লারিজানিকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের, অ্যাকাউন্টে ‘রহস্যময়’ পোস্ট

আজাদী ডেস্ক | বুধবার , ১৮ মার্চ, ২০২৬ at ৬:১০ পূর্বাহ্ণ

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানি এবং ইরানের বাসিজ বাহিনীর কমান্ডার গোলামরেজা সোলাইমানিকে লক্ষ্য করে ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে তেল আবিব। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে পৃথক বিবৃতিতে এ দাবি করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এসব দাবির বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেয়নি। এর মধ্যেই লারিজানির এন্ড অ্যাকাউন্ট থেকে একটি হাতে লেখা বার্তা প্রকাশিত হওয়ায় বিষয়টি ঘিরে নতুন রহস্য তৈরি হয়েছে।

বিবিসি ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা যায়, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ দাবি করেছেনতেহরানে রাতভর চালানো এক ‘লক্ষ্যভিত্তিক হামলায়’ আলি লারিজানি নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, বাসিজ ইউনিটের কমান্ডার গোলামরেজা সোলাইমানিও পৃথক এক হামলায় নিহত হয়েছেন। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে এখন পর্যন্ত লারিজানি বা সোলাইমানির মৃত্যুর বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তেহরানের পক্ষ থেকে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

লারিজানির অ্যাকাউন্টের পোস্ট : ইসরায়েলের দাবির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লারিজানির অফিসিয়াল এঙ অ্যাকাউন্টে একটি হাতে লেখা বার্তার ছবি প্রকাশিত হয়। পোস্টটি ইরানের নৌবাহিনীর নিহত সদস্যদের স্মরণে লেখা বলে জানানো হয়েছে। বার্তায় শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলা হয়েছে, তাদের ত্যাগ ইরানের সশস্ত্র বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করবে এবং তাদের স্মৃতি জাতির হৃদয়ে অমর থাকবে। এই পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্ন উঠেছে। লারিজানি জীবিত রয়েছেন কিনা, নাকি অ্যাকাউন্টটি পরিচালনা করছে অন্য কেউ। তেহরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ফলে ইসরায়েলের দাবি এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত বার্তার মধ্যকার এই অস্পষ্টতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

আলি লারিজানি ইরানের ক্ষমতাকাঠামোর ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী ও তুলনামূলকভাবে বাস্তববাদী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। তিনি বর্তমানে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ১৯৫৮ সালে ইরাকের নাজাফে জন্ম নেওয়া লারিজানি একটি প্রভাবশালী ধর্মীয় পরিবারে বড় হন। উচ্চশিক্ষায় তিনি গণিত ও কম্পিউটার বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরে জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্টের দর্শন নিয়ে গবেষণা করে ডক্টরেট ডিগ্রি নেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর তিনি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরে (আইআরজিসি) যোগ দেন। পরবর্তী সময়ে তিনি সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। সংস্কৃতিমন্ত্রী থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় সমপ্রচার সংস্থা আইআরআইবির প্রধান হিসেবেও কাজ করেন। ২০০৫ সালে তিনি সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি হন এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় নেতৃত্ব দেন। পরে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে টানা তিন মেয়াদে পার্লামেন্টের স্পিকার ছিলেন। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি অনুমোদনে তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। ২০২৫ সালের আগস্টে তিনি পুনরায় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সেক্রেটারি পদে ফিরে আসেন এবং সামপ্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন।

অপরদিকে গোলামরেজা সোলাইমানি ১৯৬৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং তরুণ বয়সেই আইআরজিসিতে যোগ দেন। ইরানইরাক যুদ্ধের সময় তিনি সামরিক দায়িত্ব পালন করেন এবং ধীরে ধীরে পদোন্নতি পেয়ে বিভিন্ন ডিভিশনের নেতৃত্ব দেন। ২০১৯ সাল থেকে তিনি বাসিজ বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। আইআরজিসির অধীন এই আধাসামরিক স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর সদস্যসংখ্যা কয়েক লাখ। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বাসিজের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত। সোলাইমানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক পশ্চিমা দেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। ইরানের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত এই কমান্ডার দেশটির নিরাপত্তা কাঠামোয় প্রভাবশালী অবস্থানে ছিলেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসেমাই-চিনির বাজারেও ব্যস্ততা
পরবর্তী নিবন্ধইরান ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনে মতভেদ, কাউন্টার টেরোরিজম প্রধানের পদত্যাগ