কর্ণফূলীতে ডুব দিয়ে লোহার যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করেই জীবন চলতো মিরাদের (৩৩)। প্রতিদিনের মত গতকালও সকাল সাড়ে ৮টায় নগরীর অভয়মিত্র ঘাটে কর্ণফুলী নদীতে নামেন মিরাদ এবং তার আর এক সহযোগী। প্রতিদিন ডুব দিয়ে লোহার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নিয়ে পানি থেকে কিছুক্ষণ পরপর উঠে আসলেও গতকাল তার বন্ধু রায়হান উঠে এলেও মিরাদ আর উঠে আসেননি।
দীর্ঘক্ষণ পানি থেকে না উঠায় মিরাদের সহযোগীসহ আশপাশের লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজি করে শেষ পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিন দফা মিরাদের খোঁজে কর্ণফুলী নদীর অভয়মিত্র ঘাট সহ আশপাশের পুরো এলাকা খুঁজেও কোনো সন্ধান পায়নি।
এদিকে মিরাদের ছোট দুই কন্যা ও এক ছেলেকে নিয়ে তার স্ত্রী গতকাল সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নদীর অভিয়মিত্র ঘাটে স্বামীর অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। স্বামীকে হারিয়ে ছোট দুই কন্যা ও এক ছেলেকে নিয়ে কোথায় যাবেন–অনিশ্চিত জীবনের ছাপ চোখে–মুখে গ্রাস করছিল মিরাদের স্ত্রীকে। তিনি জানান, তাদের বাড়ি ভোলা। তারা নগরীর ফিরিঙ্গী বাজার এলাকায় থাকতেন। তিন ছেলে মেয়েকে নিয়ে সুখেরই সংসার ছিল তাদের।