কৌশলে চেক চুরি করা হয়। এরপর চেকে জাল স্বাক্ষর করে সাবেক শাশুড়ি জাহিদা বেগমের বিরুদ্ধে নালিশি মামলা করে দেন জামাই হারুন–অর–রশিদ। সিআইডির ফরেনসিক রিপোর্টে জালিয়াতির এ ঘটনা ধরা পড়ার পর খালাস পেয়েছেন জাহিদা বেগম। পাশাপাশি চেক জালিয়াতি ও মিথ্যা মামলা করার অভিযোগে হারুন–অর–রশিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল চট্টগ্রামের ১ম যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ কায়সার এ রায় ঘোষণা করেন। এসময় বাদী ও আসামি পক্ষ কেউ উপস্থিত ছিলেন না।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোশাররফ হোসেন বাবু দৈনিক আজাদীকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, নেগোসিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট এ্যাক্ট ১৮৮১ সালের ১৩৮ ধারায় দায়ের করা মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় আদালত ১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য রেকর্ড করেছেন। আসামি পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিয়েছেন ২ জন। চেকের টাকার পরিমাণ হচ্ছে ১০ লাখ টাকা।
রায়ে আদালত আসামি জাহিদা বেগমকে খালাস দিয়েছেন উল্লেখ করে বেঞ্চ সহকারী বলেন, আনীত অভিযোগ সন্দহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় বিচারক আসামিকে এ খালাস দিয়েছেন। সিআইডির ফরেনসিক রিপোর্টের ভিত্তিতে আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট চেকের সাক্ষর জাল। এছাড়া আদালতের কাছে আরো প্রতীয়মান হয়েছে যে, বাদী হারুন–অর–রশিদ তার সাবেক শাশুড়ির জাহিদা বেগমের চেক কৌশলে চুরি করেছেন। চেক জালিয়াতি ও মিথ্যা মামলা করা দণ্ডনীয় অপরাধ। যার কারণে আদালত বাদী হারুন–অর–রশিদের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করা হবে বলেও জানান তিনি। আদালতসূত্র জানায়, ২০২০ সালের ১৩ অক্টোবর খুলশী থানাধীন পাহাড়তলী এলাকার বাসিন্দা হারুন–অর–রশিদ চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার সাবেক শাশুড়ি ও নগরীর আকবরশাহ থানাধীন বাদামতল এলাকার বাসিন্দা জাহিদা বেগমের বিরুদ্ধে নালিশি মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় হারুন–অর–রশিদ নিজেকে চাকরিজীবী ও অংশীদার ব্যবসায়ী বলে পরিচয় দেন।
মামলার আরজিতে বলা হয়, আত্মীয়তার সম্পর্কের সূত্র ধরে জাহিদা বেগম চট্টগ্রাম শহরে জায়গা কেনার জন্য হারুন–অর–রশিদের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা হাওলাত হিসেবে গ্রহণ করেন। বিপরীতে জাহিদা বেগম ২০২০সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তাকে ১০ লাখ টাকার একটি চেক প্রদান করেন। পরবর্তীতে হারুন–অর–রশিদ উক্ত চেকটি নগদায়নের জন্য ব্যাংকে জমা দিলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অপর্যাপ্ত তহবিল উল্লেখ করে চেকটি ডিজঅর্নার করে দেয়। মামলার আরজিতে হারুন–অর–রশিদ আরো উল্লেখ করেন, চেকটি জিঅর্নার হওয়ার পর উল্লেখিত চেকের পাওনা টাকা দাবি করে। তিনি ২০২০ সালের ১৬ আগস্ট বিস্তারিত উল্লেখ করে আইনজীবীর মাধ্যমে জাহিদা বেগমকে একটি নোটিশ পাঠান। কিন্তু জাহিদা বেগম উক্ত নোটিশ গ্রহণ না করে কৌশলে এড়িয়ে যান।










