রোমাঞ্চকর টাইব্রেকারে শিরোপা জিতলো ব্রাদার্স ইউনিয়ন

মেয়র চ্যালেঞ্জ কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট

ক্রীড়া প্রতিবেদক | রবিবার , ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ at ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ

সিজেকেএস ক্লাব সমিতি আয়োজিত মেয়র চ্যালেঞ্জ কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতেছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাব। গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনাল খেলায় রোমাঞ্চকর টাইব্রেকারে ৩২ গোলে তারা চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে পরাজিত করে। খেলা নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্যভাবে শেষ হয়। এরপর সরাসরি টাইব্রেকারে প্রথম পাঁচ শটে দু’দলের খেলা ২২ গোলে ড্র থাকে। পরে সাডেন ডেথে মোহামেডান গোল পেতে ব্যর্থ হলেও ব্রাদার্স গোল করে শিরোপা জিতে নেয়। গতকালের ফাইনাল খেলার নির্ধারিত সময়ে কোন দলই যুতসই আক্রমণ রচনা করতে পারেনি। মাঝে মাঝে হাতে গনা কিছু আক্রমণ হলেও তা থেকে দু’দলের কারোরই গোল পাওয়া হয়ে উঠেনি। খেলার ৮ মিনিটে প্রথম আক্রমন করে ব্রাদার্স। দলের দিদার রাউট উইং থেকে ফি কিকে বল বক্সে ফেলেন। সেখানে ফাঁকায় থাকা আমিরুজ্জামান সায়মনের হেড সাইডবারে লেগে প্রতিহত হয়। চার মিনিট বাদে মোহামেডানের মেজবাহউদ্দিন বক্সের বাইরে থেকে ফ্রি কিক নেন। ক্রসবার ঘেঁষে তা বাইরে চলে যায়। গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধের খেলার শেষ দিকটা ছিল উত্তেজনাময়। এর আগে খেলার ৬৮ এবং ৭১ মিনিটে দুটো সুযোগ হারায় মোহামেডান। প্রথমবার নকি কয়েকজনকে কাটিয়ে নিয়ে শট করেন গোলমুখে। বল বারের উপর দিয়ে চলে যায়। পরেরবার সাকিব একাই বল নিয়ে এগিয়ে যান। কিন্তু বল প্রতিহত করেন ব্রাদার্স কিপার সাদ্দাম। একটি সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট হয়। ৭৮ মিনিটে ব্রাদার্সও পায় দারুন সুযোগ। রাইট উইং থেকে শাহিন আলম সুন্দর ক্রস করেন বক্সে। সেখানে ছিলেন বদলি জোনায়েদ হোসেন। তিনি অনেকটা শুয়ে বলটি হেড করেন। যা চলে যায় সাইডবার ঘেঁষে। পা দিয়ে চেষ্টা করলেই হয়তো গোল পেতেন তিনি। এতে করে বড় একটি সুযোগ নষ্ট হয় ব্রাদার্সের।

৮৩ মিনিটে মোহামেডানের সাকিবের শট ব্রাদার্স কিপার ধরে নেয়। ইনজুরি টাইমে খেলায় দেখা দেয় দারুন উত্তেজনা। এসময় গোলমুখে যেতে থাকা ব্রাদার্সের শাহিন আলমের সুন্দর একটি সাইডভলি মোহামেডান ডিফেন্সের গায়ে লেগে প্রতিহত হয়। একটু পরেই একটি ফাউলকে কেন্দ্র করে খেলায় তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিপক্ষ খেলোয়াড়কে লাথি মারায় রেফারী ব্রাদার্সের কাউছার আলী রাব্বিকে লাল কার্ড দেখান। এ কার্ডকে কেন্দ্র করে ব্রাদার্সের খেলোয়াড়রা ঝাঁপিয়ে পড়ে রেফারী আনিসুর রহমান সাগরের উপর। তিনি সাথে সাথেই ব্রাদার্স অধিনায়ক আলাউদ্দিনকেও লাল কার্ড দেখান। এর পরপরই ব্রাদার্স ইউনিয়নের খেলোয়াড়কর্মকর্তারা তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পড়েন। ১০ মিনিট অচলাবস্থা চলার পর আয়োজকদের প্রচেষ্টায় ব্রাদার্স আবার মাঠে ফিরে আসে। ৯ জন নিয়ে তারা পুনরায় খেলতে নামে। তবে বাকি কয়েক মিনিটে আর কোন গোল হয়নি। খেলার নিস্পত্তি করতে এবার টাইব্রেকারে নামে দু’দল। রোমাঞ্চকর এই টাইব্রেকারের প্রথম ও চতুর্থ শটে মোহামেডানের পক্ষে মোহাম্মদ আশিক এবং খোরশেদ আলম গোল করেন। তাদের তাওহীদুল আলম এবং নকি চন্দ্র দাসের শট ব্রাদার্স কিপার সাদ্দাম হোসেন প্রতিহত করে। শাহেদুল আলমের শট ক্রসবারের উপর দিয়ে চলে যায়। অন্যদিকে ব্রাদার্স ইউনিয়নের পক্ষে তৃতীয় ও পঞ্চম শটে যথাক্রমে শাহিন আলম এবং মোবারক হোসেন সাইমন গোল করেন। নাসির উদ্দিন, আমিরুজ্জামান সায়মন, এবং জোনায়েদ হোসেনের শট মোহামেডান কিপার শওকত হোসেন হাসান প্রতিহত করেন। ২২ গোলে টাইব্রেকারের পাঁচ শটের নিস্পত্তি হলে সাডেন ডেথে মোহামেডানের অধিনায়ক মোহাম্মদ আকতারুজ্জামান শট নেন। তার শট ব্রাদার্স কিপার সাদ্দাম হোসেন প্রতিহত করেন। অন্যদিকে ব্রাদার্সের রাকিব হোসেনের শট জালে প্রবেশ করলে শিরোপা জয়ের আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠে দলের খেলোয়াড়কর্মকর্তা এবং সমর্থকরা। ফাইনাল খেলায় ম্যান অব দা ম্যাচ নির্বাচিত হন ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের গোলকিপার মো. সাদ্দাম হোসেন। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের খেলোয়াড় মো. আমিরুজ্জামান সায়মন। টুর্নামেন্টে তিনি মোট ৬টি গোল করেছেন। ম্যান অব দা টুর্নামেন্ট নির্বাচিত হন চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্র্টিং ক্লাবের গোলকিপার মো. শওকত হোসেন হাসান।

পুরো টুর্নামেন্টেই তিনি ভালো খেলেছেন এবং ফাইনালেও তিনটি শট রুখে দিয়েছেন। ফাইনাল খেলা শেষে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ের উপদেষ্টা ফারুকআজম, বীর প্রতীক। সিজেকেএস ক্লাব সমিতির সভাপতি এ্যাড. শাহীন আফতাবুর রেজা চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আমিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখওয়াত জামিল সৈকত, বিসিবি পরিচালক আহসান ইকবাল চৌধুরী।

সিজেকেএস ক্লাব সমিতির অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক আ..ম ওয়াহিদ দুলালের সঞ্চালনায় এসময় উপস্থিত ছিলেন ক্লাব সমিতির উপদেষ্টা মো. হাফিজুর রহমান, চট্টগ্রাম জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম শহীদুল ইসলাম, সিজেকেএস ক্লাব সমিতির সহ সভাপতি নজরুল ইসলাম লেদু, মোহাং শাহজাহান, লোকমান হাকিম মোহাম্মদ ইব্রাহীম, মো. মাহবুব আলম, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাহাব উদ্দিন শামীম, যুগ্ম সম্পাদক শাহাবুদ্দীন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, কোষাধ্যক্ষ আবদুল হান্নান আকবর, সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদ আহমদ, সদস্য আলী আকবর, আবু সামা বিপ্লব, আলী হাসান রাজু, মো. আবু বকর সিদ্দিক, সরওয়ার আলম চৌধুরী মনি, আসিফ আহমেদ, অংশগ্রহণকারী ক্লাবসমূহের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও কর্মকর্তাবৃন্দ, সিজেকেএস ও সিডিএফএর কাউন্সিলরবৃন্দ প্রমুখ। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথিসহ অন্যান্যরা বিজয়ী ও বিজিত খেলোয়াড়দের মাঝে পুরস্কার হিসেবে ট্রফি, ক্রেস্ট এবং নগদ অর্থ তুলে দেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধঅভিযুক্ত ৯ ক্রিকেটারকে বাদ দিয়ে বিপিএল নিলামের চূড়ান্ত তালিকা
পরবর্তী নিবন্ধবিপিএলের ১২তম আসরের নিলাম আজ