রেইনবো নেশন বা বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের বাংলাদেশ গড়ার বার্তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে আসছেন বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছেন, যেখানে ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে সব মানুষ সমান মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে বসবাস করবে। রেইনবো নেশনের এই ধারণা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে আসছেন।
তিনি গতকাল শনিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জেএম সেন হলে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন। পরিদর্শনের পর তিনি ৫০০ সনাতনী নারীর হাতে পূজার উপহারসামগ্রী তুলে দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম–৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান।
দুর্গাপূজাকে নির্বিঘ্ন করতে গৃহিত কার্যক্রম তুলে ধরে মেয়র বলেন, নগরীতে পূজা উদযাপন সুন্দরভাবে শুরু হয়েছে এবং চলছে। এর মূলে রয়েছে পূজামণ্ডপের শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্নে যাতায়াত এবং জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আমি সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে বসে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং সেসব সিদ্ধান্তের আলোকে চসিকের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন। তিনি বলেন, নগরীর আন্দরকিল্লা, দেওয়ান বাজারসহ যেসব এলাকায় পূজামণ্ডপ আছে সেগুলোর শৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমাদের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে আছেন। পূজামণ্ডপ ও এর আশপাশের এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং দর্শনার্থীদের চলাচলে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে না দেওয়ার জন্য পরিচ্ছন্ন বিভাগ কাজ করছে।
তিনি জানান, মহানগরীর ১৬টি থানার অন্তর্গত ২৯৪টি পূজামণ্ডপকে মোট ১৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জেএম সেন হল পূজামণ্ডপকে পাঁচ লাখ টাকা, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পূজা উদযাপন পরিষদের জামালখানস্থ কুসুমকুমারী পূজামণ্ডপকে ১৫ লাখ টাকা এবং সিটি কর্পোরেশনের চারটি সেবক কলোনির হরিজন সম্প্রদায়ের জন্য প্রতিটি কলোনিতে ৫০ হাজার টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ৩৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ধর্মীয় উৎসব মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধন দৃঢ় করে। চট্টগ্রাম একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নগরী। এ নগরীতে সব ধর্মের মানুষ যেন নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে উদযাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। ধর্মীয় পরিচয় যার যার, কিন্তু নগরী সবার। তাই নগরীর উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
এ সময় সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ার যে লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রী নির্ধারণ করেছেন, তা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তার চট্টগ্রাম আগমন আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। প্রধানমন্ত্রীর এ আগমন সফল ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছি।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জী, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ, মহানগর বিএনপির সদস্য আনোয়ার হোসেন লিপু, চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তী, গিয়াস উদ্দিন ভূঁইয়া, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি রাজীব ধর তমাল, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক বিপ্লব সেন, কল্যাণ ফ্রন্টের যুগ্ম সম্পাদক বাবু দত্ত, কারা পরিদর্শক উজ্জ্বল বরণ বিশ্বাস, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সহ সভাপতি সৌরভ প্রিয় পাল, প্রশান্ত কুমার পান্ডে প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।












