ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির মধ্যে লেবাননজুড়ে নতুন দফায় তুমুল বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। লেবাননের রাজধানী বৈরুত, বেকা ভ্যালি এবং দক্ষিণ লেবাননজুড়ে ১০ মিনিটের ব্যবধানে অন্তত ১০০ হিজবুল্লাহ কমান্ড সেন্টার ও অন্যান্য সামরিক অবকাঠামোয় বোমা হামলা চালানো হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফ। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলের হামলায় কমপক্ষে ২৫৪ জন নিহত ও এক হাজার ২০০’র বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
লেবাননে ইসরায়েলের এই হামলার জেরে যুদ্ধবিরতি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটি বলেছে, লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখে ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করতে থাকলে তারা এ থেকে বেরিয়ে যাবে। গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে। এতে সমর্থন জানায় ইসরায়েল। তবে তারা জানিয়ে দেয়, এই যুদ্ধবিরতি ইরানে কার্যকর হবে, লেবাননে নয়। খবর বিডিনিউজের।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল আবারও বন্ধ হয়ে গেছে বলে বিভিন্ন ইরানি সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলাকে এই জাহাজ চলাচল বন্ধের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে তারা। এর আগে জাহাজ ট্র্যাকিং সংস্থা মেরিন ট্রাফিক জানায়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে ‘জাহাজ চলাচলের প্রাথমিক লক্ষণ’ দেখা যাচ্ছিল।
যদিও যুদ্ধবিরতি আলোচনায় সহযোগিতা করা ইরান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী–দুইজনই বলেছিলেন, এই চুক্তির আওতায় লেবাননও রয়েছে। তবে এই দাবি অস্বীকার করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
ইসরায়েলের এমন একপাক্ষিক অবস্থানের পরও লেবাননের ইরান–সমর্থিত হিজবুল্লাহ গোষ্ঠী লড়াইয়ে সাময়িক বিরতি দিয়েছিল। হিজবুল্লাহ ইরান–যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির অংশ হিসাবে বুধবার ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল এবং লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলা বন্ধ রাখে। হিজবুল্লাহর এক আইনপ্রণেতা বলেন, ইসরায়েলকেও যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে হবে নতুবা তাদের পতন ঘটবে। তবে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে হামলার নির্দেশ দেয়।
দক্ষিণাঞ্চলের সিদোন এলাকায় গতকাল ভোরে আকাশপথে ইসরায়েলি বাহিনীর একাধিক বিমান হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এরপর ইসরায়েলের সেনাবাহিনী একইদিনে লেবানন জুড়ে গতমাসের পর সবচেয়ে বড় সমন্বিত হামলা চালানোর কথা জানায়। বলা হয়, ৫০টি জঙ্গি বিমান ১০ মিনিটের মধ্যে ১০০টি নিশানায় ১৬০টি বোমা ফেলেছে। ইসরায়েল এই নতুন হামলার কোডনাম দিয়েছে ‘এটারনাল ডার্কনেস’। এর মধ্যে অনেক হামলা এমন সব স্থানে চালানো হয়েছে, যেসব এলাকা হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়, বরং বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকা বলে মনে করা হয়। এসব হামলায় কয়েক ডজন মানুষ নিহত এবং শত শত মানুষ আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়। লেবাননের রেড ক্রস জানিয়েছে, তাদের ১০০টি অ্যাম্বুলেন্স হামলা বিধ্বস্ত এলাকাগুলো থেকে আহতদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছে।
লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাকান নাসেরেদ্দিন আল–জাজিরাকে বলেন, বৈরুত ও অন্যান্য এলাকায় ইসরায়েলের বিমান হামলার পর হাসপাতালগুলোতে নিহত ও আহতদের ভিড়ে নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গত ২ মার্চের পর লেবাননে বুধবারেই ইসরায়েল সবচেয়ে বড় বিমান হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলের দিকে হিজবুল্লাহও এরই মধ্যে রকেট ছুড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।














