আমাদের স্কুলসহ দেশের সকল স্কুলে নতুন শিক্ষা ব্যবস্থায় ছাত্র/ ছাত্রীদের আর পরীক্ষা এবং ভালো নম্বরের পিছনে ছুটতে হবে না। কেবল পরীক্ষার জন্য সম্ভাব্য প্রশ্ন জানা আর সেসবের উত্তরের খোঁজে থাকতে হবে না। এখন থেকে উত্তর মুখস্থ করাও তোমাদের মূল কাজ নয়। বাবা–মায়েরও ভালো টিউটর, কোচিং সেন্টার, গাইড বই আর তোমাদের পরীক্ষা ও প্রশ্ন নিয়ে উদ্বেগে কাটাতে হবে না। (সূত্র: জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ)।
উপরের তথ্যটি আমার এক সহকর্মী আমাকে জানিয়েছেন কোনো এক প্রসঙ্গে। বাস্তবে চিত্রটা একেবারেই ভিন্ন। নতুন কারিকুলাম নিয়ে সারা বাংলাদেশের ষষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণির সকল বিষয়ের শিক্ষকদের ৫ দিন ব্যাপী সফলভাবে ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে। এই কারিকুলামে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়া/ কোচিং–এ যাওয়ার কোনোই সুযোগ নেই। কিন্তু তারা যাচ্ছে। অভিভাবকরা পাঠাচ্ছেন। শিক্ষকরা পড়াচ্ছেন। এই কারিকুলামে একজনের বিষয় আরেকজন পড়ানোরও কোনো সুযোগ নেই। প্রাথমিক পর্যায়েও তাই। চিত্র ভিন্ন। ৩য় থেকে ৫ম শ্রেণিতে ছোট্ট শিশুদের নিয়ে স্কুলগুলো যেন এক প্রতিযোগিতায় নেমেছে। কোন স্কুল কত বেশি পরিমাণে কোচিং সেন্টার খুলতে পারে এ যেন একটা প্রেস্টিজ এর ব্যাপার। কষ্ট লাগে যখন দেখি ব্র্যান্ড স্কুলগুলোও তাদের ঐতিহ্য হারিয়ে একই কাতারে এসে দাঁড়িয়েছে।
কোনো এক জায়গায় একজন অভিভাবক জানালো ‘আমার বাচ্চাকে আমি বলেছি হয় স্কুলে যাবি নইলে কোচিং সেন্টারে যাবি। যে কোনো একটা। দুই জায়গায় আমি নিয়ে যেতে পারবো না। আমার সংসারেও কাজ আছে। সরকার বলেছে নতুন কারিকুলামে কোনো প্রাইভেট পড়তে হবে না’। অভিনন্দন এমন অভিভাবক কে।
সরকার গলা ফাটিয়ে রক্তাক্ত করে ফেললেও কিছু হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না আমরা শিক্ষকরা ‘শিক্ষক’ হবো। অভিভাবকরা সচেতন না হবে। সত্যিই, আমাদের ইনোসেন্ট সন্তানেরা জানে না ওরা কোথায় যাবে, কী করবে। আসলে ওরা বড় অসহায়। আমরা শিক্ষকরাও ওদের পাশ থেকে দূরে সরে গেছি। ক্লাস রুম এখন আর ওদের কিছু দেয় না। নতুন কারিকুলামে সফলভাবে এগিয়ে যাক আমাদের সন্তানেরা। আশা ছাড়িনি।











