চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা মা ও শিশু হাসপাতালে ডাক্তার ছাড়াই এবং অনভিজ্ঞ নার্সের মাধ্যমে ডেলিভারি করানোর চেষ্টাকালে এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে উপজেলার শিকলবাহা মা ও শিশু হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। নবজাতকের স্বজনদের অভিযোগ, কোনো চিকিৎসক উপস্থিত না থাকায় অনভিজ্ঞ নার্স ও প্যারামেডিক দিয়ে নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করা হয়, যার ফলে কন্যাশিশুটির মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরপরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্বজনদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সেনাবাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে।
নবজাতকের পিতা এরফানুল হক বলেন, শুক্রবার বিকেলে তার স্ত্রীর প্রসববেদনা শুরু হলে শিকলবাহা মা ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তি ফি বাবদ ৩০০ টাকা নেওয়া হয়। পরে কথিত চিকিৎসক তানভীর সুলতানা মুন্নি ও আলিয়া আক্তার নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করেন।
তিনি দাবি করেন, ডেলিভারির আগ পর্যন্ত শিশুটির হার্টবিট স্বাভাবিক ছিল। ডাক্তার ছাড়া এবং অনভিজ্ঞ জনবল দিয়ে ডেলিভারি করানোর কারণেই নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে।
ডেলিভারির সময় দায়িত্বে থাকা তানভীর সুলতানা মুন্নি নিজেকে হাসপাতালের মিডওয়াইফ (ধাত্রী) এবং আলিয়া আক্তার প্যারামেডিক হিসেবে পরিচয় দেন। তবে ঘটনার সময় কোনো এমবিবিএস চিকিৎসক হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন না—এ বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও স্বীকার করেছে।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. অসীত কুমার বলেন, সাধারণত ডেলিভারির সময় তিনি নিজে উপস্থিত থাকেন। তবে অসুস্থতার কারণে ওইদিন হাসপাতালে যেতে পারেননি। তিনি ডাক্তার অনুপস্থিত থাকা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোছাম্মৎ জেবুন্নেসা বলেন, ঘটনার বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের গাফিলতি প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।












