রোজার মাসে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে আইনি ব্যবস্থা : মেয়র

আজাদী প্রতিবেদন | বৃহস্পতিবার , ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৭:২২ পূর্বাহ্ণ

রোজার মাসে যে সব ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করবে, অযৌক্তিক কারণে দাম বাড়াবে এবং ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, যারা সিন্ডিকেট করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি করবে, তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন চলবে। আমরা নিশ্চিত করতে চাই, কেউ যেন অতিরিক্ত দামে বিক্রি করতে না পারে। কোনো মজুতদার, সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী যেন সুযোগ নিয়ে দাম বাড়াতে না পারে। সে জন্য আমাদের ম্যাজিস্ট্রেট মনিটরিংয়ে আছে। কোনো সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী মজুতদারি করে যদি জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির ষড়যন্ত্র করে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নিব। তিনি গতকাল বুধবার দুপুরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ, মূল্য পরিস্থিতি ও বাজার ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে নগরের খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজার পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন।

এসময় মেয়র বাজারের বিভিন্ন আড়ত ও পাইকারি প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখেন এবং চাল, ডাল, চিনি, তেল, ছোলা, খেজুরসহ রমজানকেন্দ্রিক নিত্যপণ্যের মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন। তিনি ব্যবসায়ীদের পণ্যের দামের তালিকা দৃশ্যমান স্থানে রাখার নির্দেশনা দেন। এসময় কয়েকজন ব্যবসায়ি পণ্যমূল্যের তালিকা টাঙ্গিয়ে না রাখায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশনা দেন। এসময় তিনি বলেন, মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা ‘আইন লক্সঘনের শামিল’। পরে অবশ্য সতর্ক করে কোনো জরিমানা আরোপ করা হয়নি।

পরিদর্শন শেষে মেয়র খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের সঙ্গে সংগঠনের কার্যালয়ে মত বিনিময় করেন মেয়র। এসময় রোজার মাসে জনভোগান্তি হ্রাসে পণ্যের দাম না বাড়াতে ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করেন। বাজারে স্বচ্ছতা ও শৃক্সখলা বজায় রাখার আহ্বান জানান মেয়র। পরিদর্শন শেষে ডা. শাহাদাত সাংবাদিকদের বলেন, সারা পৃথিবীতে মুসলিম দেশগুলোতে ব্যবসায়ীরা রমজান মাসে ভর্তুকি দিয়ে পণ্য বিক্রি করেন। অনেক সময় বিনামূল্যে সৌদি আরবসহ বেশ কিছু মুসলিম দেশে আমরা দেখি রোজাদারদের বিনামূল্যে খাবারসহ বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করেন ব্যবসায়ীরা। এখানেও আহ্বান থাকবে, এই নৈতিকতায় রোজাদারদের সুবিধার্থে ব্যবসায়ীরা অনেক কিছু করতে পারেন। মেয়র বলেন, রোজার মাসে জনভোগান্তি হ্রাসে পণ্যের দাম না বাড়াতে ব্যবসায়ীদের অনুরোধ জানিয়েছি। কিছু অসঙ্গতি চোখে পড়েছে। এ বিষয়ে আমরা ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেছি। সতর্কতা মেনে সংশোধন না হলে তখন আমরা ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এসময় নগরবাসীর স্বার্থে নিয়মিত তদারকি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, বড় বড় যেসব বাজার যেমন কাজীর দেউড়ি, চকবাজার, বহদ্দারহাট বাজার, পাহাড়তলি বাজার এগুলো আমরা মনিটরিং করছি। এমনভাবে খুচরা বাজারে বিক্রি করা যাবে না যাতে করে দরের তারতম্য অনেক বেশি হয়। সবদিক বিবেচনা করেই আমরা কাজগুলো চালাচ্ছি। তিনি বলেন, পাইকারির সঙ্গে খুচরা বাজারের তারতম্য থাকতে হবে মিনিমাম। এটা ম্যাক্সিমাম যেন না হয়। মনিটরিং এর মাধ্যমে বাজার দর স্থিতিশীল রাখা আমাদের উদ্দেশ্য।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প
পরবর্তী নিবন্ধফটিকছড়িতে সার্জেন্টের উপর হামলা, ডাম্পার চালক গ্রেপ্তার