কক্সবাজারের টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপে ২০০৪ সালে নির্মিত জেটি ২১ বছরেও সংস্কার হয়নি। ফলে দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে জেটিটি। খসে পড়ছে জেটির আস্তর ও রেলিংসহ বিভিন্ন অংশ। ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দ্বীপবাসীর।
স্থানীয়রা বলছে, টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ অংশের নাফ নদী থেকে খননযন্ত্র দিয়ে বালু তুলে ভরাট করা হচ্ছে সাবরাং ট্যুরিজম পার্কের নিচু এলাকা। প্রায় হাজার একর সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক ভরাটের কারণে ঝুঁকিতে পড়েছে শাহপরীর দ্বীপের পর্যটন জেটিসহ এলাকাটি। বালু উত্তোলনের কারণে জেটির খুঁটির আশেপাশে দেবে যাচ্ছে। ফলে জেটির রেলিংসহ বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ছে। ভবিষ্যতে পুরো গ্রামটি ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। যদিও বিগত সরকারের সময় বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছিল স্থানীয় লোকজন। উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সেন্টমার্টিনে পর্যটকসহ জেলেদের নৌযান এবং মিয়ানমারের পশু করিডোর সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) ২ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫৫০ মিটার লম্বা জেটিটি নির্মাণ করে। এ জেটিতে বিশ্রামাগার, শৌচাগার ও চারটি সিঁড়ি রয়েছে। এছাড়াও জেটি ব্যবহারকারীদের সুবিধার্থে জেটিটির পাশে রাখা হয়েছে গাড়ি পার্কিং স্পট। জেটিটি ২০০৪ সালে কঙবাজার জেলা পরিষদকে হস্তান্তর করলে সেটি ২০০৬ সালে উদ্বোধন করে উম্মুক্ত করা হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টেকনাফ শহর থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে সীমান্ত সড়কের পূর্বে নাফনদীর বুকে নির্মিত হয়েছে জেটিটি। সেখানে পর্যটকদের পাশাপাপাশি মানুষের চলাচলে ভিড় রয়েছে। জেটির রেলিংসহ বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পাশাপাশি ভাঙা ঝুঁকিপূর্ণ জেটি দিয়ে চলাচল করছে পর্যটকসহ স্থানীয় লোকজন। জেটির মুখে দায়িত্ব পালন করছেন সীমান্তরক্ষী বিজিবির সদস্যরাও।
দ্বীপের বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিন জানান, বাংলাদেশ–মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা শাহপরীর দ্বীপের জেটি খুব গুরুত্বপূর্ণ হলেও ২০০৬ সালে জেটিটি উদ্বোধনের পর থেকে এ পর্যন্ত কোন সময় সংস্কার করতে দেখা যায়নি। জেটির ভয়াবহ অবস্থায় বাড়ছে ঝুঁকি। নাফনদীর বুকে গড়ে উঠা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থেকে পর্যটকরা বেড়াতে আসে এ জেটিতে। এছাড়া জেটি দিয়ে সেন্টমার্টিনও চলাচল করে থাকে। তাই এটি খুব দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজন। না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার সম্ভবনা রয়েছে।
শাহপরীর দ্বীপের ইউপি সদস্য আবদুস সালাম জানান, শাহপরীরদ্বীপ জেটিতে শত শত পর্যটকদের আনাগোনা রয়েছে। ফলে জেটিকেন্দ্রিক ব্যবসা–বাণিজ্যে জড়িয়ে আছে বিভিন্ন পেশাজীবী শত পরিবারের। এই জেটি ধসে পড়লে কষ্টে পড়বে পুরো দ্বীপবাসি। তাই সরকারের কাছে অুনরোধ করছি, দ্রুত এই জেটি সংস্কারের।
কঙবাজার জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল–মারুফ বলেন, শাহপরীর দ্বীপ জেটি সংস্কারের বিষয়ে এক বৈঠকে এলজিইডিকে একটি চিঠি পাঠানোর আলোচনা হয়েছে। চিঠি পাঠানো হলে, জেটি সংস্কারের বাজেট নির্ধারণ করে দেবে তারা। এরপর বলা যাবে জেটিটির সংস্কার করতে কী পরিমাণ ব্যয় হবে। তারপর আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
তবে টেকনাফ উপজেলা প্রকৌশল কর্মকর্তা রবিউল হোসাইন বলেন, ২ কোটি ১০ লাখ টাকায় নির্মিত শাহপরীর দ্বীপের জেটিটি জেলা পরিষদকে ২০০৪ সালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তখন থেকে জেটি সংস্কার ও দেখাশোনার দায়িত্ব তাদের।












