ভাষা, কণ্ঠ ও অনুভূতির মেলবন্ধনে খাগড়াছড়িতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে আরণ্যক বাচিকশিল্প চর্চাকেন্দ্রের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি। ‘মনের ভাষা, জনের ভাষা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আবৃত্তি, কবির কণ্ঠে কবিতা, কথামালা ও গুণীজন সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
গতকাল শনিবার সকালে শহরে গাইরিং হোটেলের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আরণ্যক জেলা শাখার উপদেষ্টা গবেষক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা। সংবর্ধিত অতিথি ছিলেন কবি হাফিজ রশিদ খান। তপু ত্রিপুরার সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন, জেলা শাখার নির্বাহী পরিচালক চিংলামং চৌধুরী।
বক্তারা বলেন, সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতি কোনো বিলাসিতা নয়; এগুলোই একটি সমাজের আত্মপরিচয়ের ভিত্তি। যে সমাজ তার ভাষা ও সংস্কৃতিকে লালন করে না, সে সমাজ ধীরে ধীরে শিকড় হারায়। ভাষাচর্চা মানুষকে মানবিক করে, আর কবিতা মানুষকে ভাবতে শেখায়। যেখানে শিল্পচর্চা বিকশিত হয়, সেখানে চিন্তার স্বাধীনতা ও প্রগতির পথ প্রশস্ত হয়।
বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও ভাষাগত ঐতিহ্য সংরক্ষণে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁদের মতে, কবিতা শুধু শব্দের বিন্যাস নয়, এটি সময়ের দলিল এবং মানুষের অনুভূতির প্রতিফলন। তরুণদের কণ্ঠে কবিতা উচ্চারিত হলে সেখানে ভবিষ্যতের স্বপ্ন ও সম্ভাবনার প্রতিধ্বনি শোনা যায়। বর্ণিল আয়োজনে স্থানীয় আবৃত্তিশিল্পীরা কবিতা পরিবেশন করেন। কবির কণ্ঠে কবিতা পাঠ শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।












