শিকলবাহা ক্রসিং থেকে বাদামতল পর্যন্ত সড়কও হবে দ্বিগুণ প্রশস্ত

আজাদী প্রতিবেদন | রবিবার , ২৩ জানুয়ারি, ২০২২ at ৭:২৮ পূর্বাহ্ণ

 

 

কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। চলতি বছরের অক্টোবরে বহু প্রত্যাশিত বঙ্গবন্ধু টানেলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে বলে জানা গেছে। এদিকে টানেলের শহর অংশ থেকে সকল ধরনের যানবাহন আনোয়ারা অংশ দিয়ে বের হয়ে যাতে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে সেজন্য ৪৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬ লেনের ১১ কিলোমিটারের সংযোগ সড়কের কাজ এখন পুরোদমে চলছে। কর্ণফুলী টানেলের সংযোগস্থল থেকে শিকলবাহা ক্রসিং পর্যন্ত ৮ কিলোমিটারের ৬ লাইনের সংযোগ সড়কের কাজ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হবে। এই সংযোগ সড়কের পাশাপাশি শিকলবাহা ক্রসিং থেকে পটিয়ামনসা বাদামতল পর্যন্ত সাড়ে ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বিদ্যমান সড়কও দুই পাশে দ্বিগুণ প্রশস্ত করা হবে বলে জানান দোহাজারী সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুমন সিংহ।

সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ৪৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে আনোয়ারার কালাবিবির দীঘির মোড় থেকে পিএবি সড়কের শিকলবাহা ওয়াই জংশন পর্যন্ত ৮ দশমিক ১ কিলোমিটার ছয় লেন এবং কালাবিবির দিঘি থেকে আনোয়ারা উপজেলা সদর পর্যন্ত ২ দশমিক ৪ কিলোমিটার দুই লেন সড়কের নির্মাণ কাজ চলছে দ্রুত গতিতে। বরাদ্ধের মূল সড়কে ব্যয় হবে ২৬৭ কোটি টাকা। জমি অধিগ্রহণে ৯০ কোটি টাকা এবং বাকি ১১৩ কোটি টাকা বিবিধ ক্ষতিপূরণে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এনডিএ এ কাজ করছে।

দোহাজারী সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুমন সিংহ আজাদীকে জানান, টানেলের কাজের পাশাপাশি ২৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে আনোয়ারা প্রান্তে সংযোগ সড়কের কাজও চলছে। বঙ্গবন্ধু টানেল দিয়ে আসা গাড়িগুলো ৬ লাইনের সংযোগ সড়ক দিয়ে শিকলবাহা ক্রসিং পর্যন্ত নির্বিঘ্নে আসতে পারবে। শিকলবাহা থেকে আমরা পটিয়া বাদামতল পর্যন্ত বিদ্যমান ১৮ ফুটের সড়টিকে ৩৪ ফুটে সম্প্রসারণ করছি। এর ফলে টানেল দিয়ে আসা গাড়িগুলো নির্বিঘ্নে পটিয়া বাদামতল পর্যন্ত চলে আসতে পারবে। নতুন সংযোগ সড়কের পাশাপাশি বিদ্যমান সড়ক সম্প্রসারণের ফলে যানজট নিরসন হবে এবং পটিয়া বাদামতল পর্যন্ত যান চলাচলে সহনীয় করবে।

বঙ্গবন্ধু টানেল দিয়ে চলাচলরত গাড়িগুলো আনোয়ারার কোরিয়ান ইপিজেড, চায়না ইপিজেড, সিইউএফএল, পারকি সমুদ্র সৈকত হয়ে কঙবাজার, বাঁশখালী ও মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর যেতে পারবে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু টানেল ও সংযোগ সড়কের কাজ যেভাবে এগিয়ে গেছে সেভাবে চট্টগ্রামকঙবাজার সড়ক যোগাযোগ উন্নত করার বিষয়টি সমান তালে এগোচ্ছে না। এই সড়ককে চার লেন করতে বিদেশি কোম্পানি দিয়ে ফিজিবিলিটি স্টাডি করার পর সেই প্রকল্প থেকে সরে আসে সরকার। এরপর আরো উন্নত এবং নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত করতে চট্টগ্রামকঙবাজার এঙেস কন্ট্রোলড হাইওয়ে বা এঙপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। সরকারের পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। কিন্তু গত আড়াই বছর ধরে সেই প্রকল্পেরও কোনো অগ্রগতি নেই।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ১৫ থানায় তদারকি কমিটি ‘চূড়ান্ত’ তালিকা যাবে কেন্দ্রে
পরবর্তী নিবন্ধস্কুল ও কলেজের জন্য ১১ নির্দেশনা