শক্তির রাজনীতি ও আগ্রাসনের ছায়া

মুহাম্মদ এনামুল হক মিঠু | শনিবার , ১৪ মার্চ, ২০২৬ at ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ

বিশ্বরাজনীতি আবারও উত্তপ্ত। ইরানকে ঘিরে সামপ্রতিক উত্তেজনা কেবল একটি রাষ্ট্রের সংকট নয়, বরং এটি শক্তির রাজনীতি, আন্তর্জাতিক আইন ও বৈশ্বিক নৈতিকতার পরীক্ষাক্ষেত্র। মধ্যপ্রাচ্য দীর্ঘদিন ধরেই ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার কেন্দ্র তেল, গ্যাস ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এই অঞ্চলে সক্রিয় শক্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অন্যদিকে রাশিয়া ও চীনএর উপস্থিতি বিশ্বকে বহুমেরু বাস্তবতায় নিয়ে গেছে, যেখানে সরাসরি যুদ্ধের পাশাপাশি ‘প্রক্সি’ সংঘর্ষও বাড়ছে।

দক্ষিণ এশিয়াও এ সমীকরণের বাইরে নয়। পাকিস্তান ও আফগানিস্তান দীর্ঘদিন ধরে ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্র। বঙ্গোপসাগর ঘিরে বাণিজ্যপথ ও কৌশলগত অবস্থান ভবিষ্যৎ শক্তির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য তাই প্রয়োজন ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি, অর্থনৈতিক স্বনিভর্রতা ও অভ্যন্তরীণ ঐক্য। কারণ সাম্রাজ্যবাদ কেবল অস্ত্রের মাধ্যমে নয়, অর্থনৈতিক চাপ, নিষেধাজ্ঞা ও তথ্যযুদ্ধের মাধ্যমেও প্রকাশ পায়।

আজকের প্রশ্ন “এরপর কে?”

এর উত্তর নির্ভর করছে শুধু শক্তিধর রাষ্ট্রের কৌশলের ওপর নয়, বরং ছোট ও মাঝারি শক্তির দেশগুলো কতটা প্রাজ্ঞ, ঐক্যবদ্ধ ও দূরদর্শী হতে পারে তার উপর।

এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধঅপসংস্কৃতি রোধ করা হোক
পরবর্তী নিবন্ধভালোবাসা নয়, অবহেলা