শিল্পকলা একাডেমিতে স্বতন্ত্র আবৃত্তি বিভাগ অন্তর্ভুক্তির দাবি

সংশোধিত অধ্যাদেশে আবৃত্তিশিল্পকে উপেক্ষা করা হয়েছে জানিয়ে শিল্পীদের হতাশা প্রকাশ

আজাদী প্রতিবেদন | শনিবার , ৭ মার্চ, ২০২৬ at ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংশোধিত অধ্যাদেশে স্বতন্ত্র আবৃত্তি বিভাগ অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়েছেন আবৃত্তিশিল্পীরা। তারা বলেন, সম্প্রতি জারি হওয়া বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬এ একাডেমির বিভাগ সংখ্যা ৬ থেকে বাড়িয়ে ৯টি করা হয়েছে। নতুন করে আলোকচিত্র, পারফর্মিং আর্টস, নিউ মিডিয়া ও সাংস্কৃতিক ব্র্যান্ডিংসহ বিভিন্ন বিভাগ যুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগ’কে আলাদা করে দুটি বিভাগ করা হয়েছে এবং ‘সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি বিভাগ’ ভেঙে সংগীত ও নৃত্যভিত্তিক পৃথক বিভাগ গঠন করা হয়েছে। তবে পুরো অধ্যাদেশে কোথাও ‘আবৃত্তি’ শব্দটি অন্তর্ভুক্ত না থাকায় আবৃত্তিশিল্পীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে ‘বাংলাদেশ আবৃত্তিশিল্প রক্ষা কণ্ঠ’ সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদী আবৃত্তি অনুষ্ঠান থেকে এ দাবি জানানো হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ‘বাংলাদেশ আবৃত্তিশিল্প রক্ষা কণ্ঠ’ সংগঠনের পক্ষে জেরিন মিলি। তিনি বলেন, স্বতন্ত্র আবৃত্তি বিভাগ গঠন করা হলে দেশের লক্ষ লক্ষ আবৃত্তিশিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে এবং জাতীয় সংস্কৃতি আরও সমৃদ্ধ হবে। এ সময় আবৃত্তিশিল্পীদের সাথে সংহতি জানিয়েছেন কবি, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, প্রকাশক, নাট্য শিল্পী, সংগীত শিল্পী ও নৃত্য শিল্পীসহ একাধিক পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সংশোধিত অধ্যাদেশে শিল্পকলা একাডেমির বিভাগ সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও আবৃত্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পমাধ্যমকে উপেক্ষা করা হয়েছে, যা দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য হতাশাজনক। আবৃত্তি কেবল কবিতা পাঠ নয়; এটি একটি স্বতন্ত্র বাচিক শিল্প, যা সাহিত্যকে শ্রুতিমাধুর্যের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়। প্রাচীন গ্রিস ও রোমান সভ্যতায় বাগ্মিতা ও কবিতা আবৃত্তি ছিল সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাংলা সংস্কৃতিতেও পুঁথিপাঠ, কবিগান ও লোকজ ঐতিহ্যের মধ্য দিয়ে আবৃত্তির চর্চা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। আবৃত্তিশিল্পীদের দাবি, সংশোধিত অধ্যাদেশের ৭ ধারায় জাতীয় সংস্কৃতির বিকাশ ও নতুন সাংস্কৃতিক ধারাকে ধারণ করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ৮ ধারায় সরকারের অনুমোদনক্রমে নতুন বিভাগ সৃষ্টির সুযোগও রয়েছে। তাই আবৃত্তিশিল্পের গুরুত্ব বিবেচনায় শিল্পকলা একাডেমিতে স্বতন্ত্র আবৃত্তি বিভাগ গঠন আইনগতভাবেও সম্ভব বলে তারা মনে করেন।

সংবাদ সম্মেলনে নাট্যশিল্পীদের পক্ষে চট্টগ্রাম গ্রুপ থিয়েটার ফোরামের সভাপতি খালেদ হেলাল বলেন, নাট্যশিল্প ও অভিনয়ে সঠিক উচ্চারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভাষার দক্ষতা একজন শিল্পীকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যায়, আর সেই ভাষা ও উচ্চারণের চর্চায় আবৃত্তিশিল্প গুরুত্ব পূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই শিল্পকলা একাডেমিতে স্বতন্ত্র আবৃত্তি বিভাগ গঠনের দাবি যৌক্তিক বলে উল্লেখ করে তিনি দ্রুত এ বিভাগ অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। কবি ও সাহিত্যিকদের পক্ষে কবি ইউসুফ মুহাম্মদ বলেন, কবিতা ও সাহিত্যকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম হলো আবৃত্তি। তাই আবৃত্তিশিল্পের যথাযথ বিকাশের জন্য শিল্পকলা একাডেমিতে স্বতন্ত্র আবৃত্তি বিভাগ চালু করা সময়ের দাবি। বাংলাদেশ সৃজনশীল প্রকাশনা পরিষদের সভাপতি মো. সাহাব উদ্দিন বাবু বলেন, আবৃত্তি বিভাগকে বাদ দেওয়া বাংলা ভাষার চর্চা ও বিকাশের জন্য উদ্বেগজনক। যে শিল্প ভাষা ও উচ্চারণকে কেন্দ্র করে কাজ করে, সেই শিল্পের নামটিই যদি শিল্পকলা একাডেমির অধ্যাদেশে না থাকে, তবে তা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি দ্রুত সংশোধনের মাধ্যমে আবৃত্তি বিভাগ অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। সংগীতশিল্পীদের পক্ষে বাংলাদেশ রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী সংস্থার সভাপতি লাকী দাশ বলেন, প্রতিটি শিল্পই একে অপরের পরিপূরক। আবৃত্তি একটি বৈচিত্র্যময় ও শক্তিশালী শিল্পমাধ্যম। তাই এটিকে স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবির সঙ্গে তিনি একাত্মতা প্রকাশ করেন। এ সময় আবৃত্তি সংগঠক মিশফাক রাসেলও বক্তব্য রাখেন। সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন আবৃত্তিশিল্পী নাজমুল আলিম সাদেকী। অনুষ্ঠানে প্রতিবাদী আবৃত্তি পরিবেশন করেন নতুন কুঁড়ি চ্যাম্পিয়ন সাবিলা সুলতান বানী ও আবৃত্তিশিল্পী এটিএম সাইফুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন আবৃত্তিশিল্পী দেবাশীষ রুদ্র, সেলিম রেজা সাগর, বিশ্বজিৎ পালসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন আবৃত্তি সংগঠনের দলপ্রধান ও শিল্পীরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আবৃত্তিশিল্প রক্ষা কণ্ঠের সংগঠক সাইদুর রহমান সবুজ ও শারমীন রীমা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমীরসরাইয়ে সড়ক সংস্কার কাজের উদ্বোধন
পরবর্তী নিবন্ধ‘তারুণ্যের বাস্তব ভাবনায় মাহে রামাদান’ শীর্ষক তাজকিয়ার সেমিনার