সংবিধান সংশোধনের কাজ এগিয়ে নিতে ১৫ থেকে ২০ সদস্যের একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি খুব শিগগির গঠন করার কথা বলেছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, সরকারি দল, বিরোধী দল, অন্যান্য দল এবং স্বতন্ত্র সদস্যদেরও কমিটিতে রাখার চিন্তা আছে। এ বিষয়ে তার দেওয়া সময়সীমা অনুযায়ী, আগামী রোববারের মধ্যেই কমিটি গঠনের অগ্রগতি দেখা যেতে পারে।
গতকাল বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংসদ কমিটির তৃতীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ এসব কথা বলেন। চিফ হুইপ বলেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য একটা কমিটি হবে। সেখানে সব দলের প্রতিনিধি রাখতে চাই আনুপাতিক হারে। স্বতন্ত্র থেকেও আমরা রাখতে চাই। সকলের মতামত নিয়ে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি কমিটি অচিরেই করব। আগামী রোববারের মধ্যে আপনারা দেখবেন হয়তোৃ খুব শিগগিরই এটা করবো। খবর বিডিনিউজের।
কত সদস্যের কমিটি হতে পারে, সে প্রশ্নে তিনি বলেন, এটা একটা উদ্ভূত পরিস্থিতি।
এখানে সরকারি দলের যারা আইন বিশেষজ্ঞ আছেন, তাদের রাখতে চাই। বিরোধী দলের যারা আইন বিশেষজ্ঞ আছেন, তাদের রাখতে চায়। আইন বিশেষজ্ঞ না থাকলে অন্যান্য দলের প্রতিনিধি রাখতে চাই। সবমিলিয়ে ২০ বা ১৮ বা ১৫ সদস্যের কমিটি করতে চাই। এটা নির্দিষ্ট না।
সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্য সম্পর্কে চিফ হুইপ বলেন, সংবিধান সংশোধনকে এমন পর্যায়ে নিতে চাই, যাতে বারবার আমাদের কাঁচি চালাতে না হয়।
বিরোধী দল বিশেষ কমিটিতে না থাকার কথা বলছে। এর প্রতিক্রিয়ায় নূরুল ইসলাম মনি বলেন, তাদের এ অবস্থান সঠিক হবে না। আজ বা কাল হোক সংবিধান সংশোধন আমাদের করতেই হবে। সংবিধান সংশোধন কমিটিতে তাদের আমরা চাই। এক হাতে যেমন হ্যান্ডশেক হয় না, কাঁচির একটা অংশ দিয়ে যেমন চুল কাটা যাবে না, দুটোই লাগবে। আমরা সেটাই চাই ওনারা থাকুক। তারা কমিটিতে থাকবেন বলে আমরা আশা করি। তার মতে, সংবিধান সংশোধন ছাড়া কোনো রাস্তা নেই। তিনি বলেন, জুলাই সনদ অনুযায়ী এটা করা উচিত। এটা আমরা দেশের জন্যই করবো। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বা আমার কোনো বিশেষ সুবিধা হবে? ওনার বিশেষ কোনো ক্ষতি হবে? যেটা দেশের জনগণের কল্যাণে হবে, তাতে দ্বিমত করার কিছু আছে বলে মনে করি না।
সংসদ কমিটির বৈঠকের তথ্য দিয়ে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে সংসদ অধিবেশন কক্ষে এমন সাউন্ড সিস্টেম বসানোর সুপারিশ করা হয়েছে, যা শব্দ তৈরি হওয়ার এক সেকেন্ড বা তার কম সময়ের মধ্যে তা শোষণ করতে পারবে এবং প্রতিধ্বনি থাকবে না। অধিবেশন কক্ষে ইন্টারনেটের ধীরগতি দূর করার ব্যবস্থাও নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া সংসদ এলাকায় পর্যাপ্ত সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং আগামী ১০ তারিখের মধ্যে বাসা প্রস্তুত করে সংসদ সদস্যদের বরাদ্দ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।













