শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ভিসার মেয়াদ সীমিত করার পদক্ষেপ নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

| শুক্রবার , ২৯ আগস্ট, ২০২৫ at ৫:১৯ পূর্বাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আসা অতিথি ও বিদেশি গণমাধ্যম কর্মীদের ভিসার মেয়াদ সীমিত করার পদক্ষেপ নিচ্ছে। খবর বিডিনিউজের।

অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের গ্রহণ করা কঠোর ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বুধবার জারি করা একটি সরকারি নির্দেশনায় এমনটি প্রস্তাব করা হয়েছে, জানিয়েছে রয়টার্স।প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এফ ভিসা, সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারীদের জন্য জে ভিসা এবং গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য আই ভিসার মেয়াদের একটি নির্দিষ্ট সময়কাল নির্ধারণ করবে। বর্তমানে এই ভিসাগুলো সংশ্লিষ্ট কর্মসূচী বা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কর্মসংস্থানের মেয়াদ পর্যন্ত বৈধ থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তথ্যের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ২০২৪ সালে দেশটিতে এফ ভিসার আওতায় প্রায় ১৬ লাখ শিক্ষার্থী ছিল। ২০২৩ এর ১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ২০২৪ অর্থ বছরে যুক্তরাষ্ট্র সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির অধীনে প্রায় ৩ লাখ ৫৫ হাজার অতিথিকে এবং ১৩ হাজার গণমাধ্যম কর্মীকে ভিসা দিয়েছিল। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী শিক্ষার্থী ও বিনিময় কর্মসূচির ভিসা সর্বোচ্চ ৪ বছর পর্যন্ত থাকবে। সাংবাদিক ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ ২৪০ দিন এবং চীনের নাগরিকদের ক্ষেত্রে ৯০ দিন হবে। প্রয়োজন হলে নতুন করে মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করা যাবে। ট্রাম্প প্রশাসন বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে ভিসাধারীদের কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ ও দেখাশোনা করার জন্য এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এই পদক্ষেপ নিয়ে মতামত দিতে জনগণের জন্য ৩০ দিনের সময় রাখা হয়েছে। ২০২০ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের শেষদিকে অনুরূপ প্রস্তাব আনা হয়েছিল। তখন আন্তর্জাতিক শিক্ষকদের সংগঠন এনএফএসএ এর বিপরীতে অবস্থান নেয় এবং তা বাতিলের আহ্বান জানায়। পরে বাইডেন প্রশাসন ২০২১ সালে সেটি প্রত্যাহার করে। জানুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর ট্রাম্প প্রশাসন বৈধ অভিবাসনের ওপর নজরদারি আরও বাড়িয়েছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আদর্শিক দৃষ্টিভঙ্গীকে কেন্দ্র করে তাদের শিক্ষার্থী ভিসা ও গ্রিনকার্ড প্রত্যাহার করেছে এবং লাখ লাখ অভিবাসীর বৈধ স্থিতি বাতিল করেছে। ২২ অগাস্ট ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস জানিয়েছে, তারা নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের এলাকায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা পরিদর্শন পুনরায় শুরু করবে। এর মধ্যে থাকবে আবাসনের অবস্থা, নৈতিক চরিত্র এবং আমেরিকান মূল্যবোধের প্রতি প্রতিশ্রুতি যাচাই।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতকে মোদীর যুদ্ধ বললেন ট্রাম্পের উপদেষ্টা
পরবর্তী নিবন্ধএনসিএলের সূচি প্রকাশ