শীতার্ত মানুষদের পাশে দাঁড়াতে হবে

| শনিবার , ৩ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৫:২৯ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বয়ে চলেছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। এছাড়া উত্তরের হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশার কারণে সারা দেশেই বইছে কনকনে ঠান্ডা। শীতের দাপটে স্থবির হয়ে পড়েছে, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর জনজীবন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের সাত জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে। শৈত্যপ্রবাহ অনেক জায়গায় অব্যাহত থাকতে পারে। পৌষের হাড়কাঁপানো শীতে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা বিরাজ করছে দেশের উত্তরাঞ্চলে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা নেমেছে ১০ ডিগ্রির ঘরে। চুয়াডাঙ্গায় ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা ছিল দেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। আগামী কয়েকদিন মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও তা দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ এবং সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কাজেই এ সময় সড়কনৌপথে এবং বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিতে হবে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগে থেকেই যথাযথ প্রস্তুতি নিতে হবে। এখন ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে দেশের বিভিন্ন জনপদ। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে ছিন্নমূল, অসহায় ও খেটে খাওয়া মানুষ। শহরাঞ্চলের বাইরে গ্রামীণ এলাকায় শীতের তীব্রতা বেশি। শৈত্যপ্রবাহের কারণে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে অনেক হতদরিদ্র মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করেন।

ঠান্ডার তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিক জীবনযাপনে দেখা দেয় নানা সমস্যা। খেটে খাওয়া মানুষের পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র না থাকায় আক্রান্ত হয় বিভিন্ন ঠান্ডাজনিত রোগে। নদীতীরবর্তী ও ছিন্নমূল মানুষ পড়েন চরম ভোগান্তিতে। শিশু ও বয়স্কদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় অসুস্থ হয়ে পড়ে খুব সহজেই। ডায়রিয়া, জ্বর, হাঁচি, কাশি, শ্বাসকষ্টসহ ঠান্ডাজনিত রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। শীতকালে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা বেশিরভাগ মানুষই শিশু ও বয়োবৃদ্ধ।

বস্তুত তীব্র শীতের কারণে সারা দেশের নিম্নআয়ের মানুষকেই খুব কষ্টে দিনযাপন করতে হচ্ছে। শীত নিবারণের সুযোগ ও সামর্থ্য যাদের কম, তারা কম শীতেও কাবু হয়ে পড়ে। এছাড়া পুষ্টিহীনতার কারণে হতদরিদ্রদের মধ্যে অনেকের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও কম। ফলে তারা শীতজনিত বিভিন্ন রোগে সহজেই আক্রান্ত হন।

শীতার্ত ও বিপন্ন মানুষদের পাশে দাঁড়ানো ইসলাম ও নবীর আদর্শ। এ মুহূর্তে সব সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের একান্ত কর্তব্য শীতার্ত অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানো। মহান আল্লাহ এরশাদ করছেন, ‘তোমরা শ্রেষ্ঠ জাতি! তোমাদের আবির্ভাব হয়েছে মানুষের কল্যাণের জন্য।’ এ কাজটি ইবাদত তুল্য। সামান্য কিছু শীত বস্ত্র, কিছু কম্বল, কিছু গরম খাবার অথবা প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধ চলমান তীব্র শীতে অসহায় এ সকল মানুষদের শীত নিবারণের জন্য সহায়ক। এ মুহূর্তে প্রয়োজন সরকার তথা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি শীতবস্ত্র বিতরণ করা। পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগে বিশেষ করে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং বড় বড় শিল্প গ্রুপ ও বিত্তশালীদের শীতার্ত মানুষের পাশে সহায়তার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। তাহলেই শীতার্ত মানুষের শীতের কষ্ট লাঘব হবে এবং আল্লাহর দেওয়া সম্পদ, বিদ্যা, শ্রম দিয়ে শীতার্ত ও দুর্গত মানুষদের সাহায্য করার জন্য যথা সাধ্য চেষ্টা করা মানুষ হিসাবে আমাদের দায়িত্ব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শীত মৌসুমে কয়েক ধরনের ভাইরাস অতিমাত্রায় সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাতে দরিদ্র মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দরিদ্রদের মাঝে শীতবস্ত্র, খাদ্য ও ওষুধসহ বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া দরকার। হাড়কাঁপানো শীতে দরিদ্র মানুষের দুর্ভোগ যাতে আর না বাড়ে, সেজন্য সরকারিভাবে পর্যাপ্ত সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নিতে হবে। এই শীতে, শীতার্তদের পাশে আসুন সবাই মিলে সহায়তার হাত বাড়াই এবং তাদের মুখে হাসি ফোটাই। আমাদের মনে রাখা জরুরি যে একটি পুরোনো কিংবা নতুন শীতবস্ত্র একজন শীতার্ত মানুষের শীত নিবারণের অবলম্বন হতে পারে। সমাজের অসহায় ও শীতার্ত মানুষদের পাশে দাঁড়ানো সকলেরই নৈতিক দায়িত্ব।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ৭৮৬
পরবর্তী নিবন্ধএই দিনে