়োজন হয়, শিশুকেও যেন একই ধরনের কাপড় পরানো হয়। খুব বেশি যাতে পরানো না হয়। আর শিশুকে সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগে বর্তমানে ধারণ ক্ষমতার তিনগুণ রোগী ভর্তি রয়েছে। এর এক তৃতীয়াংশ আবার নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগী। একইসাথে নিউমোনিয়া আক্রান্ত রোগী বাড়ছে চট্টগ্রাম মা শিশু ও জেনারেল হাসপাতালেও। অন্যদিকে চমেক হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে বাড়ছে শীতজনিত রোগে আক্রান্তরা।

চমেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. এএসএম জাহেদ দৈনিক আজাদীকে বলেন, শীতের সময় কিছু কিছু রোগের প্রকোপ বাড়ে। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া। তাই বয়ষ্ক লোকদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে নিয়মিত মাস্ক পরতে হবে। এছাড়া নিজেকে উষ্ণ রাখতে হবে।

চমেক হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা বলেন, ৫ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুর প্রধান কারণ নিউমোনিয়া। সাধারণত যেসব শিশু কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করে, তাদের নিউমোনিয়া বেশি হয়। এছাড়া প্রিম্যাচিউরড (সময়ের আগে জন্ম নেয়া) শিশুদেরও নিউমোনিয়া বেশি হয়। ভিটামিন ‘এ’ ঘাটতিজনিত কারণেও নিউমোনিয়া হয়। এখন নিউমোনিয়া প্রতিরোধ করতে হলে গর্ভকালীন ও প্রসব পরবর্তী কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। বিশেষ করে গর্ভকালীন মায়ের পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া স্বল্প বিরতিতে সন্তান জন্ম দিলেও সেই সন্তানের ওজন কম হতে পারে। মাবাবা কেউ ধূমপায়ী হলে সন্তানের নিউমোনিয়া হতে পারে। পর্যাপ্ত আলো বাতাস ছাড়া স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে বেড়ে উঠা শিশু নিউমোনিয়ার ঝুঁকিতে থাকে।

চট্টগ্রাম মা শিশু ও জেনারেল হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. সেঁজুতি সরকার বলেন, হাসপাতালে নিউমোনিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, তবে এটি এখনো খুব খারাপ পর্যায়ে যায়নি। নিউমোনিয়া থেকে রক্ষা পেতে অভিভাবকদের সচেতন হবে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের অভিভাবকরা বেশি অসচেতন। তারা স্থানীয় পল্লী চিকিৎকসকদের দিয়ে শিশুর চিকিৎসা করান অথবা একেবারেই করান না। যখন শিশুর অবস্থার অবনতি হয়, তখন হাসপাতালে দৌঁড়াদৌঁড়ি করেন। এটি করা যাবে না। অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে শিশুর বুক বেশি দেবে গেলে, ঘন ঘন শ্বাস নিলে, মায়ের দুধ পানে সমস্যা ও খিঁচুনি হলে অবশ্যই হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবিএনপির বিদ্রোহীরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা : নজরুল
পরবর্তী নিবন্ধবিএনপির হাল ধরলেন তারেক