শান্তিতে নোবেল দেয়নি নরওয়ে, তাই আর শান্তি নিয়ে ভাবতে চান না ট্রাম্প

| মঙ্গলবার , ২০ জানুয়ারি, ২০২৬ at ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ

আটটিরও বেশি যুদ্ধ থামানোর পরও নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, এই পুরস্কার না পাওয়ায় এখন আর কেবল শান্তি নিয়ে ভাবার কোনও বাধ্যবাধকতা তিনি অনুভব করছেন না। এর বদলে এখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যা ভালো ও সঠিক তা নিয়েই ভাববেন।

নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোরকে পাঠানো এক বার্তায় ট্রাম্প এই মনোভাব ব্যক্ত করেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ এই বার্তার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

বার্তায় ট্রাম্প লিখেছেন, যেহেতু আপনাদের দেশ আটটির বেশি যুদ্ধ থামানোর পরও আমাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাই আমি আর কেবল শান্তির কথা ভেবে চলার বাধ্যবাধকতা অনুভব করছি না। যদিও শান্তি সবসময়ই প্রধান বিষয় হিসেবেই থাকবে। কিন্তু এখন আমি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যা ভালো ও সঠিক তা নিয়ে ভাবতে পারি। এরপরই তিনি গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গ টেনে বলেন, যতক্ষণ না গ্রিনল্যান্ডের ওপর আমাদের পূর্ণ ও নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ আসছে, ততক্ষণ এই বিশ্ব নিরাপদ নয়। খবর বিডিনিউজের।

সমপ্রতি গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ না পেলে নেটোভুক্ত কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের ওপর শুল্ক আরোপ এবং তা বাড়ানোর হুমকি দিয়ে নেটো মিত্রদেশগুলোকে উদ্বিগ্ন করে তোলেন ট্রাম্প। রোববার ট্রাম্পের এই হুমকির বিরোধিতা করে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী এবং ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বার্তা পাঠান। সেই বার্তার জবাবেই ট্রাম্প ওই কড়া প্রতিক্রিয়া দেখান।

এ বিষয়ে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী স্টোর এক বিবৃতিতে বলেন, এটি সবাই জানে যে নোবেল পুরস্কারটি নরওয়ে সরকার নয়, একটি স্বাধীন নোবেল কমিটি দেয়।

ট্রাম্প এর আগে তার নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার আকাঙ্খার কথা প্রকাশ্যেই বলেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত তা না পাওয়ার ক্ষোভ তাকে কুরেকুরে খাচ্ছে। আর এ কারণেই ট্রাম্পের রুদ্রমূর্তি দেখছে বিশ্ব। ট্রাম্প দাবি করেছেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ড দখল করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য জরুরি। সম্পদসমৃদ্ধ এই দ্বীপটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শনাক্ত করার জন্য অত্যন্ত কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে।

তিনি ডেনমার্কের কাছ থেকে এটি কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন এবং প্রয়োজনে নেটোর সদস্য রাষ্ট্র হওয়ার পরও ডেনমার্কের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, আটটি নেটো মিত্র দেশ যদি তার এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করে, তবে ফেব্রুয়ারি থেকে তাদের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে, যা জুন নাগাদ ২৫ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।

নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো বার্তায় ট্রাম্প ডেনমার্কের মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, রাশিয়া বা চীনের হাত থেকে ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডকে রক্ষা করতে পারবে না। তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ডের ওপর তাদের (ডেনমার্ক) মালিকানার অধিকার কেন থাকবে? এ নিয়ে কোনও লিখিত দলিল নেই। কয়েক শ’ বছর আগে একটি নৌকা সেখানে ভিড়েছিল বলেই কি মালিকানা হয়ে যায়? আমাদের নৌকাও তো সেখানে ভিড়েছিল।

তিনি আরও বলেন, নেটো প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিনি এই জোটের জন্য অন্য যে কারও চেয়ে বেশি কাজ করেছেন এবং এখন নেটোর উচিত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কিছু করা। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সোমবার বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ কী হবে তা নির্ধারণের অধিকার কেবল ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের। মিত্রদের ওপর শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে তিনি ভুল বলে অভিহিত করেছেন।

এদিকে, গত বছর ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর ‘আটটি যুদ্ধ থামানোর’ দাবি করলেও নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন ভেনিজুয়েলার বিরোধী দলীয় নেতা মারিয়া করিনা মাচাদো। গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউজে মাচাদো ট্রাম্পের সাথে দেখা করে তাকে নিজের মেডেলটি দিয়ে দেন। তবে নোবেল ফাউন্ডেশন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই পুরস্কারের পদক হাতবদল হলেও স্বীকৃতি থেকে যায় প্রকৃত বিজয়ীরই।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসমাবেশে বক্তব্যের মধ্যেই কুষ্টিয়ায় জামায়াত নেতার মৃত্যু
পরবর্তী নিবন্ধসিদ্ধান্ত জানাতে আইসিসি তারিখ বেঁধে দেয়নি, দাবি বিসিবির