শামীমের ‘ওয়ান ম্যান শো’

স্পোর্টস ডেস্ক | শুক্রবার , ২ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৬:৪৫ পূর্বাহ্ণ

সিলেটের বিপক্ষে জয়ের জন্য ঢাকা ক্যাপিটালসের প্রয়োজন তখন ২১ বলে ৫৬ রান। তখন মূল কৌতূহল ছিল, ৩৭ রানে ক্রিজে থাকা শামীমের ফিফটি হবে কি না। সেই শামীম হোসেন পরের তিন ওভারে তাণ্ডব চালালেন ব্যাট হাতে। রিভার্স সুইপ, রিভার্স র‌্যাম্পসহ দারুণ সব শট খেললেন। প্রতিপক্ষের সেরা দুই বোলার আজমাতউল্লাহ ওমারজাই ও মোহাম্মাদ আমিরকে তুলাধুনা করলেন শেষ দুই ওভারে। ১৯তম ওভারে ওমারজাইয়ের ওভার থেকে এলো ১৮ রান। আমিরের করা শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ২৭ রানের। সেটিও নেমে এলো শেষ বলে ৭ রানের সমীকরণে। ছক্কা মারতে পারলে ম্যাচ গড়াবে সুপার ওভারে। ম্যাচের সেরা ডেলিভারিটি তখনই করলেন আমির। প্রায় নিখুঁত ইয়র্কার। শামীম স্রেফ ব্যাট পেতে দিলেন। কী আর করবেন! সিলেট টাইটান্স ম্যাচ জিতে নিল ৬ রানে। ৯ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৩ বলে ৮১ রানের অপরাজিত ইনিংস। তার ক্যারিয়ার সেরা পারফরম্যান্স। কিন্তু শেষটায় একটু খামতি। ওই শেষ ডেলিভারি নিয়ে তার কণ্ঠেও ফুটে উঠল অসহায়ত্ব। ‘ভালো বল করে ফেলেছে এক্সট্রা অর্ডিনারি বল করে ফেলছে। এটায় আমার কিছু করার ছিল না।’ শামীমের অসহায়ত্ব শুধু ওই শেষ ডেলিভারি নিয়েও নয়, সতীর্থদের ব্যর্থতা নিয়েও। কেউ একজন যদি তাকে সঙ্গ দিতে পারতেন, তাহলে তো ম্যাচ শেষ বল পর্যন্ত গড়াতই না। ঢাকা জিতে যেত আগেই।

ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে লিটনের প্রসঙ্গও আসে। গত অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শামীমকে প্রবলভাবে সমর্থন করেছিলেন অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। শামীম বললেন, অধিনায়কের সেই সমর্থন তাকে প্রেরণা জুগিয়েছে। ‘অবশ্যই প্রথমে লিটন ভাইকে ধন্যবাদ দেব। উনি আমার ওপর অনেক বিশ্বাস রেখেছেন। আগে আমি ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলেছি, এ কারণেই হয়তো (ভরসা রেখেছেন)। একজন ক্রিকেটারের প্লেয়ারের দুইতিন ম্যাচ খারাপ হতেই পারে। আমি মনে করি এটা কোনো ব্যাপার না।’ ‘তখন যদি একটু ব্যাক আপ দেয়, পাশে থাকে, ভালো সাপোর্ট দেয়, অবশ্যই ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়ানো যায়।’

গতকাল ম্যাচের পর ঢাকার অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন অকপটেই তুলে ধরলেন নিজের ব্যর্থতা আর কৃতিত্ব দিলেন শামীমকে। ‘অসাধারণ ইনিংস ছিল। আমরা জানি, শামীমের সামর্থ্য কেমন। এটা স্রেফ ‘ওয়ান ম্যান শো’ ছিল। আমাদের ব্যাটিংয়ের কথা বললে, কেবল শামীমই টিকে ছিল। অন্য কেউ তার পাশে থাকতে পারলে ভিন্ন ফল হতে পারত।’ সেই একই আক্ষেপ শামীমের কণ্ঠেও। নিজের ওপর বিশ্বাসের কমতি ছিল না তার। কিন্তু উপযুক্ত একজন সঙ্গী না পাওয়ার আফসোসও করলেন। ‘ম্যাচ হেরে গেলে তো অবশ্যই আফসোস থাকে। বিশ্বাস ছিল যে, যতক্ষণ পর্যন্ত থাকব নিজের উপরে বিশ্বাস ছিল যে পারব। যদি কেউ একটু সাপোর্ট করত, তাহলে সহজেই আমি মনে করি উইকেট অনেক ভালো ছিল। সহজেই ম্যাচটা বের হয়ে যেত।’

পূর্ববর্তী নিবন্ধটানা তিন ম্যাচ জিতে এবার হার দেখলো রিশাদের হোবার্ট
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামকে হারিয়ে চাঁদপুর চ্যাম্পিয়ন