নারী জীবনে শৈশবকাল থেকেই বাধা ও নিষেধাজ্ঞার দেয়াল তুলে দেওয়া হয়। কোথাও যাওয়া যাবে না, বাইরে খেলাধুলা করা যাবে না, স্বাধীনভাবে কারও সঙ্গে মিশতে পারবে না। এসব নিষেধের মধ্য দিয়েই একজন মেয়ের বেড়ে ওঠা। তবু শত প্রতিবন্ধকতার মাঝেও নারীরা আজ শিক্ষায়, কর্মক্ষেত্রে, প্রশাসনে ও নেতৃত্বে নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছে।
রাষ্ট্রের মোট জনগোষ্ঠীর অর্ধেক যখন নারী, তখন এই ৫০ শতাংশ মানুষকে ঘরের চার দেয়ালে আটকে রেখে কি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখা সম্ভব? নারীকে বাদ দিয়ে উন্নয়ন এ কেবল কল্পনাতীত।
এতদিন নারীরা তিলে তিলে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে পুরুষের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নিজেদের মেধা ও মননের পরিচয় দিয়েছেন। জাতীয় আয়ে প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করেছেন, পরিবার–সমাজ–রাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এমনকি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদে গিয়ে যোগ্যতার প্রমাণও রেখেছেন। সেই দেশেই আজ নারীর জন্য নতুন করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে এ এক ভয়ংকর পশ্চাৎপদ মনোভাব। নারী বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী নারীরা কঠোর পরিশ্রমী, নিষ্ঠাবান ও দায়িত্বশীল। নারী দায়িত্বে অবহেলা করেন না, সৎ পথে চলেন, নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবার ও সমাজকে এগিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর। বিদ্যা, বুদ্ধি, সততা ও দায়িত্ববোধে বহু ক্ষেত্রেই নারীরা পুরুষের চেয়ে এগিয়ে এ কথা বাস্তব ও প্রমাণিত সত্য।
একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে নারীর প্রতিনিধিত্ব করার সাংবিধানিক ও নৈতিক অধিকার থাকা সত্ত্বেও কেন তাকে বঞ্চিত করা হবে? স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর এসেও যদি আমরা আবার নারী স্বাধীনতা থেকে পিছিয়ে যাই, তবে তা কেবল দুঃখজনক নয় চরম অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিপজ্জনক।
নারীর অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেওয়া মানেই রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দেওয়া এ সত্য অস্বীকার করার কারো সুযোগ নেই। নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হওয়া সময়ের দাবী। নারীর জয় হোক। জয়তু নারী।












