সীতাকুণ্ডে একটি তেলবাহী ট্যাংক লরি থেকে নুরুল ইসলাম শাহীন (২২) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে হাইওয়ে পুলিশ। নিহত শাহীন উক্ত লরি চালকের সহকারী বলে জানা গেছে। গত শনিবার রাত ১০টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে উপজেলার বটতল এলাকায় সীতাকুণ্ড ফিলিং স্টেশনে দাঁড়ানো একটি লরি থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত শাহীন ফেনী সোনাগাজী থানার মহেশর গ্রামের বদিয়াল জামালের ছেলে। এ সময় গাড়িটি আটক করা হয়। গতকাল রোববার দুপুরে এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড থানায় চালকের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করেছেন শাহীনের বাবা বদিয়াল জামান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ফিলিং স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা তেলের ট্যাংক লরির ভেতর একটি লাশ আছে জানতে পেরে থানা ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লরিটি তল্লাশি করে। সেখানে কেবিনের ভেতর থেকে ওই লরি চালকের সহকারী নুরুল ইসলাম শাহীনের কম্বল মোড়ানো রক্তাক্ত লাশ পাওয়া যায়। এ সময় পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে ওই লরির পেছনের চাকায় শাহীনের মাথার মগজ ও শরীরের বিভিন্ন থেতলে যাওয়া অংশ দেখতে পায়। এতে করে শাহীন গাড়িটির নিচে পিষ্ট হয়ে মারা গেছে বলে নিশ্চিত হয়। ফলে লাশটি হাইওয়ে পুলিশকে হস্তান্তর করে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেয়া হয়। নিহত শাহীনের বাবা বদিয়াল জামান মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, শনিবার রাত ৮টার দিকে লরি চালক বাবুল (৩৫) তাদেরকে ফোন করে ছেলে শাহীন অসতর্কতাবশত তার লরির নিচে পড়ে মারা গেছে বলে জানান। তবে কোথায়? কীভাবে? এ ঘটনা ঘটেছে জানতে চাইলে অসংলগ্ন জবাব দিতে থাকে। এ সময় সে লাশটি ফেনীতে শাহীনের বাড়িতে নিয়ে আসতে চায় এবং স্থানীয় কয়েকজনের মধ্যস্থতায় ঘটনাটি মীমাংসার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু তাতে রাজি না হয়ে শাহীনের পরিবার লাশ নিকটবর্তী থানায় নিয়ে যেতে বলেন। কিন্তু চালক বাবুল তা না করে ফিলিং স্টেশনে গাড়িতে লাশ ফেলে পালিয়ে যায়। এছাড়া শাহীনের শরীরে আঘাতের ধরন দেখেও সন্দেহ সৃৃষ্টি হচ্ছে। তাই তিনি এ ঘটনার জন্য চালক বাবুলকে দায়ী করেন। তিনি দাবি করেন, লরি দিয়ে তার ছেলেকে গুরুতর আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে।
সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) সুমন বণিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে লরি চাপা দিয়ে শাহীনকে হত্যা করা হতে পারে এমন ধারণা করে নিহতের বাবা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনাটি তদন্ত করা হবে।












