রেলের ভূমি দখলে ‘পরিকল্পিত’ আগুন, পুড়ল কয়েকশ চারাগাছ

দোহাজারী রেল স্টেশনের সামনে ঘটনা

মুহাম্মদ এরশাদ, চন্দনাইশ | বুধবার , ২১ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৬:২১ পূর্বাহ্ণ

দোহাজারীতে রেলের ভূমি দখলের জন্য ‘পরিকল্পিতভাবে’ দেয়া আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে চট্টগ্রামকক্সবাজার রেললাইনের দুপাশে রোপিত বিভিন্ন প্রজাতির কয়েকশ ফলদ, বনজ ও ওষুধি গাছের চারা। নবনির্মিত দোহাজারী রেল স্টেশনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। চারাগুলো আড়াই বছর আগে রেললাইনের পাশে রোপণ করা হয়েছিল। এর আগেও রেললাইনের দুপাশে বিভিন্ন অংশে গাছ পুড়ে গেছে। তবে এ ব্যাপারে গাছগুলো রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টদের কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা যাচ্ছে না। চন্দনাইশের দোহাজারী, সাতকানিয়ার কালিয়াইশ, কেউচিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে রেললাইনের দুপাশের বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে পোড়া গাছ অংশ দেখা যাচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে দোহাজারী রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দুর্বৃত্তের দেয়া আগুনে রেললাইনের পাশে কয়েকশ গাছের চারা পুড়ে গেছে। পোড়া গাছগুলো মরা পাতা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। প্রতি বছর এমন দৃশ্য দেখা যাচ্ছে নবনির্মিত এ রেললাইনের দুপাশে। রেললাইনের মাটিক্ষয় রোধে এবং স্থায়িত্ব বৃদ্ধির জন্য রোপণ করা গাছগুলো পুড়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে প্রবল বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে এই রেললাইনটির বিভিন্ন স্থানে মাটি সরে গিয়ে রেল চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

জানা যায়, চট্টগ্রামকক্সবাজার রেললাইনটি পর্যটন নগরী কক্সবাজারে যাতায়াতে দেশিবিদেশি পর্যটক ও সাধারণ যাত্রীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দিন দিন বাড়ছে এ লাইনে যাত্রীর সংখ্যাও। নিয়মিত ৪ জোড়া ট্রেন চলাচল করছে এ পথে। কিন্তু দেখভাল ও তদারকির অভাবে চট্টগ্রামকক্সবাজার রেললাইনটি ধীরে ধীরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। লাইনের দুপাশে গাছের চারাগুলো আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। এতে পরিবেশেরও মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। কিন্তু আগুন নেভাতে এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এগিয়ে আসছে না দায়িত্বরতরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, রেললাইনের পার্শ্ববর্তী অনেক লোকজন রয়েছে। যারা রেললাইনের পাশ দখল করে চাষাবাদ করার জন্য পরিষ্কারের নামে পরিকল্পিতভাবে শুকনো পাতা ও খড়কুটোতে আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে শুকনো পাতা ও খড়কুটোর সাথে চারা গাছ, কাঁচা ঘাস, লতাপাতা পুড়ে পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। পরবর্তীতে সেখানে চাষাবাদ করবে তারা। আগুন দিয়ে চারা গাছগুলো জ্বালিয়ে দেয়ার বিষয়টি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি পরিকল্পিত তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনগণ।

এ লাইনের তদারকিতে থাকা এনরাক এর ট্রিপ্লানটেশনের সুপারভাইজার সানাউল্লাহ বলেন, রেললাইনের পাশে আগুন লাগিয়ে দিয়ে গাছ জ্বালিয়ে দেয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। এ ব্যাপারে তারা খোঁজখবর নিচ্ছেন।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তমা গ্রুপের দোহাজারী অফিসে দায়িত্বরত ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ হুমায়ুন জানান, তিনি হাঁটতে গিয়ে আগুনে রেললাইনের পাশে গাছগুলো পুড়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখেছেন এবং এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। বিষয়টি তারাও খতিয়ে দেখছেন।

দোহাজারী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার ইকবাল হোসেন চৌধুরী জানান, কে বা কারা রেলস্টেশনের সামনে রেললাইনের পাশে আগুন দিয়ে অসংখ্য গাছ পুড়ে দিয়েছে। গত বছরও দোহাজারী স্টেশনের পাশে কতিপয় লোকজন রেললাইনের পাশে আগুন ধরিয়ে দেয়ায় আমসহ বিপুল সংখ্যক বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বনজ গাছ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। চট্টগ্রামকঙবাজার রেললাইনটি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার এখনো রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেয়নি। ফলে এ লাইনটি তদারকির দায়িত্ব এখনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের হাতেই রয়েছে। তবুও এ ব্যাপারে স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা করা হচ্ছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসবার আগে ফাইনালে চট্টগ্রাম
পরবর্তী নিবন্ধঅযৌক্তিক চাপ মেনে ভারতে খেলবে না বাংলাদেশ : আসিফ নজরুল