ভালো–মন্দ মিলিয়েই কেটে গেল আরেকটি বছর। কিন্তু বছরজুড়ে ছিল এক ধরনের অজানা উৎকণ্ঠা। মনে হচ্ছিল, মানুষ ক্লান্ত। প্রকৃতিও ক্লান্ত। বিবেকহীন আচরণে মানবতা যেন প্রতিদিন একটু একটু করে হারিয়ে যাচ্ছে। মন্দের দিকটাই যেন চোখে পড়ছে বেশি। ভালো থাকলেও তা চাপা পড়ে যাচ্ছে। আজ সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকাটাই অনেক সময় কঠিন মনে হয়। আমরা এমন এক সমাজের দিকে এগোচ্ছি, যেখানে সততা আর মানবিকতা আর প্রথম পছন্দ নয়। অহিংসা ও সহমর্মিতা চর্চার আগ্রহ কমে যাচ্ছে। প্রবীণ হোক বা নবীন–সবার মধ্যেই এক ধরনের অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। তার প্রভাব পড়ছে সম্পর্কের উপর। পড়ছে অর্থনীতিতে, পড়ছে মূল্যবোধে। রাজনৈতিক বাস্তবতাও আশাব্যঞ্জক নয়। অনিরাপত্তা আছে। আছে অব্যবস্থাপনা। অনিয়ম আর স্বেচ্ছাচারিতা যেন স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। সমাজ ও রাষ্ট্রের কাঠামোতে তার ছাপ স্পষ্ট। এই অস্থিরতা শুধু শীর্ষে নয়।
রাস্তায়, বাজারে, অফিসে, আদালতে, স্কুলে, বিশ্ববিদ্যালয়ে–সব জায়গাতেই নিয়ম আর নৈতিকতার ঘাটতি চোখে পড়ে। মানুষ যেন ধীরে ধীরে সহনশীলতা হারাচ্ছে। তবুও প্রশ্ন থেকেই যায়–এই পথচলার কি কোনো শেষ নেই? মিথ্যা, দুর্নীতি আর হানাহানির বাইরে কি আমরা নতুন কিছু ভাবতে পারি না? আমরা তো বাঙালি। ইতিহাস বলে, আমরা পারি। আমাদের রক্তে আছে মুক্তির স্বাদ। ‘সংসার সাগরে দুঃখ তরঙ্গের খেলা, আশা তার একমাত্র ভেলা।’ এই আশাই আমাদের টিকিয়ে রাখে। আশা থেকেই আসে আকাঙ্ক্ষা। আর আকাঙ্ক্ষা থেকেই জন্ম নেয় পরিবর্তনের ইচ্ছা। নতুন বছরে যদি আমরা অশুভকে পরিহার করে শুভকে আঁকড়ে ধরি, তবে পথ বদলানো সম্ভব। নতুন প্রজন্ম যদি প্রবীণদের গড়া ভিত্তিকে সম্মান করে সামনে এগোয়, তবে সেই পথ আরও মজবুত হয়। অভিজ্ঞতাকে ভেঙে ফেলার দরকার নেই। তাকে কাজে লাগানো দরকার। নতুন চিন্তা, নতুন মেধা আর শৃঙ্খলার সঙ্গে মিলিয়ে এগোতে পারলেই সমাজ বদলায়। আমাদের তরুণদের স্বপ্ন বড় হওয়া উচিত। এই দেশ যেন মানুষের জন্য নিরাপদ হয়। যেন ভরসার জায়গা হয়। যেন মাথা উঁচু করে বলা যায় এটাই আমার দেশ। হানাহানি নয়। যুদ্ধ নয়। চাই শান্তি। চাই সহমর্মিতা। চাই পারস্পরিক শ্রদ্ধা। চাই নৈতিকতা। এইভাবেই গড়ে উঠতে পারে আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ।
সবার কামনা একটাই– শান্তির বাতায়নে কলুষমুক্ত হোক ২০২৬। সবার জীবন হোক সুস্থ, নিরাপদ ও মঙ্গলময়।
লেখক : প্রাবন্ধিক, শিক্ষক।











