শফিউল আলমের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ অনুষ্ঠান

| বৃহস্পতিবার , ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৫:২২ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম-১১ সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১১ দল সমর্থিত প্রার্থী জননেতা মোহাম্মদ শফিউল আলমের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ অনুষ্ঠান আজ বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নগরীর আগ্রাবাদে একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, শফিউল আলম একজন সৎ, যোগ্য ও জনবান্ধব নেতৃত্বের প্রতীক। ঘোষিত ইশতেহারে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার, ন্যায়বিচার, সুশাসন ও এলাকার টেকসই উন্নয়নের সুস্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নগর জামায়াতের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও চট্টগ্রাম-১১ আসনের পরিচালক মুহাম্মদ উল্লাহ, নগর কর্মপরিষদ সদস্য মাহমুদুল আলম, অধ্যক্ষ মাওলানা জাকের হোসাইন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের চট্টগ্রাম মহানগরী সেক্রেটারি আবু তালেব, সদরঘাট থানা জামায়াতের আমীর ও আসন সদস্য সচিব এম এ গফুর, এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুন।

নগর আমীর বলেন, শফিউল আলমের নির্বাচনী ইশতেহার চট্টগ্রাম-১১ আসনের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে বাস্তবসম্মত ও জনআকাঙ্ক্ষাভিত্তিক। তাঁরা জনগণকে আগামী নির্বাচনে শফিউল আলমের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সমর্থন জানানোর আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে প্রার্থী মোহাম্মদ শফিউল আলম তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনে জয়ী হলে চট্টগ্রাম-১১ আসনের সার্বিক উন্নয়ন ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নে তিনি ১২টি বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন। এসব পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে—সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শ্রমিক ও নিম্নআয়ের মানুষের অধিকার সংরক্ষণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, নারী ও যুব সমাজের ক্ষমতায়ন, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন। তিনি এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এলাকাবাসীর দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।

নির্বাচনী ইশতেহার : শফিউল আলমের ১২ দফা পরিকল্পনা

*১. প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসান ও সহাবস্থানের সমাজ*
চট্টগ্রাম-১১ সংসদীয় আসনে দাঁড়িপাল্লা বিজয়ী হলে প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ করা হবে। সকল দল ও মতের মানুষের সহাবস্থানে একটি উদার, মানবিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা হবে।

*২. বন্দর–ইপিজেড অঞ্চলে ১০০০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল*
বন্দর ও ইপিজেড এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সরকারি উদ্যোগে ন্যূনতম ১০০০ শয্যা বিশিষ্ট (পর্যায়ক্রমে) একটি বিশেষায়িত আধুনিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হবে।

*৩. বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন*
চট্টগ্রাম-১১ আসনের বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে। আইটি ট্রেনিং সেন্টার, কারিগরি ইনস্টিটিউট ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হবে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রায় ৪ হাজার শূন্য পদ পূরণে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

*৪. চাঁদাবাজমুক্ত সংসদীয় আসন গঠন*
আইনের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে চট্টগ্রাম-১১ আসনকে সম্পূর্ণ চাঁদাবাজমুক্ত করা হবে। ব্যবসায়ী, অটোরিকশা চালক, টমটম চালক, হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাউকে চাঁদা দিতে হবে না। ট্যাক্সি স্ট্যান্ড, টেম্পু স্ট্যান্ড ও নদীর ঘাট হবে চাঁদাবাজমুক্ত। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় চাঁদাবাজি, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের শিকড় উপড়ে ফেলা হবে।

*৫. সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা*
হিন্দু, মুসলিমসহ সকল ধর্মের নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে। অমুসলিম ও উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষা করা হবে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দাহ ও শেষকৃত্য সাশ্রয়ী করতে সরকারি অর্থায়নে শ্মশান আধুনিকায়ন করা হবে। দরিদ্র জেলে সম্প্রদায়ের নিরাপদ মৎস্য আহরণ ও বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করা হবে।

*৬. যানজট নিরসনে আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থা*
ডিজিটালাইজড ট্রাফিক সিস্টেম ও সেন্ট্রাল ট্রাফিক কন্ট্রোল সিস্টেম প্রতিষ্ঠা করা হবে। সল্টগোলা ক্রসিংসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে জমি অধিগ্রহণ করে সড়ক প্রশস্ত করা হবে। আউটার রিং রোডের কান্ট্রিসাইডে সার্ভিস রোড নির্মাণ করা হবে।

*৭. নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও নারী-বান্ধব পরিবেশ*
ইপিজেড ও শিল্প এলাকায় কর্মরত নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও নারী-বান্ধব সকল সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। নারী নিরাপত্তা ও শিশুশ্রম রোধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ করা হবে।

*৮. পতেঙ্গা পর্যটন এলাকা উন্নয়ন ও পুনর্বাসন*
পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত, আউটার রিং রোড ও সৈকত সংলগ্ন এলাকাকে বিশ্বমানের পর্যটন ও বিনোদন স্পট হিসেবে গড়ে তোলা হবে। উন্নয়নের নামে স্থানীয় মানুষকে উচ্ছেদ করা হবে না। ক্ষতিগ্রস্ত হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন করা হবে।

*৯. অস্থানীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য কবরস্থান*
চট্টগ্রাম-১১ আসনে বসবাসরত অন্যান্য জেলার অস্থানীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ২টি কবরস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।

*১০. সুপেয় পানির সংকট নিরসন*
পতেঙ্গা, ইপিজেড ও বন্দর এলাকায় সুপেয় পানির সংকট দূর করতে চট্টগ্রাম ওয়াসার সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিক পানিশোধনাগার স্থাপন করা হবে।

*১১. জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিচ্ছন্ন নগর*
সিটি কর্পোরেশন, সিডিএ, বন্দর ও ইপিজেড কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয়ে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, স্লুইস গেট ও পাম্প স্থাপন করা হবে। ডোর-টু-ডোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অবৈধ অর্থ আদায় বন্ধ করা হবে।

*১২. ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন*
সিডিএ, ওয়াসা, বন্দরসহ বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে। লালদিয়ার চর থেকে উচ্ছেদকৃত স্থায়ী বাসিন্দাদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হবে। এনসিটি প্রকল্পে অধিগৃহীত জমির মালিকদের নিউমুরিং আবাসিক এলাকায় বরাদ্দপ্রাপ্ত জমির বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচন্দনাইশে ৩শ ৪৫ জন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ আটক