বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের প্রায় দেড় কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। তার বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এই রাজনীতিকের বিরুদ্ধে ৩৪টি মামলা ছিল। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতাগ্রহণের পর এসব মামলার সিংহভাগ থেকেই রেহাই পেয়েছেন তিনি। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–১৫ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় সঙ্গে দেওয়া হলফনামায় এসব তথ্য মিলেছে।
টানা তৃতীয় মেয়াদে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের দায়িত্ব পাওয়া শফিকুর রহমান সোমবার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তার জন্মস্থান মৌলভীবাজারের কুলাউড়া। তিনি ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে অংশ নিয়েছিলেন। দশম সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল থাকায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট করার সুযোগ ছিল না। অন্তর্বর্তীকাল সরকারের সময়ে প্রতীকসহ জামায়াতের নিবন্ধন পুনর্বহাল হয়। এবার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতের প্রার্থীরা ভোটে রয়েছে।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় হলফনামায় প্রার্থীর ১০ ধরনের তথ্য দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে; ইতোমধ্যে হলফনামা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। হলফনামায় অসত্য তথ্য প্রমাণিত হলে ভোটের পরেও সদস্য পদ বাতিলের ব্যবস্থা রয়েছে আইনে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী হতে আড়াই সহস্রাধিক মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এরমধ্যে অর্ধশত দলের দুই সহস্রাধিক নেতা রয়েছেন। আর বাকিরা স্বতন্ত্র। খবর বিডিনিউজের।
জামায়াতের ২৭৬ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বাছাই, আপিল ও নিষ্পত্তি শেষে প্রার্থিতা চূড়ান্ত হবে ২০ জানুয়ারি; পরদিন তাদের প্রতীক দেবেন রিটার্নিং অফিসার। ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন হবে, একই দিন গণভোটও রয়েছে।
আয় ও আয়করের তথ্য
হলফনামায় দেওয়া জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের আয়কর বিবরণীর তথ্য অনুযায়ী, স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে তার সম্পদের পরিমাণ মোট ১ কোটি ৪৯ লাখ ৯৯ হাজার ৪৭৪ টাকা। ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরে আয়ের পরিমাণ ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তিনি এবার ৩০ হাজার টাকা আয়কর দিয়েছেন। কৃষিখাত থেকে ৩ লাখ টাকা ও অন্য উৎস থেকে ৬০ হাজার টাকা আয় করেছেন তিনি।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে কৃষি জমি রয়েছে ২১৭ শতক, যার অর্জনকালীন মূল্য ১৭ লাখ ৭১ হাজার টাকা। অকৃষি ১৩ শতক জমির অর্জনকালীন মূল্য ২ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩৪ টাকা। ১১ দশমকি ৭৭ শতকের ডুপ্লেঙ বাড়ি রয়েছে শফিকুর রহমানের; অধিগ্রহণকালে যার মূল ছিল ২৭ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ৪৭ লাখ ২৫ লাখ ৮৩৪ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে জামায়াত আমিরের।
অস্থাবর সম্পদের মধ্যে জামায়াত আমিরের নগদ রয়েছে ৬০ লাখ ৭৬ হাজার ৪৯৭ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ৪ লাখ ৯০ হাজার ২৬৩ টাকা। তার বন্ড, ঋণপত্র স্টক, এঙচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয়, এমন কোম্পানির শেয়ার রয়েছে ২৭ লাখ ১৬ হাজার ৮৮০ টাকার।
শফিকুর রহমানের রয়েছে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা দামের গাড়ি ও ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, যার অর্জনকালীন দাম ১ লাখ টাকা। রয়েছে ২ লাখ টাকার ইলেকট্রনিকসামগ্রী ও ২ লাখ ৪০ হাজার টাকার আসবাব। সব মিলিয়ে তার অস্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য এক কোটি ২ লাখ ৭৩ হাজার ৬৪০ টাকা।
তিন সন্তানের আয়ের তথ্যও তুলে ধরেছেন জামায়াত আমির। তাদের মধ্যে এক মেয়ে সালওয়া সাফীর সম্পদ রয়েছে ৫ লাখ টাকার; আরেক মেয়ে সাবরীন রাদী সম্পদের পরিমাণ ১৭ লাখ ৭৫ হাজার ১৭৯ টাকা। তিনি ২৫ হাজার ১৭৯ টাকা আয়ের বিপরীতে আয়কর দিয়েছেন ৩ হাজার ৭৯৯ টাকা। ছেলে রাফাত সাদিক সাইফুল্লাহ গত অর্থবছরে আয় করেছেন ৬৬ হাজার ৬৬৭ টাকা; তার সম্পদ রয়েছে ৩০ হাজার টাকার।
মামলা থেকে রেহাই
জামায়াত আমির ৩৪টি মামলার তথ্য হলফনামায় দিয়েছেন। এগুলোর মধ্যে বর্তমানে দুটি ফৌজদারি মামলা হাইকোর্টে স্থগিত রয়েছে। এছাড়া ২০০৮, ২০১০, ২০১১, ২০১২, ২০১৩, ২০২৭ ও ২০২২ সালে দায়ের করা ৩২টি মামলার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ২০১৭ ও ২০২১ সালে সিলেটে দুটি মামলায় অব্যাহতি পান তিনি। আর ২০২৪ ও ২০২৫ সালে প্রত্যাহার, অব্যাহতি ও খালাস পাওয়া জামায়াত আমিরের মামলার সংখ্যা ৩০।
হলফনামার আরও তথ্য
৬৭ বছর বয়সী শফিকুর রহমানের জন্ম মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায়, বাবা আবরু মিয়া ও মা খাতিবুন্নেছা। জামায়াত আমির হলফনামায় বলেছেন, তার বর্তমান পেশা চিকিৎসক, আর স্ত্রী আমেনা বেগম গৃহিনী, যিনি অষ্টম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের সদস্য ছিলেন। সিলেট শহরে স্থায়ী ঠিকানা হলেও বর্তমানে মিরপুর বড়বাগের বাসিন্দা তিনি।
জামায়াতের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শফিকুর রহমানের জন্ম ১৯৫৮ সালের ৩১ অক্টোবর। ১৯৭৪ সালে কুলাউড়ার স্থানীয় বরমচাল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৭৬ সালে সিলেট এমসি কলেজ এইচএসসি পাস করেন। এরপর ১৯৮৩ সালে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করে তিনি।
রাজনীতিতে তার হাতেখড়ি স্কুল জীবনেই, ১৯৭৩ সালে নাম লেখান জাসদ ছাত্রলীগে। এরপর ১৯৭৭ সালে যোগ দেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরে। এই সংগঠনের সিলেট মেডিকেল কলেজ শাখার সভাপতি এবং সিলেট শহর শাখার সভাপতির দয়িত্ব পালন শেষে ১৯৮৪ সালে যোগ দেন মূল দল জামায়াতে ইসলামীতে।












