লিটনের ব্যাটে বিসিএলের ফাইনালে নর্থ জোন

স্পোর্টস ডেস্ক | শুক্রবার , ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ১২:০০ অপরাহ্ণ

টানা দুই ম্যাচ জিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের বিসিএল ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বিসিবি নর্থ জোন। গ্রুপ পর্বে এখনও একটি ম্যাচ বাকি থাকলেও দারুণ রানরেটের সুবাদে আগেভাগেই ফাইনালের টিকিট কেটে ফেলেছে নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয়দের নিয়ে গড়া দলটি। বৃহস্পতিবার আগে ব্যাট করে সাউথ জোন তোলে ১৪৪ রান। জবাবে ৪ উইকেট হারিয়ে সহজেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে নর্থ জোন। ফাইনাল নিশ্চিতের দিনে স্বস্তির খবর লিটনের রানে ফেরা। তিনি এদিন খেলেন দলের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। কিছুটা ধীরগতিতে খেললেও তার ৫৫ রানের ওপর ভর করে ২৫.৪ ওভারেই জয় নিশ্চিত করে নর্থ জোন। টস জিতে সাউথ জোনকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় নর্থ জোন। শুরু থেকেই শরিফুল ইসলাম, মুকিদুল ইসলাম ও নাহিদ রানা চাপে রাখেন প্রতিপক্ষকে। তাদের দারুণ বোলিংয়ে ৩০.৫ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ১৪৪ রানে থামে সাউথ জোন। দলের হয়ে একাই লড়েছেন মোহাম্মদ মিঠুন। তিনি করেন ৫৫ রান। তার বাইরে কেবল দুই ব্যাটার দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পেরেছেন। রবিউল হক ২২ বলে করেন ২৯ রান। নুরুল হাসান সোহান ২৩ বলে করেন ২৪ রান। টপ অর্ডার ব্যাটার সৌম্য রান করতে ব্যর্থ হন। ৮ বলে করেন ৯ রান। নর্থের বোলারদের মধ্যে স্পিনার মেহরাব হোসেন ১০ রান খরচায় নেন ৩ উইকেট। নাহিদ রানা ৩৭ রানে নেন ৩ উইকেট। শরিফুল ও মুকিদুল নেন দুটি করে উইকেট। বোলারদের পারফরম্যান্সের পর ব্যাটাররাও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখেন। ১৪৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে বিপদে পড়ে নর্থ জোন। পাওয়ার প্লেতেই ৩৭ রানে হারায় ৩ উইকেট। চতুর্থ উইকেটে লিটন ও তাওহীদ হৃদয় গড়েন ৮০ রানের জুটি। ৪৬ বলে ৩৩ রান করে তাওহীদ আউট হলে ভাঙে সেই জুটি। তবে লিটন ছিলেন অপরাজিত। ৬৫ বলে ৬টি চারে ৫৫ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার। আকবর আলী করেন ১৯ রান। অধিনায়ক শান্ত রানের খাতা খুলতে পারেননি। সাউথ জোনের অধিনায়ক নুরুল হাসান আটজন বোলার ব্যবহার করেও সাফল্য পাননি। কেবল মোস্তাফিজুর রহমান ছিলেন কার্যকর। ৫ ওভারে ২৩ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। এছাড়া রবিউল হক নেন একটি উইকেট।

এদিকে অন্য ম্যাচে ইস্ট জোনকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে সেন্ট্রাল জোন। ২৩৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৪৫.৩ ওভারেই জয় নিশ্চিত করে তারা। প্রথমে ব্যাট করে ইস্ট জোন নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৩৭ রান তোলে। দলের পক্ষে ৫১ বলে সর্বোচ্চ ৪৫ রান করেন জাকির হাসান। ইয়াসির আলি চৌধুরী করেন ৩৭, মুমিনুল হক ৩৪ এবং পারভেজ হোসেন ইমন যোগ করেন ২৭ রান। শেষ দিকে নাঈম হাসান ৪৭ বলে ২৬ রানে অপরাজিত থাকেন। অতিরিক্ত থেকে আসে ৯ রান। সেন্ট্রাল জোনের বোলারদের মধ্যে রাকিবুল হাসান ৩ উইকেট নিয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখেন ইস্ট জোনের মাঝের সারি। এছাড়া রিপন মন্ডল ও তাসকিন আহমেদও গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এনে দেন। তারা উভয়ই ২ উইকেট পান।জবাবে ব্যাট করতে নেমে সেন্ট্রাল জোন শুরুতে কিছুটা ধাক্কা খেলেও পরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। ওপেনার মোহাম্মদ নাইম খেলেন ৯৮ বলে ৮৩ রানের ধৈর্যশীল ইনিংস, যা জয়ের ভিত গড়ে দেয়। তার ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ২টি ছক্কা। মাঝে মাহফিজুল ইসলাম ২৯ ও আরিফুল ইসলাম ২১ রান করে অবদান রাখেন। তবে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন আবু হায়দার রনি। তিনি মাত্র ৪২ বলে ৬৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ৬টি চার ও ৪টি ছক্কা। শেষ দিকে মোসাদ্দেক হোসেন ১১ বলে ২০ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। ইস্ট জোনের হয়ে নাঈম হাসান ২ উইকেট পান। নাসুম আহমেদ ১০ ওভারে ৪০ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন। তবে বাকি বোলাররা রান আটকাতে পারেননি। শামীম হোসেন ও মুশফিক হাসান একটি করে উইকেট পান। এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলে গুরুত্বপূর্ণ দুটি পয়েন্ট যোগ করল সেন্ট্রাল জোন, অন্যদিকে, ২৩৭ রান করেও হতাশ হতে হলো ইস্ট জোনকে। তাদের অবস্থান পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসিসিএস ট্যালেন্ট কাপ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের গ্রুপিং সম্পন্ন
পরবর্তী নিবন্ধওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা