যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের গ্রাফিতি টাওয়ার্স নামে পরিচিত এক দেউলিয়া প্রকল্প ৪৭০ মিলিয়ন ডলারে অধিগ্রহণ করতে যাচ্ছে কেপিসি গ্রুপ এবং আগের ঠিকাদার লেন্ডলিজের যৌথ উদ্যোগ (জেভি)। খবর বিডিনিউজের।
সিবিএস নিউজ লিখেছে, ২০২৪ সালে দুই ডজনেরও বেশি তলার গ্রাফিতি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ওশানওয়াইড প্লাজা নামে পরিচিত এই পরিত্যক্ত উচ্চ–অট্টালিকা প্রকল্পটি আলোচনায় আসে। দেউলিয়া কার্যক্রম চলাকালে সোমবার নতুন ক্রেতা হিসেবে সামনে এসেছে কেপিসি গ্রুপ, যার মালিক কালী প্রদীপ চৌধুরী। ডেভেলপমেন্ট ফার্মটি প্রকল্পের মূল ঠিকাদার লেন্ডলিজের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা ফেডারেল দেউলিয়া আদালতে ৪৭০ মিলিয়ন ডলারের প্রাথমিক ক্রয়চুক্তি দাখিল করেছে। আগামী ৯ এপ্রিলের মধ্যে এর চেয়ে বেশি দরের প্রস্তাব না এলে আদালত এ চুক্তি অনুমোদন করতে পারে। চৌধুরীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা এমন একটি রূপান্তরমূলক বিনিয়োগ নিয়ে এগোতে পেরে উচ্ছ্বসিত, যা ডাউনটাউন লস অ্যাঞ্জেলেসের গুরুত্বপূর্ণ অংশকে পুনরুজ্জীবিত করার পথ তৈরি করবে। ডাউনটাউন পুনরুদ্ধারের প্রশ্নে এই প্রকল্পটি সত্যিকার অর্থে একটি মাইলফলক হবে এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক এলাকা হচ্ছে এই ডাউনটাউন লস অ্যাঞ্জেলেস। সেখানে তিন টাওয়ারের কমপ্লেক্সে আবাসিক ও খুচরা বাণিজ্যিক স্থান হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল, যা ক্রিপ্টো ডটকম অ্যারেনা এবং লস অ্যাঞ্জেলেস কনভেনশন সেন্টারের কাছে অবস্থিত। ব্লুমবার্গ লিখেছে, তিনটি টাওয়ারের মধ্যে একটি ৫৫ তলা, দুটি ৪২ তলা টাওয়ার, একটি ১১ তলা হোটেল এবং একটি বিশাল ইলেকট্রনিক বিলবোর্ড প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ১.২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে এ প্রকল্পের নির্মাণকাজ ৬০ শতাংশ সম্পন্ন হওয়ার পর ২০১৮ সালে কাজ বন্ধ হয়ে যায়, কারণ চীনভিত্তিক ডেভেলপারের অর্থ শেষ হয়। সিবিএস নিউজ লিখেছে, অসংখ্য গ্রাফিতির পাশাপাশি এই টাওয়ারগুলো সোশাল মিডিয়ার নানা দুঃসাহসিক কর্মকাণ্ডের স্থানেও পরিণত হয়্তযেমন ৪৯ তলার উচ্চতম টাওয়ারের ছাদ থেকে বেস জাম্পিং এবং দুটি টাওয়ারের মাঝখানে টাইটরোপে হাঁটা। ঘন ঘন অনুপ্রবেশের ঘটনায় ২০২৪ সালের শুরুতে ডজনখানেক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার হয়। ওই এলাকায় অবৈধ কার্যক্রম মোকাবিলায় লস অ্যাঞ্জেলেস সিটি কর্তৃপক্ষ ১২তম স্ট্রিট থেকে ফিগুয়েরোয়া স্ট্রিট ও ফ্লাওয়ার স্ট্রিটের মধ্যবর্তী এলাকায় বেড়া স্থাপনের জন্য ১.১ মিলিয়ন ডলার অনুমোদন করেছিল। ভাঙচুর বেড়ে যাওয়ায় এলাকায় সাময়িকভাবে পুলিশি নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। গত সপ্তাহে ওই প্রকল্পের বিক্রির সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দেয় আদালত। এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান মেয়র ক্যারেন ব্যাসসহ নগরের নেতারা।












