খাগড়াছড়ির বিভিন্ন ঝরনা শরতে ছড়িয়ে দিচ্ছে মুগ্ধতা। কিন্তু পাহাড়ি দুর্গম এলাকা হওয়ায় পর্যটকদের তেমন উপস্থিতি নেই। যাতায়াত ব্যবস্থা ও আবাসনের ভালো উদ্যোগ নেওয়া হলে পাহাড়ে ঝরনা কেন্দ্রীক পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে, বলছেন এ খাতের সংশ্লিষ্টরা। সেই সঙ্গে পর্যটক সমাগম বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
চারপাশে উঁচু–নিচু পাহাড়, সবুজ প্রকৃতি আর ঝরনার শীতল পানি। পথের সব ক্লান্তি ভুলিয়ে– দেয় পরম শান্তির আবেশ। পর্যটকদের কাছে তাই জনপ্রিয় ও আকর্ষণীয় গন্তব্যের একটি খাগড়াছড়ির রিছাং ঝরনা। জেলায় সিজক তৈদুছড়া, শিলাছড়ি, তুয়ারি মাইরাংসহ ছোট–বড় ১০টি ঝরনা আছে। এক একটির উচ্চতা ৮০ থেকে ১৫০ ফুট পর্যন্ত। তবে দুর্গম অঞ্চল হওয়ায় এসব ঝরনায় পৌঁছানো সাধারণ পর্যটকদের জন্য বেশ কঠিন।
রিছাং ঝরনায় বেড়াতে আসা পর্যটক নারায়ণগঞ্জের আজিজুল, কুষ্টিয়ার আনিস মাহমুদ ও রিফাত শাহরিয়ার বলেন, খাগড়াছড়িতে বেশ কয়েকটি বড় বড় ঝরনা রয়েছে। তবে যাতায়াতের পথ ঝুঁকিপূর্ণ। তবে ঝরনার কাছে এলে যে কোনো পর্যটক মুগ্ধ হবেন। রিছাং ঝরনায় এসে আমাদের খুব ভালো লাগছে। এখানে এসে তৈদুছড়া, তৈছামাসহ বেশকিছু ঝরনার নাম শুনেছি। যাওয়ার আগ্রহ আছে। কিন্তু যাতায়াতের সড়ক না থাকায় যেতে পারছি না। ঝরনা কেন্দ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি হলে সহজেই পর্যটকরা ভ্রমণ করতে পারবে।
খাগড়াছড়ি পর্যটন মোটেলের তত্ত্বাবধায়ক উত্তম কুমার মজুদার বলেন, খাগড়াছড়ির দৃষ্টিনন্দন ঝরনার সৌন্দর্য সারা দেশের পর্যটকদের টানলেও যাতায়াত ও আবাসনের ভালো ব্যবস্থা না থাকায় পিছিয়ে পড়ছে। ঝরনা ঘিরে পর্যটন গড়ে উঠলে জেলার পর্যটন অর্থনীতি বিকশিত হবে। এতে ট্যুরিস্ট গাইডসহ স্থানীয়দের কর্মসংস্থান হবে।
এদিকে নতুন ঝরনায় যাতায়াতের জন্য প্রকল্প হাতে নিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড। এছাড়া তৈদুছড়া ঝরনায় যাতায়াতের জন্য সড়ক নির্মাণ প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন। খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার বলেন, ঝরনায় পর্যটকদের যাতায়াতের জন্য অবকাঠামো নির্মাণের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে। এরইমধ্যে রিছাং ঝরনায় যাতায়াতের জন্য পাকা সড়ক নির্মিত হয়েছে। তৈদুছড়া যাতায়াতের জন্য সড়ক নির্মাণের প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন ঝরনায় বেড়াতে আসেন ৫০ হাজারের বেশি পর্যটক।












