পরনে ভালো পোশাক। সাইরার বয়স ৫ বছর। আর সাইমার বয়স সম্ভবত ৩ বছর। দুই বোন মায়ের সঙ্গে এসেছিল নগরীর কোর্টহিলে। কিন্তু মা ডেইজি বেগম হঠাৎ নিরুদ্দেশ। আশপাশে কোথাও তাকে দেখতে না পেয়ে দুই শিশু এদিক–ওদিক হাঁটাহাঁটি করছিল আর কাঁদছিল।
গতকাল সোমবার কোর্টহিলের আইনজীবী দোয়েল ভবনের সামনে অসহায় শিশু দুটিকে দেখতে পান চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির একজন দারোয়ান। তিনি শিশু দুটির কাছে যান। কী হয়েছে জানতে চেয়েও ব্যর্থ হন। পরে তিনি তাদের সমিতির অফিসে নিয়ে যান। আইনজীবী সমিতির তথ্য কর্মকর্তা জানান, দারোয়ান দুই শিশুকে আইনজীবী দোয়েল ভবনের সামনে থেকে অফিসে নিয়ে আসেন। তাদের পরিচয় জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু ছোট হওয়ায় তারা তেমন কিছু বলতে পারছিল না। শুধু তাদের নাম, মায়ের নাম আর বাবার নাম বলতে পেরেছে। বাড়ি কোথায় সে বিষয়ে সঠিকভাবে কিছু বলতে পারেনি। মুন্সিরহাট বাড়ি বললেও কোন জেলা বা উপজেলার মুন্সিরহাট তা বলতে পারেনি। মায়ের সাথে কোর্টহিলে প্রবেশ করলেও কোন সময়ে প্রবেশ করেছে তা বলতে পারেনি। মা তাদের দুই বোনকে ফেলে কোথায় গেছে সে বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তর পাওয়া যায়নি।
তথ্য কর্মকর্তা বলেন, তবে দুই শিশু আপন দুই বোন। তারা একে অপরের নাম জানে। শিশু দুটির বাবার নাম শহীদ। শহীদ সম্ভবত কারাগারে রয়েছেন। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সমিতির আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, শিশু দুটির বিষয়ে পরে নগরীর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়। এরপর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তার একজন প্রতিনিধি সমিতির অফিসে পাঠান। উক্ত প্রতিনিধির হাতে শিশু দুটিকে হস্তান্তর করা হয়।
কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন গতকাল রাতে আজাদীকে বলেন, আইনজীবী সমিতির অফিস থেকে দুজন শিশুকে পেয়েছি। তারা খুবই ছোট। তাদের অভিভাবকের সন্ধানে কাজ চলছে। আমাদের চেষ্টা থাকবে অভিভাবকের হাতে তাদেরকে তুলে দেওয়া। তাদের অভিভাবককে খুঁজে পেতে সম্ভাব্য সব চেষ্টা করব।














